• ই-পেপার

যোগদান করলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক

হঠাৎ নৌ-বন্দরে প্রতিমন্ত্রী রাজিব, চিনতে পারেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

বরিশাল অফিস
হঠাৎ নৌ-বন্দরে প্রতিমন্ত্রী রাজিব, চিনতে পারেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
সংগৃহীত ছবি

প্রটোকল ছাড়াই মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সাদা পাঞ্জাবি পরে বরিশাল নৌবন্দরে হাজির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি। তখনও অফিসে আসা শুরু করেনি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দু একজন যারা এসেছেন তারা চিনতে পারেনি প্রতিমন্ত্রীকে। কর্মচারীরা মনে করেছেন, হয়তো অফিসের কোনো কাজে এসেছেন তিনি। তবে নৌবন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ইমন অফিসে এসেই তাকে(মো. রাজিব আহসান)দেখে চমকে গেলেন। তিনি স্যার সম্মোধন করতেই অন্যরা বুঝলেন তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।  

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান গোপনে সোমবার রাতে এসেছেন বরিশালে। অবস্থান করেছেন বরিশাল সার্কিট হাউজে। 
তার মন্ত্রণালয়ের অধীন বরিশালে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীকে না জানিয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন।

নিজ মন্ত্রনালয়ের অধীনে থাকা দপ্তরে গিয়ে তিনি দেখেন, সরকারি কর্মচারী হিসেবে অফিসে শুধু তিনি নিজেই উপস্থিত হয়েছেন। অর্থাৎ বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অফিসের কোন কর্মকর্তা যথা সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়নি। 

আসাদুজ্জামান ইমন বলেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় তাদের না জানিয়ে হঠাৎ করেই অফিসে এসেছেন। এসে তিনি দুই একজন কর্মচারীকে উপস্থিত পাননি।

তবে এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সেল ফোনে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নিখোঁজের এক দিন পর পরিত্যক্ত ঘরের পাশে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ

পিরোজপুর প্রতিনিধি
নিখোঁজের এক দিন পর পরিত্যক্ত ঘরের পাশে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর নির্মল হালদার ওরফে নির্মল ওজা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিপেন হালদারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো নির্মল ওজা স্থানীয় কুড়িয়ানা বাজারে যান। রাত ৮টার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে রাতেই নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের ভাগিনা দিলীপ হালদার বলেন, ‘মামার সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল না। তিনি গলায় প্রায় দেড় ভরির দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন। তার কাছে কিছু নগদ টাকাও ছিল।’

নির্মলের সম্পর্কের ভাই ও প্রতিবেশী সমীরণ রায় জানান, এলাকায় নির্মল ‘ওজা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মানুষের প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই টাকা ধার দিতেন। ঘটনার দিনও তাঁর কাছে টাকা ছিল বলে পরিবারের ধারণা।

প্রতিবেশী অমল রায় বলেন, ‘নির্মল আমাদের বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করতেন। এক সপ্তাহ আগেও তিনি আমাকে ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। সোমবার রাতে শুনি তিনি নিখোঁজ, আর সকালে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাই।’

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে নিহতের গলায় কোনো স্বর্ণের লকেট পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তার কাছে মোবাইল ফোন বা টাকা-পয়সাও ছিল না।

নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

বারহাট্টায় ইয়াবা-গাড়িসহ আটক ২

বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
বারহাট্টায় ইয়াবা-গাড়িসহ আটক ২
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোণার বারহাট্টায় ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ছাড়া একটি পিকআপও জব্দ করা হয়। সোমবার রাতে বারহাট্টাবাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চম্পক দাম মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটকরা হলেন– শোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ন্দেরহাটি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে সোহেল মিয়া (২৮) ও নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৩০)।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভৈরব থেকে মোহনগঞ্জগামী একটি পণ্যবাহী পিক আপ ভ্যানে করে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বারহাট্টা থানা পুলিশ বারহাট্টা বাজারে চেকপোস্ট বসিয়ে পিক ভ্যানটি আটক করে। পরে তল্লাশির মাধ্যমে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও পিকআপ ভ্যানের চালকসহ দুই জনকে আটক করে। আটক আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কোরবানি

চামড়া সংরক্ষণে লবণ বিতরণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের উদ্যোগ সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
চামড়া সংরক্ষণে লবণ বিতরণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের উদ্যোগ সরকারের

ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে বিনা মূল্যে লবণ বিতরণ, বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চামড়াশিল্পের চলমান সংকট মোকাবেলা এবং মানসম্মত কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চামড়াশিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসংক্রান্ত টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য সরকারি অর্থায়নে সারা দেশে মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনা মূল্যে লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে কোরবানির চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে মাংস শ্রমিক ও মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের লক্ষ্য—চামড়া নষ্ট হওয়া কমিয়ে মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

গত বছর ৯ হাজার ৩৩০টি মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার মধ্যে ১১ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন লবণ ক্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। জেলা পর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়। ফলে প্রায় ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৩টি চামড়া সফলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ এবং অন্যান্য পশু প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এ বছর কোরবানির চাহিদা এক কোটির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক হিসাবে চামড়া সংরক্ষণে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে। গত বছর এ খাতে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ ব্যবহৃত হয়েছিল।

টাস্কফোর্স জানিয়েছে, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ পশুর হাট এবং স্থানীয় দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশের লবণ ডিলার ও মিল মালিকদের তালিকাও সরবরাহ করা হবে।

এ ছাড়া চামড়া সংগ্রহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী চামড়া আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের একটি খসড়া ডাটাবেজও প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, কোরবানির মৌসুমে চামড়া কেনা ও সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৫ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনঃতফসিল বা খেলাপি ঋণ থাকা চামড়া ব্যবসায়ীরাও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি অবস্থায় থেকেই নতুন মূলধনী ঋণ নিতে পারবেন। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে চলতি বছর চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যা কোনোভাবেই ২০২৫ সালের চেয়ে কম হতে পারবে না।

চামড়াশিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে বিসিক চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকায় ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পবিস-৩, আরইবি এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিইটিপিতে ডেডিকেটেড এক্সপ্রেস ফিডার লাইনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা, শিল্পনগরী ও সিইটিপিতে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা এবং সাভার গ্রিড থেকে বিশেষ লোড বরাদ্দের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।