• ই-পেপার

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিশাল মাহফিল

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী

কাভার্ড ভ্যানে লবণের আড়ালে ইয়াবা পাচার, আটক ৫

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কাভার্ড ভ্যানে লবণের আড়ালে ইয়াবা পাচার, আটক ৫
ছবি: কালের কণ্ঠ

লবণ পরিবহনের আড়ালে কাভার্ড ভ্যানে লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

আটকরা হলেন কাভার্ড ভ্যানের মালিক সিরাজগঞ্জের শিপন শেখ, প্রাইভেট কার চালক রুবেল, যাত্রী সোহেল রানা, কাভার্ড ভ্যান চালক মোজাহের শেখ এবং হেলপার সুরুজ হোসেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান জানান, চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে একটি প্রাইভেট কারের স্কটের মাধ্যমে ইয়াবার চালান ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল প্রাইভেটকারটির চালক ও যাত্রীদের সন্দেহজনক ভাবে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করেন, একটি কাভার্ড ভ্যানে লবণ পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে।

তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পদুয়ারবাজার এলাকায় কাভার্ড ভ্যানটিকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এক পর্যায়ে গাড়িটির ওপরের অংশে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬টি প্যাকেট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এসপি আনিসুজ্জামান জানায়, ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। ইয়াবা পাচারচক্রের সঙ্গে আরো কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

যমুনা নদীতে গোসলে নেমে ২ শিশু নিখোঁজ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
যমুনা নদীতে গোসলে নেমে ২ শিশু নিখোঁজ
ছবি : কালের কণ্ঠ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশু নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ শিশুরা হলো—উপজেলার রাধানগর গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে ইসমাইল মিয়া (৭) এবং একই গ্রামের শামীম মিয়ার ছেলে ওসমান (৮)।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, তীব্র গরমের কারণে দুপুরে ৪ থেকে ৫ জন শিশু একসঙ্গে যমুনা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতে ইসমাইল ও ওসমান তলিয়ে যেতে থাকে। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তবে এর আগেই দুই শিশু নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ডুবুরি ইউনিটও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

এদিকে দুই শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদীর তীরে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ দুই শিশুকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নৌ পুলিশের অভিযান

সাত দিনে ১ কোটি ৬৯ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ, গ্রেপ্তার ১২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাত দিনে ১ কোটি ৬৯ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ, গ্রেপ্তার ১২৯

দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং নৌ-পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ৭ দিনে দেশব্যাপী চালানো অভিযানে ১২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ মিটার অবৈধ জাল, ৫ হাজার ৩০২ কেজি মাছ, ৩ লাখ ৫ হাজার পিস চিংড়ির রেণু, ১ লাখ ১০ হাজার পিস রেণু পোনা, ৭১০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি এবং ২৪৬ কেজি রং মিশ্রিত শিং মাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া নদী থেকে ১৪৬টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানের সময় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১০টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। অভিযানে ৩৭টি মৎস্য আইন, আটটি বেপরোয়া গতি আইন, পাঁচটি বালুমহাল আইন, দুটি মাদক, পাঁচটি অপমৃত্যু, একটি ডাকাতি, একটি অপহরণ এবং একটি হত্যা মামলাসহ মোট ৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ে নৌ পুলিশ ৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

নৌ পুলিশ জানায়, জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের রেণু ও পোনা পানিতে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং জব্দ করা অবশিষ্ট মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং নদী ও নৌ-পথে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সুনামগঞ্জ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর অভিযোগ

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট তৈরি করে এক কিশোরকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (১৭ জুন) রাতে জামালগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরের বড় ভাই আলী মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামধরপুর গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে ছামিরুল ইসলামকে (১৫) সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একই গ্রামের বর্ষা (২৮) নামের এক নারী নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দাবি করেন। পরে সেই দাবির সমর্থনে ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট তৈরির চেষ্টা করেন তিনি।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট তৈরির প্রস্তাব দেন ওই নারী। তবে একাধিক স্থানে ব্যর্থ হওয়ার পর কৌশল পরিবর্তন করে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সঙ্গে নিয়ে জামালগঞ্জের মেহেরুন্নেছা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান তিনি। সেখানে ওই নারীর আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেন বর্ষা। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান তিনি।

মেহেরুন্নেছা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মিসবাহ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় অভিযুক্ত নারীর নামে কোনো রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।

মেডিকো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. এফাউল মিয়া বলেন, একজন নারী ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেন। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।

অভিযোগকারী আলী মিয়া বলেন, আমার ভাই এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাকে ফাঁসিয়ে আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

অভিযুক্ত বর্ষা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মানহানির মামলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী | কালের কণ্ঠ