• ই-পেপার

‘মেয়েটি আমার পুত্রবধূ দাবি করে ঘরে উঠেছে’

শেরপুরে ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

শেরপুর সদর উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে কাদার মধ্যে আংশিক পুঁতে রাখা অবস্থায় কাজল মিয়া (৪৪) নামের এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারি এলাকার জোড়া পাম্পের পূর্বপাশের একটি রাস্তার পাশের ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত কাজল মিয়া উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন মুসল্লি ধানক্ষেতের কাদার মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে খবর দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহের গায়ে গেঞ্জি, শার্ট ও লুঙ্গি ছিল। গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি আংশিকভাবে মাটিচাপা দেওয়া ছিল। পাশেই এক জোড়া রাবারের জুতা পড়ে ছিল।

স্থানীয়দের ধারণা, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশে কাজল মিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহটি ধানক্ষেতের কাদায় পুঁতে রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মমিন মেম্বার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি ধানক্ষেতের মধ্যে আংশিক মাটিচাপা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে বের হওয়ার পর কাজল মিয়া আর বাড়ি ফেরেননি। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।’

রাস্তায় ফেলে যাওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
রাস্তায় ফেলে যাওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু
ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া শতবর্ষী অন্ধপ্রায় বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, ভরণপোষণ ও দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি পরিবারের অবহেলার শিকার হন। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে আলাদা থাকেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও দুই ছেলের নামে লিখে দেওয়ার পর তার অবস্থান আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

মফিজ উদ্দিন তার বড় ছেলের বাড়িতে থাকতেন। তবে ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে থাকা নাতনি ও তার স্বামী বৃদ্ধের দেখাশোনা করতে অনাগ্রহী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় তারা তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্দেশে গভীর রাতে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। পরে তাকে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বৃদ্ধের নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, যতদিন প্রয়োজন ততদিন মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন। এছাড়া দ্রুততার জন্য সরকারি বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মেয়ের বাড়িতে সমস্যা হলে তার জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা পরিবারের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ ঘটনাকে পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ উল্লেখ করে অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগকে মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে উপপরিচালক আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি কিশোরগঞ্জ উপজেলার কিশামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

অফিস আদেশে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিস সময়কে লোক দেখানো শোপিস বললেন প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে একটি অনলাইন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিদ্যালয়ে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা সরকারি কর্মচারীর শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ধারায় অসদাচরণের অভিযোগে এবং একই বিধিমালার ১২(১) বিধান অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বরখাস্তকালীন সময়ে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি বর্তমান কর্মস্থল বা নির্ধারিত ঠিকানার বাইরে যেতে বা অবস্থান করতে পারবেন না বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নড়াইলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইল সদর উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোস্তফা কাজী (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোস্তফা কাজী মহারাগ গ্রামের আকমল কাজীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (২৯ জুন) ভদ্রবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ভদ্রবিলা ও পলইডাঙ্গা গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শুক্রবারও এ বিষয়ে আরেকটি সালিস হওয়ার কথা ছিল।

এরই মধ্যে শুক্রবার বিকেলে বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়িতে জিনিসপত্র রেখে পুনরায় ভদ্রবিলা বাজারে যাওয়ার পথে বাজারের কাছাকাছি এলাকায় ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি মোস্তফা কাজীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু। তিনি বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার সালিস হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। শুক্রবারও সালিস হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

‘মেয়েটি আমার পুত্রবধূ দাবি করে ঘরে উঠেছে’ | কালের কণ্ঠ