• ই-পেপার

শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে

নাকুগাঁও স্থলবন্দর ৪ দিন ধরে বন্ধ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
নাকুগাঁও স্থলবন্দর ৪ দিন ধরে বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ রয়েছে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা নাকুগাঁও স্থল বন্দরের কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে আজ রবিবার (১৪ জুন) পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে এ স্থলবন্দর।

শ্রমিকরা জানান, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কর্মকর্মবিরতির ডাক দেন এবং তা স্থানীয় এমপির আশ্বাসে বিকেল ৪টায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 

এদিকে, কর্মবিরতির পর প্রশাসনের সহায়তায় মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক চলাকালে দুপুরে উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। শ্রমিকরা রাস্তায় মারমুখী অবস্থান নেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে সব সময়ই থাকতো ক্রাশার মেশিনের বিকট শব্দ, সেখানেই এখন চলছে সুনশান নীরবতা। যেখানে প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য থাকার কথা সেখানে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে রাস্তায় অবস্থান করছেন। এই বন্দরে লোড-আনলোড শ্রমিক রয়েছেন প্রায় সাত শতাধিক।

নাকুগাঁও লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল ছামাদ জানান, তেলের দাম বাড়ার পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরবর্তীতে চিঠি দিয়ে আমরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানাই। এতে সাড়া না পেলে গত ৮ জুন চিঠির মাধ্যমে আবারও আমরা মজুরি বৃদ্ধিসহ বেশকিছু দাবি-দাওয়ার কথা উল্লেখ করি। এতেও সাড়া না পেলে আমরা বৃহস্পতিবার কর্মবিরতিতে যাই এবং সেদেনিই স্থানীয় এমপির আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করে নেই। কিন্তু তারপরও আমদানিকারকরা অঘোষিতভাবে আমদানি বন্ধ রেখেছে। এতে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে আছে, আমরা এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল আমদানি বন্ধ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ভারতের রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে তাই আমদানি বন্ধ। রাস্তা ঠিক হলে আমদানি শুরু হবে।’

তিনি আরো জানান, শ্রমিকদের দাবি আমরা সবসময় সহানুভুতির সঙ্গে বিবেচনা করি। তবে এবার তারা যে দাবি জানিয়েছেন তা অযৌক্তিক। অন্যান্য বন্দরের মতোই আমরা মজুরি দিয়ে থাকি। কর্মবিরতির ফলে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হতে বসেছে। লোড-আনলোডের বাইরে অন্যান্য শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর পেছনে কোনো অশুভ শক্তি কাজ করছে বলে আমাদের ধারণা।

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

১০ ভেন্টিলেটর মেশিনের মধ্যে ৯টিই নষ্ট, এমপি বাবরের ক্ষোভ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
১০ ভেন্টিলেটর মেশিনের মধ্যে ৯টিই নষ্ট, এমপি বাবরের ক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ ভেন্টিলেটর মেশিনের মধ্যে ৯টিই নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। তিনি বলেন, ২০২০ সালে কোভিডের সময় আইসিইউর সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি বেড প্রস্তুত ছিল, ভেন্টিলেটর, মনিটরসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি ছিল। কিন্তু এখানে যে ভেন্টিলেটরগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো একেবারেই নিম্নমানের ও সস্তা। ফলে চালু করার আগেই সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চালু করতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০টি ভেন্টিলেটর মেশিনের মধ্যে ৯টিই নষ্ট। 

দেশের ১০ জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন উপলক্ষে রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে আয়োজিত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি বাবর বলেন, আইসিইউ যখন করা হয়েছে, তখন এটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জেলা এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা। তাহলে ২০২০ সালে কেন এটি চালু হয়নি? গত ছয় বছর ধরে এখানে যন্ত্রপাতিগুলো কেন অকেজো হয়ে পড়ে ছিল? কেন আমরা এটি চালু করতে পারিনি? 

বাবর আরো বলেন, আমাদের সরকারের বয়স সাড়ে তিন মাসও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আজ সারা বাংলাদেশের ১০টি জেলায় এই আইসিইউ উদ্বোধন হয়েছে, যার মধ্যে গোপালগঞ্জও রয়েছে। ২০২০ সালে যারা এসব ভুয়া যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে আমরা তাদের বিচার চাই। 

এমপি বলেন, গোপালগঞ্জবাসী গত ছয় বছর কেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত হলো? বিগত সরকার কি করেছে? কেন এই ছয় বছর আইসিইউটি চালু করা হয়নি?

গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের সাবেক পিডি এবং গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. অসিত মল্লিকের নাম উল্লেখ করে এমপি বাবর বলেন, ডা. অসিত মল্লিক গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি লুটপাট করে খেয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে ডা.অসিত মল্লিক বলেন, এই প্রকল্প ডিজি অফিস থেকে গ্রহণ করা হয়। এটা শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশেই হয়েছে।  পিডির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এখানে আমার বা লোকাল কোনো অফিসারের হস্তক্ষেপ ছিল না। 

ধুনটে নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধুনটে নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বাঙ্গালি নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজের এক দিন পর মারজিয়া খাতুনের (৬) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে তার স্বজনরা। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলায় বাঙালি নদীর বথুয়াবাড়ী ব্রিজের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত মারজিয়া খাতুন উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে মারজিয়া খাতুন বাড়ির পাশে বাঙ্গালি নদীর দাবুর বাড়ির ঘাট এলাকায় অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে সে নদীর কূলে পানিতে নামে। সাঁতার না জানায় নদীর প্রবল স্রোতে সে পানিতে তলিয়ে যায়। অন্য শিশুদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

পরে খবর দেওয়া হলে ধুনট উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রাজশাহী থেকে ডুবুরিদল এনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও ওই শিশুর খোঁজ পায়নি। এ অবস্থায় নিখোঁজ শিশুর স্বজনরা রবিবার সকাল থেকে নদীতে ওই শিশুকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার ভাটিতে বথুয়াবাড়ি ব্রিজের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় শিশুটির মৃতদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

নাটোরে বিপুল ভেজাল মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ, বিক্রেতাকে জরিমানা

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর
নাটোরে বিপুল ভেজাল মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ, বিক্রেতাকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের নলডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল ও যৌন উত্তেজক ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। রবিবার (১৪ জুন) দুপুর ২টায় দিকে নলডাঙ্গা পৌর বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ এক ওষুধ বিক্রেতাকে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল ও যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া যায়। পরে ভোক্তা অধিকার ও ওষুধ সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই জরিমানা আরোপ করেন। 

আটক ব্যক্তি হলেন নাটোর সদর উপজেলার হাজরা এলাকার মৃত ফয়েজ উদ্দিন সরদারের ছেলে ফজল সরদার (৪৮)। তিনি একজন ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা।

নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমেদ লেলিন বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে প্রায় লক্ষাধিক টাকার  জব্দকৃত ভেজাল ওষুধ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের বৈধ ও নির্ধারিত মেয়াদের ওষুধ বিক্রির আহ্বান জানান। 

উপজেলা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আশিকুর রহমান অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের জেল প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান আমাদের অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও ওষুধ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে | কালের কণ্ঠ