• ই-পেপার

মুলাদীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ২

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নদী পুনরুদ্ধারে বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
নদী পুনরুদ্ধারে বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হো‌সেন আজাদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ভরাটের কারণে দেশের অধিকাংশ নদী আজ নাব্যতা হারিয়ে সংকটে পড়েছে। এর প্রভাব কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়েছে।

রবিবার (১৭ মে) বিকেলে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াখালীর সোনাবাজু এলাকায় প্রস্তাবিত স্লুইসগেট নির্মাণ ও নদী খনন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, মানুষও উপকৃত হবে। তাই সরকার নদী পুনরুদ্ধারে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াখালীর সোনাবাজু এলাকায় প্রস্তাবিত স্লুইসগেট নির্মাণ করা হ‌লে নাব্যতা ফিরে আস‌বে। এতে দোহার-নবাবগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষও এর সুফল ভোগ করবে।

আরো পড়ুন
কুবির রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নুরুল করিম চৌধুরী

কুবির রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নুরুল করিম চৌধুরী

 

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও এলাকার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক নদী খনন ও স্লুইসগেট নির্মাণের বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকা রক্ষায় প্রকল্পটি দ্রুত একনেকে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর সঙ্গে ইছামতি নদীর সংযোগ স্থাপনে একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এনায়েত উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সৈকত, প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ ৭ কর্মকর্তা বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ ৭ কর্মকর্তা বদলি
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগে রদবদল শুরু হয়েছে। ডেপুটি সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মেডিক্যাল অফিসার পদে সাতজনকে পদায়ন-বদলি করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এসংক্রান্ত একটি আদেশ হয়। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারকে বান্দরবান ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে আসছেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা (ইউএইচএন্ডএফপিও) কর্মকর্তা ডা. সৌনম বড়ুয়া।

আরো পড়ুন
কুবির রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নুরুল করিম চৌধুরী

কুবির রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নুরুল করিম চৌধুরী

 

চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারার ইউএইচএন্ডএফপিও ডা. মো. মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ইউএইচএন্ডএফপিও পদে বদলি করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামে আরো পাঁচ চিকিৎসক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন স্থানে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। 

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক পদায়ন ও বদলি প্রথম। এর মধ্যে প্রায় দেড় বছর আগে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন পদে ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার যোগদান করেছিলেন।

ফেনীর ছাগলনাইয়া

পরীক্ষায় উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

ফেনী প্রতিনিধি
পরীক্ষায় উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত
আহত শিক্ষার্থী নাবিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিনে পরীক্ষার কেন্দ্রে উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার বাংলাবাজার ছলেমা নজির উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পরীক্ষার্থীর নাম কাজী আহমেদ আশ্রাফী নাবিল। সে হরিপুর আলী আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মোটবী ইউনিয়নের শিলুয়া গ্রামের কাজী নুরুল আবছার রিপনের ছেলে। অভিযুক্ত রাকিব হোসেন গতিয়া আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই রাকিব নাবিলের পেছনের বেঞ্চে বসত এবং জোরপূর্বক তার খাতা দেখার চেষ্টা করে। এতে নাবিল রাজি না হওয়ায় প্রথম দিনই কেন্দ্রের বাইরে তাকে গালাগাল করা হয়।

রবিবার শেষ পরীক্ষার পর কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বশত্রুতার জেরে রাকিবসহ ৭-৮ জন যুবক নাবিলের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে মারধর করা হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাবাজার এলাকায় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত শিক্ষার্থীর মা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ছাগলনাইয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মা, আপনারা আর চিন্তা করবেন না : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
মা, আপনারা আর চিন্তা করবেন না : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘মা, আপনাদের বাড়ি-ঘর আর নদীতে ভাঙবে না। সে জন্যই প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন। জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই পদ্মার ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হবে। আপনাদের যেন উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে থাকতে না হয়। সেই ব্যবস্থা আমরা নেব।’

আজ রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এভাবেই তাদের আশ্বস্ত করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি এসে দেখে অবাক হয়েছি, বিগত সরকার এখানে নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দিয়ে আমাকে সরেজমিনে পাঠিয়েছেন। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর পদ্মা নদীর পাড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তখন আর নদীভাঙন নিয়ে এখানকার মানুষকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী নৌপথে শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মায় বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘একটি মানুষের একটি ঘর কিংবা এক কাঠা জমিও যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়, সে জন্য সরকার নদীশাসনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মানিকগঞ্জবাসীকে ভবিষ্যতে আর নদীভাঙন কিংবা বর্ষা মৌসুমের বন্যা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে না।’

প্রতিমন্ত্রী  আরো বলেন, ‘নদী যখন কূল ভাঙে, তখন কোনো দলীয় পরিচয় দেখে ভাঙে না। সেখানে যে ধর্ম বা মতের মানুষই থাকুক না কেন, নদী সবাইকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, শিবালয় থানার ওসি মো. মনির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ।