• ই-পেপার

সার লুটের অভিযোগে ছাত্রদলের ২ নেতা বহিষ্কার

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। কমিটিকে উপাচার্যের নিকট দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বলা হয়েছে।

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীকে আহ্বায়ক এবং একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মাছুদুল হক তালুকদারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (পি আর এল) ড. আশরাফুর রহমান ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

জানা যায়, গত ৪ মার্চ বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে শিক্ষিকা রুনার নিজ কক্ষে কর্মচারী কর্তৃক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ৭ মার্চ এ ঘটনা তদন্তে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে সদস্য-সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রিপোর্টের আলোকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে প্রশাসন। 

মাদারীপুরে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা ১১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা ১১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বাড়ির উঠানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্দিক বেপারী (৪০) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। 

আটক সিদ্দিক ওই এলাকার কাদির বেপারীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিদ্দিকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির উঠানে মাটির নিচে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ১১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংরক্ষণের কৌশল হিসেবে এসব ইয়াবা মাটির নিচে রাখা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। তার কারণে এলাকার তরুণ-যুবকদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, এর আগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তারা আটক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় কাতারে নিহত ৫ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় কাতারে নিহত ৫ বাংলাদেশি
সংগৃহীত ছবি

পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে দূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। করেছেন হাড়ভাঙা পরিশ্রম, কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরার আগেই জীবন ঝরে গেছে কাতারের সড়কে। সেই পাঁচ রেমিট্যান্সযোদ্ধা দেশে ফিরেছেন, তবে কফিনবন্দি হয়ে। একই এলাকার পাঁচ সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে কানাইঘাট উপজেলা ছাড়িয়ে সিলেটজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি কেউ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (বিজি-২২৬) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় প্রবাসী পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ। বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে তাদের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।

নিহতরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ (৩৩), একই উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৫), মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৮), আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ (২৭) এবং একই গ্রামের মড়া মিয়ার ছেলে জুবের আহমদ (২৮)। 

সকালে পাঁচ মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। বিমানবন্দরে বাবা জিবাল আহমদের মরদেহের পাশে মুখভার করে চুপচাপ দাঁড়িয়েছিল ছোট্ট পারভেজ ও নিশা। লাশ অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার আগ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্য কফিনের পাশ থেকে সরেনি। এ দৃশ্য দেখে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন জিবালের স্বজনরা।

বিমানবন্দরের ২ নম্বর গেটে লাশ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর মরদেহ বহনকারী পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্সে ছুটে চলে কানাইঘাট উপজেলায়। মরদেহ নিহতদের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয় পরিবারের স্বজন ছাড়াও এলাকাবাসী অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাবা-মাসহ স্বজনরা তাদের শেষবার দেখতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শেষবারের মতো দেখতে অনেকে ভিড় জমান বাড়িগুলোতে।

পরে বাদ জোহর কানাইঘাটের গাছবাড়ি জামিউল উলুম কামিল মাদরাসায় তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। তারা সবাই কাতারের সানিয়া নামক স্থানে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো ওইদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে তারা একটি গাড়িতে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে তাদের বহনকারী গাড়ি শাহানিয়া এলাকায় মহাসড়কে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ভারতীয় গাড়ির চালক ছাড়াও এই ৫ বাংলাদেশি যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর সই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

গোপনে মাদরাসা কমিটি গঠন, কেশবপুরে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
গোপনে মাদরাসা কমিটি গঠন, কেশবপুরে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের কেশবপুরে চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদরাসায় গোপনে গভর্নিং বডির পকেট কমিটি করায় অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকালে মাদরাসার সামনে এলাকাবাসী ওই মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে অংশ নেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, দাতা, অভিভাবকসহ এলাকার সর্বস্তারের মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজউদ্দিন, জমিদাতা আব্দুল হামিদ, অভিভাবক আশুরা খাতুন, রিমা খাতুন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম গোপনে প্রতিষ্ঠাতা, দাতাসহ মাদরাসা শুভানুধায়ীদের বাদ রেখে রাতের আঁধারে পকেট কমিটি করে অনুমোদনের জন্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছেন। যাদের নাম পাঠানো হয়েছে তাদের অনেকেই কিছু জানেন না। এ কারণে মাদরাসার অধ্যক্ষের অবসারণের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। গোপনে পকেট কমিটি করার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরিত ওই কমিটি বাতিলসহ অধ্যক্ষের অবসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।’

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজউদ্দিন বলেন, ‘যে মাদরাসাকে এলাকার মানুষ আগলে রেখেছেন, সেখানে অধ্যক্ষ নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখতে গোপনে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। আমরা এই অবৈধ কমিটি মানি না এবং দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।

জমিদাতা আব্দুল হামিদ তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এলাকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমরা পৈতৃক জমি দান করেছি। কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। কমিটি গঠনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতির বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন ছাড়ব না।’

মানববন্ধনে এলাকার নারী অভিভাবকরাও অংশ নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তব্যে অভিভাবক আশুরা খাতুন ও রিপা খাতুন বলেন, ‘এলাকার অভিভাবকদের বাদ রেখে যিনি মাদরাসার কমিটি করতে পারেন তার কাছে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। সে কারণে আমরা এমন অধ্যক্ষকে মাদরাসায় দেখতে চাই না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘মাদরাসার সামনে মানববন্ধনকারীরা তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। কমিটি গঠনের বিষয়ে অধ্যক্ষ মহোদয় ভালো বলতে পারবেন।’