• ই-পেপার

ঐতিহ্য

মোগল আমলের কাজীর মসজিদ

ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাইয়েরও মৃত্যু

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাইয়েরও মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ফুটবল খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে আড়াইহাজার উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব পশ্চিমপাড়া এলাকার আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে আকিবুল ইসলাম (১১) ও সোয়াইফ (৯)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বুধবার বিকেলে তার মায়ের সঙ্গে নানির বাড়ি আড়াইহাজারের কলাকাইচ্ছা এলাকায় বেড়াতে যায় তারা। সেখানে (বৃহস্পতিবার) সকালে বাড়ির পাশে ফুটবল খেলছিল তারা। বল পানিতে পড়ে গেলে বল তুলতে গিয়ে প্রথমে ছোট ভাই পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে বড় ভাই পানিতে ঝাঁপ দিলে সেও পানিতে তলিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাড়ির লোকজন তাদের খুজতে গিয়ে না পেয়ে পুকুরে পানিতে বল দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে পুকুরের তলা থেকে একে একে দুই ভাইকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন জানান, পুলিশকে কোনো তথ্য না দিয়েই লাশ তাদের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব পশ্চিমপাড়া এলাকার বাড়ি নিয়ে গেছে নিহতদের স্বজনরা।

মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের, মেয়ে বললেন—‘স্বামীর সঙ্গে আছি’

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের, মেয়ে বললেন—‘স্বামীর সঙ্গে আছি’
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার আদমদীঘিতে নিজের মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন মো. রানা মাসুদ নামের এক পুলিশ কনস্টেবল। তবে ভুক্তভোগী মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেন, ‘তাকে অপহরণের অভিযোগটি মিথ্যা। তিনি স্বামীর সঙ্গে স্বেচ্ছায় আছেন।’

পুলিশ সদস্য মো. রানা মাসুদ ২২ বছর ধরে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত এবং বর্তমানে আদমদীঘি থানায় সংযুক্ত রয়েছেন। গত ১ মে তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ে তাসনিয়া রানা তামান্নাকে (১৭) সকাল ৭টার দিকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি প্রথমে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান এবং পরে মামলা করতে চান।

কনস্টেবল রানা মাসুদের অভিযোগ, মামলা নিতে ঘুষ দাবি করেন ওসি। পরে বিষয়টি তিনি ডিআইজিকে জানালে প্রথমে জিডি ও পরে মামলা রুজু হয়। কিন্তু এক মাসেও তার মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এতে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি একজন পুলিশ সদস্য। আমি বিচার পাচ্ছি না। তাহলে দেশের সাধারণ জনগণ কিভাবে বিচার পাবে।’ অবশেষে অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে, এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারিও ওই কিশোরী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ওই ঘটনায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সোনাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে শহিদ হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় এবং পরে তাকে পিতার জিম্মায় দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে তামান্না জানান, অভিযুক্ত শহিদ হোসেনের সঙ্গে তার প্রায় চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছেন।

তদন্ত শেষে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এরপর ১ মে আবারও সকাল ৭টার দিকে মেয়েটি চলে গেলে তার বাবা পুনরায় অপহরণের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ৭ মে আদমদীঘি থানায় নতুন একটি মামলা রুজু হয়।

এদিকে ভুক্তভোগী তামান্না তার ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘আমার নামে অপহরণের যে মামলাটি দেওয়া হয়েছে এটি পুরোটাই মিথ্যা, ভুল এবং বানোয়াট। বাবা একজন পুলিশ কনস্টেবল হয়ে নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা, গুজব ছড়াচ্ছেন। আসলে আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে ৪ বছরের সম্পর্ক। বাবা এবং আমাদের পরিবারের সদস্যরা এটা মেনে নিচ্ছেন না। এজন্য আমার হাজবেন্ডের নামে পোস্টার ছাপাচ্ছে। তারা যা করছে, সব মিথ্যা।’

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ঘুষ দাবির বিষয়টি মিথ্যা। পুলিশের মেয়ে মানে সে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়ে তার মামলা নেওয়া হয়েছিল। তারপরও তিনি মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে কন্সটেবল রানা মাসুদ থানায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তার মামলাটি ডিবিতে তদন্তাধীন।’ 

একটি জাতির অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর : এমরান সালেহ প্রিন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি জাতির অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর : এমরান সালেহ প্রিন্স
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ‘একটি জাতির অগ্রগতি নির্ভর করে তার শিক্ষিত, নৈতিক ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর। তাই ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা জ্ঞান, মানবিকতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইসলাহুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেফাক বোর্ড, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘সংবর্ধনা শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাফল্য উদযাপনের অনুষ্ঠান নয়; এটি আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের সম্মান জানানোর অনুষ্ঠান। যারা আজ কৃতিত্ব অর্জন করেছে, তারা আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, আলেম, প্রশাসক, উদ্যোক্তা এবং রাষ্ট্রনায়ক।’

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বর্তমান যুগে জ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি। পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের যুগে সবাইকে  প্রস্তুত হতে হবে। কেবল আধুনিক জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদেরকে সততা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হতে হবে। তাহলেই তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’

তিনি বলেন, ইসলাম জ্ঞান অর্জনকে ফরজ করেছে। তাই ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান তাদের অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।’

মাওলানা আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্যসচিব আনিসুর রহমান মানিক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ধোবাউড়া উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বেফাক বোর্ড, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

ডাকবাংলোয় ২ মেয়েসহ পরিছন্নতাকর্মীর মৃত্যু

বরগুনায় বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনায় বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো পরিছন্নতাকর্মী ও তার দুই মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহ হাতে পাওয়ার পরপরই শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্বজনরা। তারা লাশ নিয়ে শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইতি রানী ও তার দুই কন্যা হত্যার বিচার চাই, ‘ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, ‘ফাঁসি চাই-ফাঁসি চাই’সহ নানা স্লোগান দেয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরশহরের কালীবাড়ি এলাকার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।

গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) ও তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। ইতি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)। তিনি বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি সড়কের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সভাপতি আইনজীবী সুশান্ত কুমার বেপারীর সভাপতিত্বে বিকেল ৪টা দিকে একই দাবিতে শহরের প্রধান সড়কের মানববন্ধন করে সর্বস্তরের নাগরিকরা। বরগুনার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে মাসহ ২ শিশুর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন লাশ ময়নাতদন্তে সময়ক্ষেপণ করে মৃত্যুর ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদি এই কাজ করা না হয় তাহলে সারা বাংলাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সহসভাপতি মানিক সিকদার, কালীবাড়ি মন্দির কমিটি উপদেষ্টা মিলন দাস। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সদস্য আইনজীবী বাবুল দাস, বরগুনা আখড়াবাড়ী মন্দির কমিটির সদস্য খোকন কর্মকার, বরগুনা জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুজ্জামান টিপন।

মোগল আমলের কাজীর মসজিদ | কালের কণ্ঠ