• ই-পেপার

মহেশপুর

বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ

টিসিবির পণ্য নিম্নমানের—অভিযোগ উপকারভোগীদের

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
টিসিবির পণ্য নিম্নমানের—অভিযোগ উপকারভোগীদের
টিসিবির পণ্য পাওয়ার পর তা নিম্নমানের আখ্যা দিয়ে এক উপকারভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিচারপ্রার্থী হন। বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের ভেতর। ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ডিলারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আপত্তি জানিয়েও এ বিষয়ে প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ উপকারভোগীদের। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের নিয়োগ করা ট্যাগ অফিসারকে সামনে রেখেই ডিলাররা অস্বচ্ছলদের হাতে খারাপ পণ্য ধরিয়ে দিচ্ছেন। এ ঘটনায় বুধবার (২৪ জুন) অনেক উপকারভোগী নিম্নমানের পণ্য হাতে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার নান্দাইল পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে টিসিবির কার্ডধারীদের মাঝে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পণ্য বিতরণ করা হয়। ডিলাররা স্থানীয় খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করে থাকেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই উপকারভোগীরা মানসম্মত পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন বলে সূত্র জানায়। 

বুধবার সকাল ১০টায় পণ্য বিতরণ শুরু হলে চাল ও অন্যান্য পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় আপত্তি জানান কার্ডধারীরা। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়। পরে অনেকে সংগ্রহ করা তেল ও চাল নিম্নমানের আখ্যা দিয়ে তা  বাজারে নিয়ে বিক্রি করে দেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান।

পৌরসভার কার্ডধারীরা জানান, প্রতিমাসে দুই কেজি মসুর ডাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল, পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি চিনি, ডিটারজেন্ট ও সাবান দিয়ে ৬২৫ টাকার প্যাকেজ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অখ্যাত কম্পানির সাফ নামের ডিটারজেন্ট ও  সাবান নিতে না চাইলে কার্ডধারীদের টিসিবির পণ্য দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে দুই লিটার তেলের লোভে প্যাকেজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। পরে বাড়ি ফিরে দেখা যায় ওই তেল পামওয়েল, যা বোতলেই সাদা দানা বেঁধে যাচ্ছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিমেল মিয়া জানান, টিসিবির ডিলাররা কখনো ভালো চাল দেয়, কখনো পোকা ধরা ও পোকায় খাওয়া চাল দেন। কিন্তু তা হাঁস-মুরগিকে খাওয়াতে হয়। অন্যদিকে তাদের দেওয়া তেলও অত্যন্ত  নিম্নমানের।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাহেদ আলী বলেন, ‘চালে পুথি ধরা, পোকা খাওয়া থাকলে সেগুলো খাওয়া যায় না। তা ছাড়া সয়াবিন তেলের বিপরীতে দেয়া হচ্ছে পাম ওয়েল। সরকার আমাদের স্বল্পমূল্যে পণ্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ডিলার ও কর্মকর্তাদের কারণে আমরা খারাপ পণ্য পাচ্ছি।’

জানতে চাইলে টিসিবির ডিলার তাওহিদুল ইসলাম রানা বলেন, ‘এ ধরনের পণ্য বিক্রি করে তারাও উপকারভোগীদের তোপের মুখে পড়ছেন। কিন্তু আমাদের যে ধরনের পণ্য সরবরাহ করা হয়, তাই-ই বিক্রি করা হয়। এর ওপর আমাদের কোনো হাত নেই।’

এ ব্যাপারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ময়মনসিংহের উপপরিচালক কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা থেকে যেভাবে পণ্য দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে, সেভাবেই ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন পণ্য যদি নিম্নমানের হয়, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন,‘পণ্য নিয়ে লোকজন আমার অফিসে এসেছিলেন। দেখে মনে হয়েছে এগুলো নিম্নমানের। এ অবস্থায় টিসিবির ডিলারদের দ্রুত ডাকা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জে চিকিৎসক হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে চিকিৎসক হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. বাকী মির্জা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় দেন। একই আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. শামসুজ্জোহা (শাহানশাহ) এ তথ্য জানান।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার খাগা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন কিরণ ও শহরের জানপুর মহল্লার জেল হকের ছেলে ও ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি জাকারিয়া মাসুদ ওরফে জাকারিয়া।

মামলার বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট মো. শামসুজ্জোহা (শাহানশাহ) বলেন, ২০১১ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ কোর্ট ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার ৮ নম্বর কক্ষে ডা. বাকী মির্জাকে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল লতিফ মির্জা বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তকালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আসামি আনোয়ার হোসেন কিরণ ও রুহুল আমিন বাবু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে রুহুল আমিন বাবু মারা গেলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

অ্যাডভোকেট মো. শামসুজ্জোহা বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক আনোয়ার হোসেন কিরণ ও জাকারিয়া মাসুদ ওরফে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জাকারিয়া মাসুদ ওরফে জাকারিয়া পলাতক রয়েছেন। হাজতবাসকালীন দণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।  

শামসুজ্জোহা আরো বলেন, মামলার অপর আসামি ডা. আব্দুল লতিফ হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন করায় তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দিয়ে অপর আসামিদের জন্য মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। এ কারণে ডা. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে মামলা নিস্পত্তির এই পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের ওই আদেশ ভ্যাকেট করলে ডা. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আলোচ্য মামলাটি পুনরায় চালুপূর্বক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে পূর্বশত্রুতার জেরে  দুই বন্ধুর ছুরিকাঘাতে রজব আলী (২৫) নামে আরেক বন্ধু নিহত হয়েছেন। নিহত যুবক জেলা শহরের ১৫ নং ওয়ার্ডের মসজিদপাড়া মহল্লার নজরুল ইসলাম বাবুর ছেলে রজব আলী (২৫)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১টার দিকে জেলা হাসপাতালের বিপরীতে আম বাজারে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় রজবের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করে তাঁরই বন্ধু একই মহল্লার আজিমুদ্দিন আকুর ছেলে মেহেদী (২৫) ও মৃত বাবুর ছেলে জিসান (২৬)। এতে ঘটনাস্থলে বুকের ডান দিকে ছুরিকাঘাতে ও  মাথায় মারধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রজব। পরে স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসারুল আলম তুষার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই মেহেদী ও জিসান পালিয়ে যায়।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, পলাতক দুই বন্ধুর ছুরিকতাঘাতেই রজব নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি আরো বলেন, ওই তিনজনের বিরুদ্ধেই মাদকাসক্তির অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগে আমবাজারের ক্রেট (আমের ঝুড়ি) চুরি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের সরকারি ওষুধ সরানোর অভিযোগও রয়েছে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে। এখন ঠিক কিসের দ্বন্দ্বে খুনের ঘটনা ঘটল তা বিস্তারিত তদন্ত করেই বলা  যাবে।

ওসি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ, ডিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি। 

হবিগঞ্জ

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ২ কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ২ কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধর
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ জুন) মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। 

এর আগে গত ২৩ জুন বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ডুলনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ডুলনা গ্রামের সানু মিয়ার ছেলে শামীম (১২) ও আহমদাবাদ ইউনিয়নের ছয়শ্রী গ্রামের মৃত মীর হোসেনের ছেলে মঈন উদ্দিন (১৬) স্থানীয় একটি জমিতে মাছ ধরতে যায়। সে সময় ডুলনা গ্রামের দুপরাজ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া এবং ছয়শ্রী গ্রামের রইছ আলীর ছেলে হাছন আলী চোর সন্দেহে ওই দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধর করে। পরে আরো কয়েকজনকে ডেকে মারধর করা হয়। 

ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, মাছ ধরার সময় ওই দুই কিশোরকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ‘চোর ধরেছি’ বলে স্থানীয় লোকজন জড়ো করা হয়। এরপর তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। মারধরের একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

কিশোর মঈন উদ্দিনের মা খুর্শেদা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। মারধরের সময় আমার ছেলেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। অথচ হারানো মোবাইল পরে তাদের ঘরেই পাওয়া গেছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। 

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ | কালের কণ্ঠ