কুড়িগ্রামের নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার বেড়েই চলেছে। অভিযানের পরও থামছে না এই অবৈধ কার্যক্রম। এতে ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু ও পোনা মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও নির্বিচারে ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমার, গঙ্গাধর ও জিঞ্জিরামসহ ছোট বড় ১৬টি নদ-নদীতে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল, ডারকি, খ্যাতা, ফাঁসি ও বেড়া জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্যাটারি ও তারের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক দিয়েও মাছ ধরা হচ্ছে। এতে মাছের পাশাপাশি শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার ও সংকোষ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শকের আঘাতে মাছ ভেসে উঠলে সেগুলো হাতজাল দিয়ে তুলে বাজারে বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ এবং কয়েকজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, এক থেকে দেড় ফুট প্রস্থ ও ৪০ থেকে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি চায়না দুয়ারি জালের দাম পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। ছোট ছোট খোপ ও লোহার রিংযুক্ত এ জালে একবার মাছ বা অন্য জলজ প্রাণী আটকে গেলে আর বের হতে পারে না।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত জালে রেণু, পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পড়ায় প্রাকৃতিক প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, পুঁটি, খলিসা, টাকি, বৈরালী ও গজারসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ওপর পড়েছে।
মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত আফজাল হোসেন ও মন্টু মিয়া বলেন, কাজের সংকট থাকায় ঋণ নিয়ে এসব জাল কিনে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।
চিলমারীর জোড়গাছ মাঝিপাড়ার বাসিন্দা ভোন্দল মাঝি বলেন, আগে যারা পেশাগতভাবে মাছ ধরতেন, এখন তাদের জালেও আগের মতো মাছ উঠছে না। কারণ প্রায় প্রতিটি গ্রামেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান না থাকায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমছে না। তাদের দাবি, শুধু জাল জব্দ নয়, উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হচ্ছে। তবে দুর্গম নদীপথ ও চরাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা কঠিন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।




