পিতৃত্বের পরিচয় সংকটে আদালতে চলছে মামলা। সেই সময়ই চলে গেল হতভাগ্য শিশু সিজার। অভিযোগ রয়েছে, ওমান প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন বেগমের সঙ্গে তার আপন শ্বশুরের অনৈতিক সম্পর্কে এক মাস ১৫ দিন আগে এ নবজাতক ছেলেটির জন্ম হয়েছিল।
বুধবার (২০ মে) শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি গলাচিপা থানায় জানান শিশুটির মা শারমিন বেগম।
গলাচিপা থানার ওসি (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
গলাচিপা থানা পুলিশ ও শিশুর মা শারমিনের সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার প্রবাসী শামিম গাজীর স্ত্রী শারমিন বেগমের অনৈতিক সম্পর্কে সিজার নামের একমাস ১৫ দিন আগে এক ছেলের জন্ম হয়। গত ১৬ মে শিশুর মা শারমিন নিজে চিকিৎসার জন্য গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এসময় শিশুটি তার সঙ্গে ছিল। বুধবার সকালের দিকে শিশু সিজার অসুস্থ হলে তার মা তাকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, তিন বছর ধরে ওমানে অবস্থানরত এক প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন বেগমের সঙ্গে আপন শ্বশুরের অনৈতিক সম্পর্কের ফলে সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ধর্ষণ ও নবজাতক বিক্রির অভিযোগের মামলায় শ্বশুর রুস্তুম গাজী, লিপি বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মো. নুর উদ্দিন বলেন, দুপুরের দিকে ইমার্জেন্সিতে শারমিন বেগম তার শিশু সিজারকে নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখি শিশুটি আগেই মারা গেছে। পরে বিষয়টি গলাচিপা থানা পুলিশকে জানাই।
এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ওসি (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার বলেন, আমরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।