মেহেরপুর সীমান্তে ৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ
জার্মানির ফরোয়ার্ড লিরয় সানের উল্লাস

খেলা

তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র (সকাল ৮টা)
নরওয়ে-ফ্রান্স (রাত ১টা)
উরুগুয়ে-স্পেন (কাল ভোর ৬টা)
নিউজিল্যান্ড-বেলজিয়াম (কাল সকাল ৯টা)
ইংল্যান্ড-পানামা (রাত ৩টা)
আর্জেন্টিনা-জর্দান (রবিবার সকাল ৮টা)
বন্যার শঙ্কা উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদীসংলগ্ন এলাকায় আগামী সপ্তাহের শুরুতে বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। উজানের ভারি বৃষ্টিপাত ও দেশের অভ্যন্তরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতে এমন বন্যার শঙ্কা করছেন এই কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গতকাল বৃহস্পতিবার এই কেন্দ্রের সাপ্তাহিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে উজানের ঢলের পানি যোগ হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায় এবং বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী সাত দিন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতসহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উত্তরাঞ্চলীয় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় তিস্তা, ধরলা-দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা, কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নদ-নদীর পানি সমতল ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নদী অববাহিকায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কোথাও কোথাও মাঝারি ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাজশাহী ও নীলফামারী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। এবং এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকলেও বৃষ্টিপাত মূলত দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হচ্ছে। এ কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে, যা চলমান থাকতে পারে। পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি শুরু হলে তাপপ্রবাহ কমে আসবে।
তিনি আরো জানান, দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে আগামী সপ্তাহের শুরুতে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই জায়গায় আগের দিন তা ছিল ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশে ৬২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় রংপুরের ডিমলায় ৮৯ মিলিমিটার।
কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশ
প্রি-পেইড মিটারের টোকেন ভোগান্তি কমাতে হটলাইন

প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ টোকেনের অতিরিক্ত ডিজিট নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রাহকদের সহায়তায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার হটলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ টোকেন আপডেটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
গত ২৩ জুন কালের কণ্ঠের শেষ পাতায় ‘এক রিচার্জে ১৮০-২০০ ডিজিট, বিপাকে গ্রাহক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার পর অনেক গ্রাহক রিচার্জের সময় প্রচলিত ২০ ডিজিটের পরিবর্তে ১৮০ থেকে ২৪০ ডিজিট পর্যন্ত টোকেন নম্বর পাচ্ছেন। দীর্ঘ এই নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বারবার ভুল হচ্ছে। তাতে অনেক ক্ষেত্রে মিটার লক হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর তা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রি-পেইড মিটার রিচার্জে বাড়তি টোকেন নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির সংবাদটি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। গ্রাহকদের সহযোগিতার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগসহ ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের হটলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।’
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার কারণে অনেক গ্রাহককে মিটারে ২০০ বা তার বেশি ডিজিটের টোকেন আপডেট করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সহায়তার জন্য হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগের আহবান জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত হটলাইন নম্বরগুলো হলো—বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা ১৬৯৯৯, বিপিডিবি কল সেন্টার ১৬২০০, পবিবো কল সেন্টার ১৬৮৯৯, ডিপিডিসি লিমিটেড কল সেন্টার ১৬১১৬, ডেসকো লিমিটেড কল সেন্টার ১৬১২০, নেসকো লিমিটেড কল সেন্টার ১৬৬০৩ এবং ওজোপাডিকো লিমিটেড কল সেন্টার ১৬১১৭।
