• ই-পেপার

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ, বিএনপি নেতার সালিসে ৬ হাজার টাকায় রফা!

তিস্তার ভাঙনে কয়েক মাসেই বিলীনের পথে নতুন তীর সংরক্ষণকাজ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
তিস্তার ভাঙনে কয়েক মাসেই বিলীনের পথে নতুন তীর সংরক্ষণকাজ
নরশিং ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিণচড়া এলাকায় নবনির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তার ভাঙনে গত কয়েক বছর ধরে বারবার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিণচড়া এলাকার হাজারো মানুষ। বহু আবেদন-নিবেদনের পর অবশেষে চলতি বছর ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণের কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি টেকসই বাঁধ পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন নদীপাড়ের মানুষ। কিন্তু সেই স্বপ্নও স্থায়ী হলো না। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিস্তার ভয়াল স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে নতুন নির্মিত সেই তীর সংরক্ষণকাজ। ফলে আবারও ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, দ্রুত পানি বৃদ্ধি এবং হঠাৎ পানি কমে যাওয়ার কারণে নদীতীরবর্তী এলাকায় দুর্ভোগের পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডান তীর রক্ষায় নির্মিত গ্রোয়েনের পাশাপাশি এবার তালপট্টি এলাকায় নতুন করে নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজও ভাঙনের মুখে পড়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে তালপট্টি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে। এই বাঁধের ওপর দিয়েই প্রতিদিন তিন গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু গত রোববার থেকে তিস্তার তীব্র স্রোতে বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি অংশে প্রায় এক শ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

পশ্চিম হরিণচড়া এলাকার আব্দুল হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুলু মন্ত্রীক ধরি এদ্দিন পর বাঁধ হইলো। কয় মাসের মাথায় সেটাও যদি নদীত যায়, তাইলে হামারগুলার মরণ ছাড়া বুদ্দি নাই।’

নরশিং এলাকার মতলেব আলী বলেন, ‘বাঁধে যে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হইছে, তাতে আর বেশি দিন টিকবো না। বাঁধটা ভাইঙ্গা গেলে তিন গ্রামের মানুষ আবারও পথে বসবো। হামরা খুব আতঙ্কে আছি।’

হরিণচড়া গ্রামের গৃহবধূ সেলিনা বেগম বলেন, ‘দিনে কোনো রকমে সময় কাটে, কিন্তু রাইতে ভয় লাগে বেশি। বাচ্চাগুলারে নিয়ে ঘুমাইতে পারি না। মনে হয় কখন আবার নদী আইসা ঘরটা ভাসাইয়া নেয়। আর নতুন কইরা ঘর হারাইতে চাই না।’

তালপট্টি এলাকার নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বাঁধটা হওয়ার পর মনে হইছিল এবার বুঝি শান্তিতে থাকমু। কিন্তু এখন চোখের সামনে সেই বাঁধই নদীত যাইতেছে। ভাঙন যদি এভাবেই চলতে থাকে, আবার ঘরবাড়ি সরাইতে হইবো।’

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণের কাজ করা হলেও বরাদ্দ সীমিত থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কম অংশে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। কয়েক দিন ধরে সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরো জিও ব্যাগ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে।’

সাভারে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

সাভারের আমিনবাজারে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমিনবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে সাভার থানাধীন আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী গ্রামের হাজীনগর মহল্লায় মদিনা ভিলা নামক একটি তিনতলা ভবনের ভাড়া বাসা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূর নাম শারমিন আক্তার লিজা (৩৬)।

সাভারের আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী গ্রামের হাজীনগর মহল্লার মদিনা ভিলার তিনতলা ভবনের ভাড়াবাসা থেকে নিহত শারমিন আক্তার লিজার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন বছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ওই কক্ষে নিজের মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তবে ঘটনার সময় তার মেয়ে বাইরে ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করার পাশাপাশি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে : তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে : তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল
ছবি : কালের কণ্ঠ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি বলেছেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল লড়াই করে লাভ হবে না, পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে। বাবার ওপর বোঝা না হয়ে উদ্ভাবন ও ভালো ব্যবসা করতে হবে যাতে আয়ে উন্নতি হয়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানি বাজার, চুনিহাড়ি পশ্চিমপাড়ায় ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশীয় উদ্ভাবনকে কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগাতে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর তৈরি ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সৃষ্টি করে নিজের ও জনগণের আয় বৃদ্ধি করাই উন্নয়ন। যারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে আরো বড় করে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার পাশে দাঁড়াবে, সহযোগিতা করবে।’

দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্ভাবন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তিচালিত এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হলে দেশের কৃষি আরো সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।’

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের আগে মন্ত্রী সোলার সেচপাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

অনলাইন ডেস্ক
খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১
সংগৃহীত ছবি

খুলনার পূর্ব রূপসায় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ষাটোর্ধ্ব হাসান ওরফে বিহারী হাসান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সোয়া ১২টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুবেল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত জাবুসা গ্রামের মৃত সিরমান শেখের ছেলে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসান চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থানের সময় ৪/৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর আতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত যখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রূপসা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ‘হাসান নিহতের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি। মামলা দায়েরের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’