চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু জায়ান আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে পটিয়া থানার মোড় এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহত শিশুর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘জায়ান হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ এবং ‘শিশু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’—এমন নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।
সমাবেশে নিহত শিশুর মা জোবাইদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পৃথিবীর আর কোনো মাকে যেন এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’
নিহত জায়ানের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফরিদ আহমদ, মফিজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন, জমির উদ্দীন আজাদ, ছাত্রদল নেতা আলী হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তারা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
একই কর্মসূচি থেকে সম্প্রতি গোবিন্দারখীল এলাকায় নিহত ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়।
পরে নিহত শিশুর বাবা-মা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে ইউএনও ফারহানুর রহমান বলেন, ‘শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। কোনো অপরাধী যাতে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে পটিয়া পৌরসদরের পূর্বপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান আবরার। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর বাড়ির পেছন থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার নৃশংসতার বিষয়টি সামনে আসে। মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।