• ই-পেপার

ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, যুবদল নেতাকে নিয়ে তোলপাড়

বকশীগঞ্জে ভাঙন আতঙ্ক

নদীপারের মানুষের নির্ঘুম রাত

স্থায়ী সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

আবদুল লতিফ লায়ন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)
নদীপারের মানুষের নির্ঘুম রাত
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ফকিরপাড়ায় এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে অন্তত ১০টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

দশানী, জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাঙন। গত এক সপ্তাহের প্রবল ভাঙনে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। 

এদিকে, ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। ত্রাণ নয়, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে গেছে, গত এক সপ্তাহে  দশানী নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বেড়েছে। এতে প্রবল স্রোত বইছে। স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভাঙন। বিশেষ করে মেরুরচর ইউনিয়নের শেখেরচর, মাইছেনির চর, ভাটি কলকিহারা, ফকিরপাড়া, খেওয়ারচর, জাগিরপাড়া, ঘুঘরাকান্দি, বেতমারী, নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর, সাজিমারা, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইড়মারী, কুতুবেরচর এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

স্থানীয়রা জানায়, ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা। গাছপালা ও ফসলি জমি চলে গেছে নদীতে। প্রতিনিয়ত ভাঙনে নদীপারের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি, খোলা জায়গায় বাস করছেন অনেকে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা। এখনো  সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে ত্রাণ নয়, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান তারা।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কলকিহারা গ্রামের জিনেত আলী, শাহ কামাল, হোসেন মণ্ডল জানান, গত পাঁচ বছরে সাতবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। এবারের ভাঙনে ঘরবাড়ি তোলার জায়গাও অবশিষ্ট নেই। খোলা জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

নদীভাঙন নিয়ে কথা হয় উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল, কালাম, মজমত, শরফত আলী, জাগিপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুস, শেখেরচর গ্রামের আতিকুর রহমান ও কুশলনগর গ্রামের মীর কাসেমের সঙ্গে। তারা বলেন, পানি কমার সময়ও নদী ভাঙে, বাড়ার সময়ও ভাঙে। এ পর্যন্ত তিন-চারবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। এবারো ভাঙনের কবলে পড়েছেন। ত্রাণ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না, তাদের দরকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।

স্থানীয় মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, ‘নদী ভাঙলে মানুষ যে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘পাঁচ-সাতবার করে অনেকের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। জায়গা-জমি সব নদীতে। ছেলেমেয়ে নিয়ে তারা এখন খোলা জায়গায় বসবাস করছেন। ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী।’

মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নদীভাঙনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মেরুরচর ইউনিয়নের মানুষ। এখন নদীতে পানি বাড়ছে, এ কারণে ভাঙন বেড়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করবে বলে জানতে পেরেছি। এ ছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হচ্ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সহায়তা করা হবে।’

নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, ‘সাজিমারা ও কুশলনগর এলাকায় বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতে চলে গেছে ফসলি জমি ও গাছপালা। এলাকাবাসী স্থায়ী সমাধান চায়।’

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে। নদীভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবেন।’

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খানের ভাষ্য, ‘বাঙালপাড়া ও ঘুঘরাকান্দি এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান। ভাঙনকবলিত এলাকার তালিকা রয়েছে, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় রেখে চিরকুটে হুমকি!

নাটোর প্রতিনিধি
‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা’, দরজার সামনে কাফনের কাপড় রেখে চিরকুটে হুমকি!
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এক পরিবারের দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট রেখে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির রেখে যাওয়া হুমকিমূলক চিরকুটে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ওই পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে আছেন।

বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে আব্দুল গফুরের বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়সদৃশ কাপড় ও চিরকুট রাখা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে কে বা কারা গেটের দরজার সামনে একটি কাফনের কাপড় রেখে যায় এবং সঙ্গে একটি চিরকুট সংযুক্ত করে। বিষয়টি সকালে নজরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

চিরকুটে লেখা, ‘সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। পরে আর নাও সময় পেতে পারিস। আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে ভালো হয়ে যা। আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিক। মানুষের ওপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে আল্লাহ ভীরু হো।’

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আ. গফুর, আ. বারিকসহ অনেকে জানান, হঠাৎ এমন অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর হুমকির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

নলডাঙ্গার ওসি নূরে আলম বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’

মৌলভীবাজারে আপন ভাইকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে আপন ভাইকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম এতথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়শা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।

থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ভুক্তভোগী আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ২৮ জুন আদালতে মতিনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ভাই মজিদ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেদিন সকালে আব্দুল মতিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা পরিকল্পনাকারীর দল তাকে অনুসরণ করে। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এর পর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা রাস্তার ওপর মরদেহ ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান। 
সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরেই স্বামীর হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে খবর পেয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মৌলভীবাজার  সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে হাবিবুর রহমান (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত হাবিবুর রহমান উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত লোকমান মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জুলাই) ভোরে বাড়ির পাশে প্রাকৃতিক কাজে গেলে একটি বিষাক্ত সাপ তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালেই তার মৃত্যু হয়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।