• ই-পেপার

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৮.৩ ডিগ্রি

লালপুর

মাঠ পেরিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি, পাঠদান বন্ধ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
মাঠ পেরিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি, পাঠদান বন্ধ
কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নাটোরের লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্লাবিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষেও এখন হাঁপানি। বৃহস্পতিবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় অবস্থিত লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মেঝে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সেখানে হাঁটুসমান পানি দেখতে পায়। পরে বিষয়টি তারা প্রধান শিক্ষককে জানায়। একপর্যায়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পাঠদান বন্ধ রাখার কথা বলে প্রধান শিক্ষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি লালপুর বাজারের পাশে অবস্থিত। বাজারের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমি নিচু হওয়ায় বাজারের পানি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। পানি অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।  বৃষ্টি একটু বেশি হলেই সেই পানি ঢোকে শ্রেণিকক্ষে। 

লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাজা শামীম ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ তলিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় সাময়িক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পানি নেমে গেলে পুনরায় স্বাভাবিক হবে পাঠদান।’

এদিকে, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম রবি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বারবার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকতউল্লাহ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ  সরজমিন পরিদর্শন করে প্রধান শিক্ষককে জলবদ্ধতা নিরাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মো. রবিউল ইসলাম রবি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বারবার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৫

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৫
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সময় ইয়াবা পাচারে জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে পদুয়ারবাজার এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে একটি কাভার্ডভ্যান কেটে ইয়াবার চালান উদ্ধার করে পুলিশ। আটকরা হলেন-  কাভার্ডভ্যানের মালিক সিরাজগঞ্জের শিপন শেখ, প্রাইভেটকার চালক রুবেল, যাত্রী সোহেল রানা, কাভার্ডভ্যান চালক মোজাহের শেখ এবং হেলপার সুরুজ হোসেন। দৃপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ গণমাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারের স্কটের মাধ্যমে ইয়াবার চালান ঢাকায় যাচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা প্রাইভেটকারটির চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করেন যে, একটি কাভার্ডভ্যানে লবণ পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পদুয়ারবাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হয়। পরে গাড়িটির উপরের অংশে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬টি প্যাকেট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

পানি-কাদার মধ্যে প্যালাসাইটিং নির্মাণ

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
পানি-কাদার মধ্যে প্যালাসাইটিং নির্মাণ
ভাঙ্গুড়ায় পানি ও কাদার মধ্যে ব্রিক প্যালাসাইটিং নির্মাণের দৃশ্য; ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে সংগৃহীত।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে পানি ও কাদার মধ্যে ব্রিক প্যালাসাইটিং নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি সড়কের কার্পেটিং ও ভাঙনরোধী কাজের জন্য ৫৭ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে উপজেলা প্রকৌশল অফিস। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান পাবনার ঠিকাদার সিহাব হোসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে দ্রুত বিল উত্তোলনের উদ্দেশ্যে নিম্নমানের ও দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পানি ও কাঁদার মধ্যেই ব্রিক প্যালাসাইটিংয়ের কাজ করতে দেখা যায়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশের পুকুরের পানি পুরোপুরি অপসারণ না করেই মাটি দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ফলে পুকুরের পানি প্যালাসাইটিংয়ের বেজে জমে থাকে। ওই অবস্থায় কংক্রিট ঢালাই ও ইট বসানোর কাজ চলতে থাকে। কাদামাটির কারণে অনেক ইট মাটির ভেতরে বসে যেতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রকৌশল অফিসে অভিযোগ করেছেন বলেও জানা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সিহাব হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, “পানি ও কাদার মধ্যে প্যালাসাইটিং করার অভিযোগ অফিসে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হালুয়াঘাট

৬ মাস ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না অধ্যক্ষ, দুর্নীতির অভিযোগ

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
৬ মাস ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না অধ্যক্ষ, দুর্নীতির অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

কোনো প্রকার ছুটি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানে আসেন না ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। অধ্যক্ষের বিষয়ে অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা শিক্ষা অফিস।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরেজমিন ওই বিদ্যালয়ে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শিক্ষক হাজিরা খাতায় অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিনের উপস্থিতির স্বাক্ষর নেই।  

প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষিক হোসনে আরা লাভলী বলেন, ‘অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন বিগত ১৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যায়ের কোনো হিসাব দেননি। আমি গত বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। সেটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।’ 

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘ল্যাব অপারেটর, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া, সহকারী প্রধান, পাঠাগার ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ বাবদ ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করেন। শুধু তাই নয় কার কাছ থেকে কতটাকা নিয়েছেন সেটি আবার প্রতিষ্ঠানের পেডে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন। যা সকলের কাছেই রয়েছে। আমরা দাবি জানাই, সঠিক তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের প্রধান না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবক না থাকলে একটি প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চলতে পারেনা। আমরা শিক্ষকরাই কোন রকম চালিয়ে নিচ্ছি। আমরা এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সে দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থতার অজুহাতে প্রতিষ্ঠানে আসেনা। আমি বলেছি, যেহেতু তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেনা এজন্য তার বেতন বন্ধ করা হোক। বেতন বন্ধ আমার এখতিয়ারে নাই। অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানে না এসে অন্যায়ভাবে বেতন নিচ্ছে। তার বিষয়ে উপজেলার সকলেই অবগত আছে।’

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আজকেই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দিচ্ছি। এবং তার বেতন বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৮.৩ ডিগ্রি | কালের কণ্ঠ