• ই-পেপার

‘প্লট জালিয়াতি’ করে অলি আঙুল ফুলে কলাগাছ

  • হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক অলি

তিন মাস পর চালু হলো ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
তিন মাস পর চালু হলো ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল
ছবি: কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনরায় উদ্বোধন করা হয়।

হাসপাতাল পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রণজিৎ চন্দ্র শীল।

এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ডানকানস গ্রুপ পরিচালিত ৫০ শয্যার এ দাতব্য হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে শমশেরনগরসহ আশপাশের চা বাগান এলাকার শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে গত ২৭ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও চা-শ্রমিক পরিবারের সদস্য ঐশী রবিদাসের (১৪) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথাব্যথাজনিত সমস্যার কারণে ২৬ মার্চ রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে স্বজন ও শ্রমিকদের একটি অংশ ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শন, ফুলের টব ভাঙচুর এবং চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করলে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

kk

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শমশেরনগর, মাধবপুর, কালিঘাট, পাত্রখোলা, আলীনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন চা বাগানের হাজারো শ্রমিক পরিবার প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যেতে হতো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘চা-শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ হাসপাতালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। হাসপাতাল পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয়।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চা বাগান অধ্যুষিত এ অঞ্চলের মানুষের জন্য হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি রণজিৎ চন্দ্র শীল জানান, প্রাথমিকভাবে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে রোগীদের মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্রেনের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ট্রেনের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আন্তঃনগর জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের হুক ভেঙে ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১২ টা ২০ মিনিটে উপজেলার পাগলা থানার শহীদনগর পশ্চিম গোলাবাড়ি বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভুয়াপুর গামী আন্তঃনগর জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি শহীদ নগর এলাকায় পৌঁছলে চলন্ত অবস্থা হঠাৎ ট্রেনটির ইঞ্জিন ও যাত্রীবাহী বগির সংযোগ স্থল হুক ভেঙে যায়। ইঞ্জিন কিছু দূর যাওয়ার পর চালক খোঁজ পেলে পুশব্যাক করে নিয়ে আসে।

ওসি আকতার হোসেন আরো বলেন, এই ঘটনা ঢাকা -ময়মনসিংহ রুটে সাময়িক ভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভেঙে যাওয়া হুক মেরামতের কাজ চলছে আশা করছি দ্রুতই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

শ্রীনগর

পদ্মায় কচুরিপানার দাপট, নৌযান চলাচল ব্যাহত

ভাগ্যকূলের নৌরুট প্রায় বন্ধ  স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

অধীর রাজবংশী, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)
পদ্মায় কচুরিপানার দাপট, নৌযান চলাচল ব্যাহত
উজান থেকে দলে দলে কচুরিপানা ভেসে আসায় পদ্মার বিভিন্ন রুটে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ভাগ্যকূল বাজারের ঘাটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

উজান থেকে দলে দলে ভেসে আসছে কচুরিপানা। এতে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কচুরিপানার দাপটে উপজেলার ভাগ্যকুল বাজারের নৌরুট প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।  

দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদারসহ  এলাকাবাসী। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মার চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ ভাগ্যকুল বাজারে আসেন। তবে ঘাট এলাকায় কচুরিপানা জমে থাকায় কোনো নৌকা বা ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চলতে পারছে না। ফলে চরাঞ্চলের মানুষকে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে বাঘড়া হয়ে ভাগ্যকূল বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, দুর্ভোগে পড়েছে নদীপাড়ের  মানুষ। প্রায় দেড় মাস ধরে এ অবস্থা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে সূত্র জানায়। 

ভাগ্যকুল হাটবাজার ও ঘাটের ইজারাদার মোতালেব হোসেন আরিফ বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে একটি নৌকা কিংবা ট্রলারও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এতে ঘাটের আয় একেবারেই কমে গেছে। ১০ লাখ টাকার ইজারা নিয়ে এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।

আরিফ আরো বলেন, সম্প্রতি নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে চাল বোঝাই করে ট্রলারে ভাগ্যকূলে আসার সময় যেখানে ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে কচুরিপানা ঠেলে আসতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। এ সময় ট্রলারের একটি ইঞ্জিনও বিকল হয়ে যায়।

ভাগ্যকূল বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি আয়নাল হক বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ মাছ, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে আসতেন। কিন্তু এখন প্রায় দুই কিলোমিটার কচুরিপানা ঠেলে আসা সম্ভব নয়। তাই অনেকেই আর আসতে চান না। অনেকে বাধ্য হয়ে বাঘড়া ঘুরে বাজারে আসতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত থাকায় বাজারে ক্রেতা ও পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মুখরতা হারিয়েছে  একসময়ের প্রাণচঞ্চল ভাগ্যকূল বাজার। তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী এ বাজারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো  ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল দায়িত্ব নদী ও খাল খননসহ পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজ করা। কচুরিপানা অপসারণ আমাদের দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান বলেন, ‘কচুরিপানার এ সমস্যার বিষয়ে আমাকে আগে কেউ জানায়নি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ঘটনা সত্য হলে সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা ও পিআইওকে সঙ্গে নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বিএনপি নেতা হত্যা‌ মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি

নীলফামারী সংবাদদাতা
বিএনপি নেতা হত্যা‌ মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি
সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা রেজাউল করিম (৪০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা। 

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন নিহতের মা আফরোজা বেগম, ভাই মো. এনামুল হক, মো. ওয়াদুদ মিয়া, আব্দুল মাজেদ ও স্থানীয় নাসির হোসেনসহ অন্যরা।

এ সময় বক্তারা জানান, গত ১ জুন বিকেলে রেজাউল করিম উপজেলার মাগুড়া দোলাপাড়া গড়েরপাড় এলাকায় তার ফুপার বাড়িতে দাওয়াতে যান। সেখানে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার ফুপা আমিনুরের ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিপক্ষরা রেজাউলকে মারধর করে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এ মামলার আসামি  মো. রাকিব ইসলাম, আসাদুজ্জামান বিটু, আব্দুল আজিজ, আক্তারুজ্জামান বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ভিসা প্রতারণা ও থাই খেলার সঙ্গে জড়িত থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থাকার চেষ্টা করছেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

প্রসঙ্গত, নিহত রেজাউল করিম মাগুড়া দোলাপাড়া গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে এবং দোলাপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

‘প্লট জালিয়াতি’ করে অলি আঙুল ফুলে কলাগাছ | কালের কণ্ঠ