• ই-পেপার

মৌলভীবাজারে আপন ভাইকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫

এইচএসসির প্রথম দিনে কুমিল্লা বোর্ডে অনুপস্থিত ১৭৯৫ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ১

কুমিল্লা প্রতিনিধি
এইচএসসির প্রথম দিনে কুমিল্লা বোর্ডে অনুপস্থিত ১৭৯৫ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ১
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র পরীক্ষায় ১ হাজার ৭৯৫ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহউদ্দিন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৯৩টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ৭৪ হাজার ২৭৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭২ হাজার ৪৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৭৯৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—কুমিল্লায় ৫৮৬ জন, নোয়াখালীতে ৪০১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৩৯ জন, চাঁদপুরে ২৩৭ জন, লক্ষ্মীপুরে ১৮৯ জন এবং ফেনীতে ১৪৩ জন।

প্রথম দিনের পরীক্ষায় নোয়াখালীর একটি কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ বলেন, ‘বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সার্বিকভাবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।’

সিলেটে সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, সিলেট
সিলেটে সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক সুব্রত সাহা বিকাশ।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে ডা. সুব্রত সাহা বিকাশ (৩৩) নামে এক চিকিৎসক নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ডা. সুব্রত সাহা বিকাশ তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা এবং মিহির লাল সাহার ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে এসে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রের বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় চার বন্ধুর মধ্যে তিনজন গোসল করতে নদীতে নামেন। একপর্যায়ে তারা সাঁতার কাটতে কাটতে নদীর প্রবল স্রোতে চলে যান। এ সময় দুজন তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সুব্রত সাহা বিকাশ স্রোতের তোড়ে পানিতে তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

ভোলাগঞ্জ ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

নাটোরে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দের পর পুড়িয়ে ধ্বংস
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় ‘নদী বাঁচান, মাছ বাঁচান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।

অভিযানকালে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০ মিটার এবং এগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযান শেষে জব্দ করা নিষিদ্ধ জালগুলো বিধি অনুযায়ী ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী আবু রায়হান বলেন, চায়না দুয়ারি জাল নদীর প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত করে এবং ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে আটকে ফেলে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবীর হোসেন বলেন, ‘দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ক্ষতিকর ও অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মাছের প্রজনন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়েছেন এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাসফিয়া এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারেননি। এরপর এক পরিচিত যুবকের সহায়তায় এআই ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করেন। সেই প্রবেশপত্র নিয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে যান।

কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় এর কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রবেশপত্রটি জাল।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির বলেন, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পর এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের সতর্কতায় বিষয়টি ধরা পড়ে।

তিনি আরো জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীর প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপরাধে জড়াবেন না—এই মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।