• ই-পেপার

কক্সবাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা নিহত

কুড়িগ্রামে অবৈধ জাল ও বৈদ্যুতিক শকে চলছে মাছ নিধনের মহোৎসব

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে অবৈধ জাল ও বৈদ্যুতিক শকে চলছে মাছ নিধনের মহোৎসব
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার বেড়েই চলেছে। অভিযানের পরও থামছে না এই অবৈধ কার্যক্রম। এতে ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু ও পোনা মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও নির্বিচারে ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমার, গঙ্গাধর ও জিঞ্জিরামসহ ছোট বড় ১৬টি নদ-নদীতে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল, ডারকি, খ্যাতা, ফাঁসি ও বেড়া জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্যাটারি ও তারের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক দিয়েও মাছ ধরা হচ্ছে। এতে মাছের পাশাপাশি শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার ও সংকোষ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শকের আঘাতে মাছ ভেসে উঠলে সেগুলো হাতজাল দিয়ে তুলে বাজারে বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ এবং কয়েকজনকে আটক করেছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, এক থেকে দেড় ফুট প্রস্থ ও ৪০ থেকে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি চায়না দুয়ারি জালের দাম পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। ছোট ছোট খোপ ও লোহার রিংযুক্ত এ জালে একবার মাছ বা অন্য জলজ প্রাণী আটকে গেলে আর বের হতে পারে না।

মৎস্য সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন, ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত জালে রেণু, পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পড়ায় প্রাকৃতিক প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, পুঁটি, খলিসা, টাকি, বৈরালী ও গজারসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ওপর পড়েছে।

মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত আফজাল হোসেন ও মন্টু মিয়া বলেন, কাজের সংকট থাকায় ঋণ নিয়ে এসব জাল কিনে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

চিলমারীর জোড়গাছ মাঝিপাড়ার বাসিন্দা ভোন্দল মাঝি বলেন, আগে যারা পেশাগতভাবে মাছ ধরতেন, এখন তাদের জালেও আগের মতো মাছ উঠছে না। কারণ প্রায় প্রতিটি গ্রামেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান না থাকায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমছে না। তাদের দাবি, শুধু জাল জব্দ নয়, উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

কু‌ড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হচ্ছে। তবে দুর্গম নদীপথ ও চরাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা কঠিন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ৬ বগির সঙ্গে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ, আহত ১৫

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ৬ বগির সঙ্গে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ, আহত ১৫
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের ছয়টি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাত্রীবাহী বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেলবাহী ট্রেনটি আসার খবর পেয়ে খানখানাপুর রেলগেটের গেটম্যান রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার নামিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। তবে ট্রেনের পেছনের গার্ড ব্রেকসহ ছয়টি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কিছুটা দূরে ধীরগতিতে এগিয়ে আসছিল। বিষয়টি বুঝতে না পেরে গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে অপেক্ষমাণ যাত্রীবাহী বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা রেলক্রসিং পার হতে শুরু করে। এসময় বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলো ওই যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

রাজবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার তন্বয় দত্ত জানান, ফরিদপুরের আমিরাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেল সরবরাহ শেষে ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশে ফিরছিল। খানখানাপুর রেলক্রসিং এলাকায় গার্ড ব্রেকসহ ছয়টি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন (কাটিং) হয়ে যাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে বগিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এবং রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, উদ্ধার অভিযান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে।

পদ্মায় নৌ পুলিশের অভিযানে ৫২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
পদ্মায় নৌ পুলিশের অভিযানে ৫২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৫২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। পরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

রবিবার (২৬ জুলাই) দিনব্যাপী দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ চায়না দুয়ারি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

অভিযান শেষে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাসের উপস্থিতিতে জনসমক্ষে জব্দ করা চায়না দুয়ারিগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাটকা সংরক্ষণ এবং নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আলোচিত শিক্ষিকার অভিযোগ

‘নেতিবাচক ক্যাপশনে’ ভিডিও ভাইরাল করেন প্রবাসী তরুণ

অনলাইন ডেস্ক
‘নেতিবাচক ক্যাপশনে’ ভিডিও ভাইরাল করেন প্রবাসী তরুণ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ফেসবুক রিল ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে। ভিডিওটি ঘিরে একদিকে ট্রল ও সাইবার বুলিং চলছে, অন্যদিকে অনেকেই শিক্ষিকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। তিনি সংবাদমাধ্যম কালবেলাকে জানিয়েছেন, স্কুল চলাকালীন নয়; বরং ছুটির পর ভিডিওটি রেকর্ড করেন তিনি। ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক ক্যাপশনে’ তার ভিডিও ভাইরাল করেন আসিফ ইকবাল হিরণ নামের এক প্রবাসী তরুণ। ওই তরুণের বিরুদ্ধে তিনি সাইবার বুলিং এবং সামাজিকভাবে হেনস্তারও অভিযোগ তুলেছেন।

বিউটি রানী পাল বলেন, ‘আমি আসলে রিল (গানসহ ছোট ভিডিও) বানাতে জানি না। আমার এক সহকর্মীকেই বলছিলাম যে কিভাবে রিল বানায়। স্কুল ছুটির পরে স্কুলের আঙিনাতেই আমি হেঁটে গেছি আর তিনি ভিডিওটা করেছেন।’

ভিডিওটি নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বিউটি রানী বলেন, ‘আমরা মুখ দিয়ে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন-মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে আমরা কিভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেব? আমাদের মন-মানসিকতা যদি এখন ডিজিটালাইজড না করি, স্মার্ট না হই, উন্নত না করি, তাহলে আমরা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না। আমাদের সব দিক দিয়ে সমানতালে চলতে হবে।’

শিক্ষিকা বলেন, ‘তিনি আমার ভিডিওটা ডাউনলোড করে নিয়ে উনার পত্রিকায় নিউজ করেছেন এবং উনার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও আমার সম্পর্কে আজেবাজে লিখেছেন।’

তার দাবি, আসিফ ইকবাল হিরণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। হিরণ তাকে ফোন করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন (বাড়ি কোথায়, তিনি স্থানীয় কি না) করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। শিক্ষিকা তাকে পোস্টটি ডিলিট করার অনুরোধ জানালেও তিনি তা করতে অস্বীকার করেন।

বিউটি রানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’

তিনি শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিলে সমাজ সবচেয়ে বেশি নৈতিক হবে।’

অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি আইনি জটিলতায় না গিয়ে সারা দেশের মানুষের দেওয়া নৈতিক সমর্থনকেই তার শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে মনে করছেন।

শিক্ষিকার অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইকবাল বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে আদাব দিয়ে ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছি। আর কিছু বলিনি।’

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন পেজটি কোনো অনলাইন গণমাধ্যম কি না, নিবন্ধন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, নিবন্ধন নাই।’

কক্সবাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা নিহত | কালের কণ্ঠ