• ই-পেপার

দিনে তিন কোটি মিনিট বৈদেশিক কল অবৈধ পথে

সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক, ৪ জেলে উদ্ধার

মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক,  ৪ জেলে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে এক বিশেষ অভিযান, ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ দুই দস্যুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। এ সময় দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান, কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের গহিনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। চলমান এ অভিযানের ধারাবাহিক সফলতার অংশ হিসেবে ষষ্ঠ দফায় পরিচালিত অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে জানানো হয়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি বিশেষ অভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া চালিয়ে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতদের জিম্মিতে থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন– বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাসিন্দা মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, রাজন শরীফ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সোনার চেইন পরা মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবে না : জয়নুল আবেদীন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
সোনার চেইন পরা মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবে না : জয়নুল আবেদীন

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোনার চেইন পরা কোনো স্বচ্ছল মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। সেদিকে যেন খেয়াল রাখা হয়।

গতকাল শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগের কাদরা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ানর্ডের গরিব-দুঃস্থদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।

জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, মানুষের কাছে আড়াই হাজার টাকা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো নেতা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।

তিনি বলেন, আমরা কী পেয়েছি বা কী পাইনি, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সবার আগে পেয়েছি বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতি, ঘুষ ও কিশোর গ্যাংমুক্ত বাংলাদেশ। ইয়াবা ও রাস্তায় ইভটিজিং শূন্য বাংলাদেশ। সর্বোপরি আমরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ উন্নয়ন চাই।

এ সময় নোয়াখালীতে ৩৮৮ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। সেনবাগ উপজেলার ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশের সঙ্গে একযোগে এ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ৩৮৮টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের মোবাইল ফোনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পেয়ে যান। মোবাইল ফোনে টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার টি.এম মোশাররফ হোসেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জে.এম মিজানুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহসিয়া তাবাসসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর পেয়ারা বেগম প্রমুখ।

নিজ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর নামে ৪ মামলা এমপি আশরাফের

আমানত উল্যাহ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
নিজ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর নামে ৪ মামলা এমপি আশরাফের
সংগৃহীত ছবি

নিজ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর নামে ৪ টি মামলা দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অপকর্মে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন এমপি নিজান। ফলে বিতর্কিত অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং তৃণমূলে স্বস্তি ফিরে আসে।

সম্প্রতি দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা ৪ মামলায় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে অতীতে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম নিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে এ আসনে।

বিএনপির ৪ জন নেতা জানান, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মহড়ায় জড়িত হওয়ার অভিযোগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রামগতিতে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। ওই দুইটি মামলার প্রেক্ষিতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই অভিযোগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মেম্বার বাদী হয়ে ৩ নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আসামি করে কমলনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০ এপ্রিল কমলনগরের চরলরেন্স ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ বাদী হয়ে যুবদল নেতা মিলনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধ কমলনগর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাত আসামি করা হয় বেশ কিছু নেতাকর্মীকে। ওই মামলায় মিলনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান পুলিশ।

নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই ৪ মামলার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দেন আশরাফ উদ্দিন নিজান। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। এর পর থেকে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডারবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনা অনেকটা কমে যায়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে সারা দেশে নিজানের রয়েছে বেশ পরিচিতি। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা দুইবার এমপি হন আশরাফ উদ্দিন নিজান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে তিনি তৃতীয়বারের মত এমপি হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ পদে রয়েছে।

এদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যেও আশরাফ উদ্দিন নিজানের এমন সিদ্ধান্তে ইতিবাচক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক দলে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়। সে কাজটি করেছেন এমপি নিজান। এতে বিএনপির ভেতরে নতুন গতি তৈরি হয়েছে। আর এ কারণেই স্থানীয় রাজনীতিতে এমপির প্রশংসাও দিন দিন বাড়ছে। আগের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপকর্মের ঘটনা তেমন নেই। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে বাজার, ঘাট ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপও কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

রামগতি উপজেলার কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানান, কিছু অসাধু নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এমপি নিজানের কঠোর অবস্থানকে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। সাধারণত জনপ্রতিনিধিরা বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও নিজ দলের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখান। কিন্তু আশরাফ উদ্দিন নিজান সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে দলীয় শৃঙ্খলা, সুস্থ রাজনীতি ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এতে রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। এমপি নিজানের এমন কঠোরতায় রামগতি-কমলনগরের বিরোধী মতের নেতাকর্মীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে।

তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, ‘দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ায় এখন সবাই সতর্ক। কেউ আর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করার সাহস পাচ্ছে না।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আশরাফ উদ্দিন নিজানের এ পদক্ষেপ নিয়ে চলছে আলোচনা। অনেকে এটিকে রাজনীতিতে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিজের দলের বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু এমপি নিজান সে সাহসিকতা দেখিয়েছেন। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম. দিদার হোসেন জানান, দলকে জনবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন রাখতে এমপি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় পদ-পদবি বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও পদ পদবি বিবেচনা না করে আইন প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন। 

রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডাক্তার জামাল উদ্দিন বলেন, এমপির এমন কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার ঠিকানা তিনি। দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে এলাকার উন্নয়নে বেশী ব্যস্ত। সবসময় মানুষের কথা ভাবছেন। কোন অন্যাকে প্রশ্রয় না দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তার নির্দেশনায় কাজ করছি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদি এ ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত মনিটরিং ও সাংগঠনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা বাড়বে। এ উদ্যোগ যেন ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে। তাহলে রাজনীতিতে জবাবদিহিতা বাড়বে, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের কমলনগর উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন জুয়েল বলেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে কেউ ফ্যাসিস্ট হবেনা। মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করলে সেক্ষেত্রে এলাকার উন্নয়ন হবে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দলীয়করণ আর থাকবেনা। এমপি নিজান সে ধারার রাজনীতি চালু করতে চায়। নিঃসন্দেহে এটি ভাল লক্ষ্মণ।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে দল ও প্রশাসন কঠোর হবে। নিজ দলের কেউ অপরাধ করলে তাকে আরো বেশি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। চাঁদাবাজি ও মানুষের সঙ্গে আচরণ খারাপ করে কেউ ছাড় পাবেনা। এসব বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড 'জিরো টলারেন্স'। অপরাধী যেই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

সদরপুরে বাজারে ঘুরে বেড়ায় বিশালাকৃতির ২ শতাধিক গুইসাপ

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
সদরপুরে বাজারে ঘুরে বেড়ায় বিশালাকৃতির ২ শতাধিক গুইসাপ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা সদর বাজারের পাশের একটি জলাশয়ের তীরজুড়ে অবাধে বিচরণ করছে বিশালাকৃতির বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী গুইসাপ। ৪০ থেকে ৮০ কেজি ওজনের প্রায় দুই শতাধিক গুইসাপের বসবাস এখন এই এলাকায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের কাছে বাজারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজার সংলগ্ন খালের তীরজুড়ে সারাদিন দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশালাকৃতির গুইসাপগুলো। বাজারের দোকান থেকে ফেলে দেওয়া পচা মাছ, মরা মুরগি, এমনকি জবাই করা গরুর হাড় ও ভুঁড়িই তাদের প্রধান খাদ্য।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গুইসাপগুলো মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বরং বাজারে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে এখন আর কেউ তাদের তাড়িয়ে দেয় না, বরং নিরাপদে বসবাস করতে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঝে মাঝে গুইসাপগুলো আশপাশের বাড়ির উঠানেও চলে আসে। তবে এগুলো সম্পূর্ণ নিরীহ হওয়ায় কারো মধ্যে তেমন ভয়ের সৃষ্টি করে না। বরং এলাকাবাসী তাদের উপস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছে।

উপকারী প্রাণী গুইসাপের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্য সদরপুরের মানুষের প্রশংসা করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা। তিনি জানান, বাংলাদেশে তিন ধরনের গুইসাপের দেখা মেলে। এরমধ্যে রামগদি বা কালো গুই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ও পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গুইসাপ। এটি লম্বায় ৭ থেকে ৯ ফুট এবং ওজন ২৫ কেজিরও বেশি হতে পারে। এদের আলাদা করা কিছুটা কঠিন, তাই সব কটি প্রজাতিই মানুষের কাছে গুইসাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই প্রাণীটি এলাকাভেদে তারবেল, গুইল, ঘোড়েল ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

তিনি বলেন, গুইসাপ শান্ত স্বভাবের প্রাণী। এরা সাধারণত মাটির গর্ত, গাছের কোটর, পুরোনো দেয়ালের ফাটল, পরিত্যক্ত ইটভাটায় বাস করে। প্রাণীটি দিবাচর। তাই দিনে শিকার করে আর রাতে বিশ্রাম নেয়। সাধারণত বিষধর সাপ ও সাপের ডিম, মৃতমাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুক, পচা-গলা প্রাণী ইত্যাদি খায়। তবে ধানক্ষেতের ইঁদুর, ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে বলে গুইসাপকে ‘কৃষকের বন্ধু’ও বলা হয়। এরা দ্রুত গাছে উঠতে পারে। সাঁতারেও অত্যন্ত দক্ষ। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জলাভূমির পাশে এদের আবাসস্থল দেখা যায়।

আরো পড়ুন

মব নিয়ে উদ্বিগ্ন নাহিদ ইসলাম, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মব নিয়ে উদ্বিগ্ন নাহিদ ইসলাম, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

 

গুইসাপ অত্যন্ত উপকারী প্রাণী হলেও মানুষ অকারণেই এর সঙ্গে শত্রুতায় জড়ায় বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, গুইসাপ কমে যাওয়া মানুষের জন্য ভালোকিছু নয়। প্রাণীটি কমে গেলে পরিবেশে ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় বেড়ে যাবে, ইঁদুরের উৎপাত বাড়বে, বাড়বে বিষাক্ত সাপ। তা ছাড়া পঁচা-গলা প্রাণিদেহ খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করে। তাই গুইসাপের ক্রমহ্রাসমান অবস্থার জন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার পাশাপাশি রোগ-জীবাণুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জীববৈচিত্র্য।

মিলা জানান, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) গুইসাপের তিনটি প্রজাতির মধ্যে রামগদি বা কালো গুইকে ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ১৯৯০ সালে গুইসাপ হত্যার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী গুইসাপ সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা, শিকার বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সদরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সব্যসাচী মজুমদার বলেন, গুইসাপ মানুষের জন্য ক্ষতিকর না। এদের সাপের মতো বিষ নেই।

পরিবেশবিদদের মতে, এমন প্রাণীর উপস্থিতি একটি সুস্থ বাস্তুতন্ত্রেরই ইঙ্গিত বহন করে। তাই এই গুইসাপগুলোকে রক্ষা করা ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

দিনে তিন কোটি মিনিট বৈদেশিক কল অবৈধ পথে | কালের কণ্ঠ