ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯ হাজার ২৬৬টি গবাদিপশু। উপজেলার চাহিদার তুলনায় ৩২৬টি পশু বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার পাকুন্দিয়ার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে ২ হাজার ৯৯১টি খামারে কোরবানির পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ হাজার ৬৯৩টি গরু, ২৪টি মহিষ, ৪ হাজার ৩৮০টি ছাগল ও ১৬৯টি ভেড়া। উপজেলায় কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা ১৮ হাজার ৯৪০টি পশু।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খামারি ও গৃহস্থদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পশুকে হৃষ্টপুষ্ট করতে গমের ভূষি, ছোলা, খেসারি ও মসুরের ভূষিসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও সময়মতো খাবার দেওয়ার মতো কাজেও বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন খামারিরা।
দরগা বাজার এলাকার রুবেল এগ্রো ফার্মের মালিক রুবেল মিয়া বলেন, তার খামারে ৪০টি গরু রয়েছে। তিনি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন পালন করছেন। তিনি গরুগুলোকে গমের ভূষি, ছোলা, খেসারি ও মসুরের ভূষি খাওয়াচ্ছেন। সবগুলো গরুই স্থানীয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনে খামারে এনে লালন পালন করছেন তিনি।
মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের খামারি রিপন মিয়া জানান, কোরবানির জন্য তিনি ১৬টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তবে গোখাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে গরু এলে বাজারদর কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তিনি।
আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে সুখবর
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলী আকবর বলেন, কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহার না করতে খামারিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। অসুস্থ বা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশু যাতে বাজারে বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি থাকবে।