দশানী, জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাঙন। গত এক সপ্তাহের প্রবল ভাঙনে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।
এদিকে, ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। ত্রাণ নয়, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে গেছে, গত এক সপ্তাহে দশানী নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বেড়েছে। এতে প্রবল স্রোত বইছে। স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভাঙন। বিশেষ করে মেরুরচর ইউনিয়নের শেখেরচর, মাইছেনির চর, ভাটি কলকিহারা, ফকিরপাড়া, খেওয়ারচর, জাগিরপাড়া, ঘুঘরাকান্দি, বেতমারী, নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর, সাজিমারা, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইড়মারী, কুতুবেরচর এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা। গাছপালা ও ফসলি জমি চলে গেছে নদীতে। প্রতিনিয়ত ভাঙনে নদীপারের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি, খোলা জায়গায় বাস করছেন অনেকে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা। এখনো সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে ত্রাণ নয়, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান তারা।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কলকিহারা গ্রামের জিনেত আলী, শাহ কামাল, হোসেন মণ্ডল জানান, গত পাঁচ বছরে সাতবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। এবারের ভাঙনে ঘরবাড়ি তোলার জায়গাও অবশিষ্ট নেই। খোলা জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
নদীভাঙন নিয়ে কথা হয় উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল, কালাম, মজমত, শরফত আলী, জাগিপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুস, শেখেরচর গ্রামের আতিকুর রহমান ও কুশলনগর গ্রামের মীর কাসেমের সঙ্গে। তারা বলেন, পানি কমার সময়ও নদী ভাঙে, বাড়ার সময়ও ভাঙে। এ পর্যন্ত তিন-চারবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। এবারো ভাঙনের কবলে পড়েছেন। ত্রাণ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না, তাদের দরকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।
স্থানীয় মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, ‘নদী ভাঙলে মানুষ যে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘পাঁচ-সাতবার করে অনেকের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। জায়গা-জমি সব নদীতে। ছেলেমেয়ে নিয়ে তারা এখন খোলা জায়গায় বসবাস করছেন। ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী।’
মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নদীভাঙনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মেরুরচর ইউনিয়নের মানুষ। এখন নদীতে পানি বাড়ছে, এ কারণে ভাঙন বেড়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করবে বলে জানতে পেরেছি। এ ছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হচ্ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সহায়তা করা হবে।’
নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, ‘সাজিমারা ও কুশলনগর এলাকায় বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতে চলে গেছে ফসলি জমি ও গাছপালা। এলাকাবাসী স্থায়ী সমাধান চায়।’
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে। নদীভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবেন।’
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খানের ভাষ্য, ‘বাঙালপাড়া ও ঘুঘরাকান্দি এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান। ভাঙনকবলিত এলাকার তালিকা রয়েছে, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






