• ই-পেপার

ভাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

নীলফামারীতে ৩ লাখের বেশি শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

নীলফামারী সংবাদদাতা
নীলফামারীতে ৩ লাখের বেশি শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
ছবি: কালের কণ্ঠ

নীলফামারীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে তিন লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস খাওয়ানো হবে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে জেলা ইপিআই ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলা ও ৪ পৌরসভায় দিনব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৩ লাখ ৭ হাজার ২৬২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তিনি আরো জানান, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩১ হাজার ৪০৯ জন শিশুসহ ১০৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৩ জন শিশুসহ ২৭৬ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইন সফল করতে জেলার ৬১টি ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় ১ হাজার ৫৯০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রথম সারির ১৯১ জন সুপারভাইজার ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মনিটরিং টিম কেন্দ্রগুলো তদারকি করবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার আতিউর রহমান শেখ আতিকসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকের ওপর জামায়াতকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে নড়াইলে মানববন্ধন

নড়াইল প্রতিনিধি
সাংবাদিকের ওপর জামায়াতকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে নড়াইলে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নড়াইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টায় নড়াইল প্রেস ক্লাবের আয়োজনে শহরের আদালত সড়কে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

জেলায় কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য দেন নড়াইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রশিদ লাভলুসহ সিনিয়র নেতারা।

নড়াইল প্রেস ক্লাবের নেতারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করেন। তাদের ওপর হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জামায়াত নেতাকর্মীদের দ্বারা সাংবাদিক নির্যাতন হয়েছে। স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত ২

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত ২

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় শাহিদ মাতুব্বর (৩২) নামে এক যুবকের প্রাণ গেল। এ ঘটনায় আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

বুধবার (২৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি অজ্ঞাতনামা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহিদ মাতুব্বর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার উত্তর কান্দি গ্রামের রুস্তম মাতুব্বরের ছেলে। আহতরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার দফা গ্রামের মো. আলী ফকিরের ছেলে মো. এমদাদুল ফকির (৩২) এবং সালথা উপজেলার ইউসুফদিয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে সেকেন্দার মোল্লা (৩২)।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, বুধবার ভোরে পোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা দ্রুতগামী যানবাহন একটি নসিমনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নসিমনে থাকা শাহিদ মাতুব্বর ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরো দুজন আহত হন।

পরে পথচারীরা সড়কের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চুনারুঘাট

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন ২ চা বাগান

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন ২ চা বাগান
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সেতু ধসে লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কয়েক দিনের টানা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের সংযোগসড়কের সেতু ধসে পড়েছে। রবিবার (২১ জুন) ও সোমবার (২২ জুন) টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে পড়ে। ফলে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই চা বাগানের প্রায় আট হাজার মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া দুটি চা বাগানের উৎপাদিত চা পাতা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সংগ্রহ করা কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাগানের সড়কে সেতুটি নির্মাণ করে। লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক পরিবারের আট হাজার মানুষ এ সেতু ব্যবহার করতেন। কাপাই চা বাগানের শিক্ষার্থীরা লস্করপুরে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এই সেতু দিয়েই। কাপাই বাগানের উৎপাদিত চা পাতাও লস্করপুর কারখানায় নেওয়া হয় এ পথেই।

চুনারুঘাট পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী মাস্টার জানান, কাপাই চা বাগানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক ও দুই হাজার বাসিন্দা এবং লস্করপুর চা বাগানে প্রায় এক হাজার ৫০০ শ্রমিকসহ প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। সেতু ধসে দুই বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষই এখন ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি আরো জানান, বৃষ্টি হলেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার পানি সেতুর নিচের ছড়া দিয়ে নেমে আসে। কয়েক বছরে ছড়াটি ছোট নদীর রূপ নেওয়ায় সেতুটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় রবিবার ও সোমবার রাতের ঢলে দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে যায়। এতে চা পাতা পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিক ও তাদের পরিবার। কাপাই চা বাগানের শ্রমিকরা উপজেলা সদরেও যেতে পারছেন না।

লস্করপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদুল হক বলেন, ‘কাপাই বাগানের চা পাতা এখন কয়েকটি বাগান ঘুরে মহাসড়ক হয়ে কারখানায় আনতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর মাঝের পিলারও ভেঙে পড়েছে। তাই এটি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয়। সেখানে নতুন সেতু নির্মাণই একমাত্র সমাধান।’

চুনারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটি ধসের সঙ্গে সঙ্গেই সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আপাতত মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজন ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছ।’

চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সদর দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।