• ই-পেপার

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি

বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা যুবককে হত্যার হুমকি মানবপাচার চক্রের

বিদেশি পিস্তল, গুলিসহ পাবনায় গ্রেপ্তার ১

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
বিদেশি পিস্তল, গুলিসহ পাবনায় গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি, দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ মো. আলম প্রামাণিক ওরফে টেম্পু আলম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার টেম্পু আলম উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর বিশুতলা এলাকার মৃত খবির প্রামানিকের ছেলে। তিনি পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আব্দুল খালেক খাঁ হত্যাচেষ্টা মামলার অজ্ঞাতপরিচয় আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় চলমান অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে টেম্পু আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর এলাকায় তার বসতবাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, একটি তলোয়ার এবং দুটি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আব্দুল খালেক খাঁর ওপর গুলি ও হামলার ঘটনায় হওয়া হত্যা চেষ্টা মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

এদিকে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান আব্দুল খালেক খাঁ।

ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে মাসহ ৩ মেয়েকে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে মাসহ ৩ মেয়েকে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত
ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তার তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। এ ছাড়া গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে শাহীনুর বেগম সন্তানদের নিয়ে দেনায়েতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এর পর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে মারা যায় ইকরা। অন্যদিকে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদারকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন স্থানীয় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত। রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ঘটনার সময় সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অন্তর মজুমদার আগে ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং প্রায় সাত-আট মাস আগে বাসা ছেড়ে চলে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তিনি ওই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে চারজন নিহত হন এবং গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হলে পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কর্মজীবী নারীর জাতীয় সংলাপ

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে জলবায়ু পরিবর্তন, সবুজ শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। 

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিতকরণ : সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও শ্রমিকদের বাস্তবতা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এই আহ্বান করা হয়। সংলাপের আয়োজন করে কর্মজীবী নারী ও ক্রিশ্চিয়ান এইড-বাংলাদেশ।

কর্মজীবী নারীর উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উন্মে কুলসুম ফেরদৌসী।

সংলাপে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, ‘অটোমেশনের ফলে একদিকে কর্মসংস্থান কমছে, অন্যদিকে উৎপাদনের চাপ বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, ৩৫ বছর বয়স অতিক্রম করলেই অনেক কারখানায় ছাঁটাইয়ের শিকার হতে হয়।’ ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো নারী শ্রমিক যেন বাদ না পড়েন, সে দাবি জানান তারা।

ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা বলেন, ‘শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছাড়া ন্যায্য রূপান্তর সম্ভব নয়। এজন্য শ্রমিক কল্যাণ ও পুনর্বাসন তহবিল গঠন এবং ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা বলেন, এ ধরনের রূপান্তরে যৌথ উদ্যোগ ও ‘শেয়ারড রেসপনসিবিলিটি’ ভিত্তিক অর্থায়ন প্রয়োজন।’

কারখানা ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধিরা জানান, কিছু খাতে অটোমেশন এলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে মানবশ্রমের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগ জরুরি।

বিজিএমইএ প্রতিনিধি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃদক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাস্ট ট্রানজিশন মানেই ন্যায়সংগত, ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশীদারিমূলক রূপান্তর। এ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।‘

মৌলভীবাজার সীমান্তে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার সীমান্তে বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী মিশন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ডেটোনেটরসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধীনস্থ বিওসিটিলা বিওপির একটি আভিযানিক দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রবেশের তথ্য পাওয়ার পর ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ২৩টি টিউবে সংরক্ষিত তিন কেজি ‘পাওয়ারজেল-৯০’ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তৈরির তার এবং দুটি কুকরি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য সরঞ্জাম তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা যুবককে হত্যার হুমকি মানবপাচার চক্রের | কালের কণ্ঠ