• ই-পেপার

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নদী পুনরুদ্ধারে বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার

চার বছরেও সংস্কার হয়নি ‘ফুলেরজান সেতু’, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
চার বছরেও সংস্কার হয়নি ‘ফুলেরজান সেতু’, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগসেতু ‘ফুলেরজান সেতু’ দীর্ঘ চার বছরেও সংস্কার হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা।

রবিবার (১৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, নলেয়া নদীর ওপর অবস্থিত এই সেতুটি পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে শানেরহাট হয়ে মিঠাপুকুরের বড় হযরতপুর এবং বৈরতীহাট হয়ে পীরগাছাগামী সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে ওই রুটে মাঝারি ও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ উদ্যোগ নেয়নি। এতে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষিপণ্য পরিবহন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় এখন প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে সমস্যায় পড়ছেন, পাশাপাশি গবাদিপশু ও মুরগি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে।

হযরতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমুল ইসলাম বলেন, ‘এটিই আমাদের চলাচলের প্রধান রাস্তা। ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। এই এলাকার কৃষকরা তাদের ফলানো ফসল বেচা-কেনার জন্য এখন প্রায় ১৫-২০ কি.মি অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে হাট-বাজারে নিয়ে যেতে হয়।’

মুরগী ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া বলেন, ‘ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসা ভাল হচ্ছে না। এখন অনেক পথ ঘুরে মুরগী কিনতে গ্রামে যেতে হয়। এতে খরচও বেড়ে যায়।’ 

শানেরহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মান্নান খান বলেন, ব্রিজটি ভালো থাকতে ওই এলাকার মানুষ শানেরহাটে আসায় হাটের দিন ব্যবসা বেশ জমত। এখন ফুলেরজান ব্রীজ দিয়ে মালামাল পরিবহন হয় না, তাই ব্যবসা কমে গেছে ‘

শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, ‘সেতুটি আমাদের উপজেলায় নয়, পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলায়। আামি হযরতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অনেকবার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি। তিনি বলেছেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর সাংবাদিকদের জনান, ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে মাটি পরিক্ষা করা হয়েছে। আগামী শুষ্ক মওসুমে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মোছা. নুরুন্নাহার বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত নুরুন্নাহার ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রী। এদিকে ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাদের ঝগড়ার শব্দ আশপাশের বাসিন্দারাও শুনতে পান। পরে এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে স্বামী নজরুল ইসলাম পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সকালে তার মা ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ছেলের বউ নুরুন্নাহারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বিকেলে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি আরো জানান, ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ ৭ কর্মকর্তা বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ ৭ কর্মকর্তা বদলি
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগে রদবদল শুরু হয়েছে। ডেপুটি সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মেডিক্যাল অফিসার পদে সাতজনকে পদায়ন-বদলি করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এসংক্রান্ত একটি আদেশ হয়। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারকে বান্দরবান ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে আসছেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা (ইউএইচএন্ডএফপিও) কর্মকর্তা ডা. সৌনম বড়ুয়া।

আরো পড়ুন
কুবির রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নুরুল করিম চৌধুরী

কুবির রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নুরুল করিম চৌধুরী

 

চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারার ইউএইচএন্ডএফপিও ডা. মো. মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ইউএইচএন্ডএফপিও পদে বদলি করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামে আরো পাঁচ চিকিৎসক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন স্থানে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। 

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক পদায়ন ও বদলি প্রথম। এর মধ্যে প্রায় দেড় বছর আগে চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন পদে ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার যোগদান করেছিলেন।

ফেনীর ছাগলনাইয়া

পরীক্ষায় উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

ফেনী প্রতিনিধি
পরীক্ষায় উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত
আহত শিক্ষার্থী নাবিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিনে পরীক্ষার কেন্দ্রে উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার বাংলাবাজার ছলেমা নজির উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পরীক্ষার্থীর নাম কাজী আহমেদ আশ্রাফী নাবিল। সে হরিপুর আলী আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মোটবী ইউনিয়নের শিলুয়া গ্রামের কাজী নুরুল আবছার রিপনের ছেলে। অভিযুক্ত রাকিব হোসেন গতিয়া আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই রাকিব নাবিলের পেছনের বেঞ্চে বসত এবং জোরপূর্বক তার খাতা দেখার চেষ্টা করে। এতে নাবিল রাজি না হওয়ায় প্রথম দিনই কেন্দ্রের বাইরে তাকে গালাগাল করা হয়।

রবিবার শেষ পরীক্ষার পর কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বশত্রুতার জেরে রাকিবসহ ৭-৮ জন যুবক নাবিলের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে মারধর করা হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাবাজার এলাকায় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত শিক্ষার্থীর মা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ছাগলনাইয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’