• ই-পেপার

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৮.৩ ডিগ্রি

মেঘনাপারের ‘মিনি কক্সবাজারে’ অবৈধ স্থাপনা

বিপাকে পড়তে হচ্ছে দর্শনার্থীদের প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আমানত উল্যাহ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
মেঘনাপারের ‘মিনি কক্সবাজারে’ অবৈধ স্থাপনা
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মিনি কক্সবাজার খ্যাত আলেকজান্ডার মেঘনা তীরে গড়ে উঠেছে বহু অবৈধ স্থাপনা। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে ২০০ গজ হেঁটে গেলেই মেঘনা নদী। নদীর তীর ব্লক দিয়ে বাঁধাই করে সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে জায়গাটি পরিণত হয় বিনোদন কেন্দ্রে। সমুদ্র সৈকতের রূপ পাওয়ায় এটি একসময় পরিচিতি পায় মিনি কক্সবাজার হিসেবে।

জায়গাটি মূলত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার মেঘনাতীর। হাজারো দর্শনার্থীতে মুখর থাকলেও সেখানে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ঘরতে আসা মানুষদের।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত বেড়িবাঁধ ঘিরে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে দর্শনার্থীদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ঢালু অংশ ঘেঁষে চটপটি, ফুসকা, চা ও খেলনার অসংখ্য স্থায়ী দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। 

নদীতীরে চোখে পড়ে বাগানবাড়ী ফুড কর্নার, বিসমিল্লাহ চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, হিমেল হাওয়া চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, আলাউদ্দিন চটপটিসহ বিভিন্ন দোকানপাট। রয়েছে চায়ের দোকান, খাবারের হোটেল ও খেলনার দোকানসহ দুই শতাধিক দোকানপাট।

দর্শনার্থীরা জানান, তীরে হাঁটাচলার জায়গায় এসব দোকানপাট নির্মাণ করায় দর্শনার্থীদের চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। চলাচলের জায়গা না থাকায় নদীর তীর ঘেঁষে ব্লকের ওপর চলাচল করতে হয় দর্শনার্থীদের। এতে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় শিশুদের নিয়ে চরম বিড়ম্ভনার শিকার হচ্ছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। এমনকি প্রশাসনের কোনো তদারকিও নেই। ফলে দখলবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, বিনোদন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় দোকানগুলোর বর্জ্য সরাসরি মেঘনা নদীতে ফেলা হয়। এতে ওই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, কক্সবাজার বা নারায়ণগঞ্জের মেঘনাপারের মতোই আলেকজান্ডার ‘মিনি কক্সবাজার’  অবৈধ দখলমুক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে। স্থানীয়রা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন স্পটটির সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছে।

নাজমুন নাহার নামের এক দর্শনার্থী বলেন, চলাচলের জায়গায় দোকান বসেছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখানে আসার পর আতঙ্ক করছে। ব্লকের ওপর বাচ্চারা ছিটকে পড়লে সোজা মেঘনা নদীতে গিয়ে পড়বে। 

আইরিন সুলতানা নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তদারকি নেই। নইলে এই জায়গায় এত দোকান কীভাবে বসল।’ 

দর্শনার্থী শরীফ হোসেন বলেন, ‘মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দোকান বসানো হয়েছে। এগুলো দেখতে খুব খারাপ লাগছে, পরিবেশ অসুন্দর হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের উচিত এখনি এসব দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া।’

দোকানদার আলাউদ্দিন ও জুয়েল হোসেন দুধা বলেন, ‘এখানে একটি চক্র রয়েছে। তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই সবাই দোকান নির্মাণ করেছেন। এখন প্রশাসন সরিয়ে দিলে কিছুই করার নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নদীতীরে রাখা যাবে না। চলাচলের জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে।’ 

নবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
নবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাড়ভাঙ্গা ব্রিজের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের চর শৈল্যা গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ (৪৫) এবং তার একমাত্র ছেলে সাদ চৌধুরী (১৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মোটরসাইকেলে করে নবাবগঞ্জ থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন হারুন অর রশিদ ও তার ছেলে সাদ। পথে হাড়ভাঙ্গা ব্রিজের ঢালে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাবা-ছেলে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় চর শৈল্যা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, হারুন অর রশিদ শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। বাবা-ছেলের একসঙ্গে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি শনাক্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।’

সিলেটে বড়শিতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত ২, নিখোঁজ ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে বড়শিতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত ২, নিখোঁজ ১

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গয়াসি হাওরে নৌকায় বসে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় নৌকায় থাকা তাদের আরেক সঙ্গী বজ্রাঘাতে আহত হয়ে পানিতে পড়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহতরা হলেন মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কালারবাজার এলাকার কামালপুর গ্রামের সাবির আলী (৪০) এবং হামিদ মিয়া (৪৫)। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম কাবিন মিয়া।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গয়াসি হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা থেকে তারা তিনজন ফেঞ্চুগঞ্জে আসেন মাছ ধরতে। এরপর গয়াসি হাওরে নৌকায় বসে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় বজ্রপাত হয়। এতে সাবির আলী ও হামিদ মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় বজ্রপাতের আঘাতে কাবিন মিয়া পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান শুরু করে।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, ‘মৌলভীবাজার থেকে তিনজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গয়াসি হাওরে মাছ ধরতে আসেন। এ সময় বজ্রপাতে দুজন নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধার অভিযান চলছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গয়াসি হাওরে কাজ করছে।’

রৌমারী সীমান্ত থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর দুই শিশুসহ নারীকে উদ্ধার করল বিজিবি

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
রৌমারী সীমান্ত থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর দুই শিশুসহ নারীকে উদ্ধার করল বিজিবি
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে পুশ ইনের শিকার নারী তার সন্তানদের পানি খায়োচ্ছে।

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশ ইনের শিকার একই পরিবারের ৪ সদস্যকে ৯৬ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সীমান্তের শূন্যরেখায় এখনো পাঁচজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা ৪ জন হলেন, বেলাল হোসেন (২৮), তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)।

তবে কিভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় তাঁদের শূন্যরেখা থেকে সরানো হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর থেকে একটি গাড়ি আসে। ওই গাড়িতে করে শূন্যরেখা থেকে দম্পতি ও তাঁদের দুই শিশুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। সাদা প্রাইভেটকারের পাশাপাশি বিজিবির একটি গাড়িও ছিল। তবে তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।’

তিনি আরো জানান, ‘শূন্যরেখায় এখনো দুই যুবক অবস্থান করছেন এবং ওই এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের টহল অব্যাহত রয়েছে।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, ‘প্রতিদিন মাঠে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের একনজর দেখে আসতাম। আজ সকালে গিয়ে দেখি দুজন রয়েছেন। শুনেছি, বাকি চারজনকে বিজিবি নিয়ে গেছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বৃহস্পতিবার সকালে দম্পতি ও তাঁদের দুই সন্তানকে রৌমারী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের স্বজনদের কাছে পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই শিশুসহ স্বামী-স্ত্রীকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। পরে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজন এবং এ সীমান্তে দুজনসহ মোট পাঁচজন এখনো ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যেই শূন্যরেখায় দিন কাটাচ্ছেন।’

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

এ বিষয়ে ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের পাশে ছয়জন এবং ১০৬৬ পিলারের পাশে তিনজনসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তাঁরা সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে আটকে পড়েন। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচেই তাঁরা অবস্থান করে আসছিলেন।

তাঁদের মধ্যে দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৪ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনো ৫ জন খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
 

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৮.৩ ডিগ্রি | কালের কণ্ঠ