বুড়িগঙ্গা নদীতে সিমসন খেয়াঘাট আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পারাপারের ভাড়া ২ টাকা বহাল রাখার দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এ সময় তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, ঘাটটি আগের স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর নদীপথে আসা পাইকারি ক্রেতাদের অতিরিক্ত পথ হেঁটে বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি পারাপারের ভাড়া ২ টাকা থেকে ৫ টাকা করারও প্রতিবাদ জানান তারা।
সমাবেশে ব্যবসায়ীরা বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি পোশাকের বাজার। ১৯৮০ সালের দিকে এ বাজার গড়ে ওঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা নৌপথ, ট্রলার ও অন্যান্য যানবাহনে এখানে এসে পোশাক কেনেন। তাদের ভাষ্য, নদীপথে আসা ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ২০০৭ সালে প্রথমবার সিমসন খেয়াঘাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্দোলনের মুখে আলোচনার মাধ্যমে তা আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আবার ঘাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, বর্তমান ঘাটে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীরা নানা ধরনের ভোগান্তির পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই ব্যবসা ও জনস্বার্থে ঘাটটি পুনরায় আগের স্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ী মো. মারুফ বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে প্রায় ৪০০ বহুতল মার্কেট, ১০ হাজারের বেশি শোরুম এবং কয়েক হাজার পোশাক কারখানা রয়েছে। এখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাকের বড় একটি অংশের চাহিদা এ বাজার থেকে পূরণ হয়। প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী নদীপথে এ এলাকায় যাতায়াত করেন। তাই ব্যবসার স্বার্থে ঘাটটি আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন সোনামিয়া বলেন, ঘাট স্থানান্তরের পর পাইকারি ক্রেতাদের প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে ক্রেতা কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘাটটি আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হলে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমবে এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরবে। দাবি পূরণ না হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে ঘাট স্থানান্তরের কারণ, পারাপারের ভাড়া বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।






