• ই-পেপার

গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে : আমানউল্লাহ আমান

লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্রী ২ মাস থেকে নিখোঁজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্রী ২ মাস থেকে নিখোঁজ
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্রী মুর্শিদা আক্তার নিশি দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। মেয়ে সন্ধান পেতে আকুতি জানিয়েছেন তার মা ছকিনা বেগম। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত ৩ জুন একটি ইমো আইডি থেকে নিশি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তখন নিশি তার মাকে জানিয়েছেন, একটি ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। ঘর থেকে বের হতে না পারায় তিনি কোন জায়গায় আছেন তা বলতে পারেননি।

নিখোঁজ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, নিশি কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। গত ২২ এপ্রিল সকালে তিনি কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। 

নিশির বরাত দিয়ে তার মা ছকিনা বলেন, ‘কলেজে যাওয়ার উদ্দেশে নিশি ঘটনার দিন তোরাবগঞ্জ থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠে। অটোরিকশাটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাকে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সূতারগোপ্টা এলাকায় নামিয়ে দেন চালক। পরে সে অন্য একটি অটোরিকশায় ওঠে। সেই অটোরিকশা থেকেই কেউ তার মুখে স্প্রে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি আমার মেয়েকে আমি ফেরত চাই।’

নিশির চাচা আবুল বাশার বলেন, ‘নিশি ইমোতো কল দিয়ে জানিয়েছে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। এক মহিলা তাকে খাবার দিতে আসে। ওই মহিলার মোবাইল থেকে ইমোতে কল দিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানিয়েছে। দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো মেয়েটিকে খুঁজে পাইনি। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে নিশিকে খুঁজে বের করে দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘২২ এপ্রিল কলেজছাত্রী নিশি নিখোঁজ হন। ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। মেয়েটি ইমোতে তার মায়ের সঙ্গে প্রায়ই কথা বলেন। তবে ইমোতে কথা বলায় তিনি কোথায় আছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অপহরণ হননি।’

সিরাজগঞ্জে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৪ নেতাকে কারাগারে প্রেরণ

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৪ নেতাকে কারাগারে প্রেরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৫ আগস্ট-পরবর্তী দায়ের করা চারটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪) জুন সকালে আসামিরা সিরাজগঞ্জ আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন- উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা মো. আনিস প্রধান, পৌর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী মিনহাজুর রহমান শুভ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ ও প্রচার সম্পাদক মো. ছোটন আহমেদ।

জানা গেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলা ও ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদারের পথসভায় গাড়ি ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন। কেউ কেউ জামিনে আছেন, অন্যরা পলাতক থাকায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সিরাজগঞ্জ জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বাঁটুল বলেন, ‘অভিযুক্ত আসামিরা আদালতের কাছে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
সংগৃহীত ছবি

ফেনী সদর উপজেলাধীন মোহাম্মদ আলী বাজারস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন এবং ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টার সময় মহিপাল হাইওয়ে থানার আওতাধীন স্টার লাইন পাম্প সংলগ্ন খোরশেদ আলম সওদাগরের বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগতির মাঝারি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের বাঁ পাশে থাকা একটি কড়ইগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতায় গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। একই সময় সড়কে থাকা একটি ভ্যানগাড়ি ও পথচারীও এই দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন- আহসানুল ইসলাম (১৫)। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির হেলপার ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার সিকদার খিল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। নিহত অপরজন হলেন- মির হোসেন (৪৫)। তিনি একজন পথচারী ছিলেন। তিনি ফেনী সদর থানার মধ্যম কাছাড় এলাকার ছন্দু মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া এই ঘটনায় মো. সুমন (৪৫) নামে একজন ভ্যানচালক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ফেনী সদর উপজেলার কাছাড় এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে। তিনি বর্তমানে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক কৌশলে পালিয়ে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আছাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং গাড়িটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নিহতদের মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এই বিষয়ে একটি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশের কাছ থেকে আ. লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৮

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
পুলিশের কাছ থেকে আ. লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৮
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে কালীগঞ্জ থানার এসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন। মামলার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে শহরের আড়পাড়া এলাকার নিজ বাড়ির নিচতলায় দলীয় অফিসে বসেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজু। সে সময় তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল করার পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী পুলিশের কাছ থেকে বিজুকে ছিনিয়ে নেয়।  

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত চলছে।  
 

গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে : আমানউল্লাহ আমান | কালের কণ্ঠ