• ই-পেপার

মিডিয়া টিম গঠনে বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় ওয়ার্কশপ

দাগনভূঞায় ভাড়া বাসা থেকে কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার

ফেনী প্রতিনিধি
দাগনভূঞায় ভাড়া বাসা থেকে কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ভাড়া বাসা থেকে জসিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৭ মে) সকালে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঁধের ঘোড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জসিম সেনবাগ উপজেলার লেমুয়া বড়বাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী জাকের হোসেনের দোকানে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, রামনগর এলাকার একটি টিনশেড ঘরে এক কাঠমিস্ত্রির মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে খাটের ওপর পড়ে থাকা জসিম উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে সহকর্মীদের সঙ্গে চা পান শেষে রাত প্রায় ১২টার দিকে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান জসিম। রবিবার সকাল ৭টা থেকে তাকে একাধিকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে দাগনভূঞা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যেতে পারেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই সুমন জানান, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। মাত্র দুই দিন আগে তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরে এসেছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, স্বামী পলাতক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, স্বামী পলাতক
প্রতীকী ছবি

পারিবারিক কলহের জেরে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছেন তার স্বামী। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সীমান্তের লক্ষ্মীদাঁড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে।

নিহত তাসলিমা খাতুন (৩৫) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীদাঁড়ি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী এবং দেবহাটা উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামের নূরুজ্জামান ঢালীর মেয়ে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সাদ্দাম প্রথমে চায়ের দোকান পরিচালনা করলেও পরে কাপড়ের ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এর পর থেকে তিনি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের দাবি, টাকা আনতে না পারায় তাসলিমার ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার জন্য সম্প্রতি দুই লাখ টাকা দাবি করা হলে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়, যা দালালের মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়। এরপর থেকে নির্যাতন আরো বেড়ে যায়।

শনিবার রাত ৯টার দিকে সন্তানদের নিয়ে তাসলিমাকে ঘুমাতে যেতে বলেন সাদ্দাম। পরে তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর সাদ্দাম পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

আরো পড়ুন

সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

 

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তাসলিমাকে তার স্বামী হত্যা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। সাদ্দামকে গ্রেপ্তারে চিরুনি তল্লাশি চলছে।

সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ
কুমিল্লার মেঘনায় এনসিপির জনসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্তমানে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ‘তলানিতে’ পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকলে কিছুদিনের মধ্যে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নাই হয়ে যাবে।’

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক এম কে রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ।

বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন, ‘মানুষ বলছে, এই সরকারের অনেক গুণ। চার মাসে মেঘনা উপজেলায় চার খুন। একটা উপজেলায় চার মাসে যদি এত খুন হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে কী করেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে, কখনো অর্থমন্ত্রীর পক্ষে বলেন। আসলে তার মন্ত্রণালয় নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই।’

অনুষ্ঠানে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর উপস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ১০০ নেতাকর্মী জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করেন।

ধুনট

কাজ শেষ না হতেই হেলে পড়ল সুরক্ষা দেয়াল

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
কাজ শেষ না হতেই হেলে পড়ল সুরক্ষা দেয়াল
বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদের পুকুরপাড়ে নির্মীয়মাণ ওয়াক ওয়ের সুরক্ষা দেয়ালের একটি অংশ রবিবার ভেঙে পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই হেলে পড়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদের পুকুরপাড়ে নির্মীয়মান ওয়াক ওয়ে (হাঁটা পথ)-এর সুরক্ষা দেয়াল (গাইড ওয়াল)-এর একাংশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার (১৭ মে) সকাল ৮টার দিকে পুকুরপাড়ের দক্ষিণ পাশের প্রায় ১০ ফুট অংশ পুকুরের দিকে হেলে পড়ে। ঢালাইয়ের পর সুরক্ষা দেয়াল মজবুত না হতেই বালু ভরাটের কারণে এমনটি হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ১৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের সুরক্ষা দেয়ালটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা পরিষদের পুকুর ঘিরে গড়ে উঠেছে শিশু পার্ক। কয়েক মাস ধরে পার্কটির উন্নয়ন কাজ চলছে। এই কাজের অংশ হিসেবে পুকুরপাড়ের চারপাশে ওয়াক ওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা পরিষদ। এ জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। 

সূত্র জানায়, পুকুরটির দক্ষিণ পাশে ওয়াক ওয়ে নির্মাণের জন্য গাইড ওয়াল প্রয়োজন। এ কারণে ১৯০ ফুট গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। পুরো কাজ শেষ না হতেই দেয়ালটি হেলে পড়েছে।

এদিকে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও শর্ত না মানার অভিযোগ করে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘পুকুরের এই গাইড ওয়ালের কাজটি ঠিকঠাকমতো হয়নি। নিম্নমানের কাজের কারণে যেকোনো সময় পুরো গাইড ওয়ালটিই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, ‘গাইড ওয়ালটি নির্মাণের অন্তত ২৮ দিন পর সড়কে বালু ভরাটের কথা ছিল। কিন্ত এটি নির্মাণের এক সপ্তাহ পার না হতেই বালু ভরাটের কারণে হেলে পড়েছে। মজবুত না হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’