নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুর মো. শাহজাহানকে (৬২) কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার জামাতা মো. সুজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সুজন ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি শনিবার (৪ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের মুটবি গ্রামের খলিল হাজি বাড়িতে ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে শাহজাহানের মেয়ে মাজেদা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ও লিবিয়া প্রবাসী মো. সুজনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত রমজান মাসে লিবিয়া থেকে দেশে এসে ইউরোপ যাওয়ার জন্য সুজন শ্বশুরের কাছে যৌতুক দাবি করেন। গত এক মাস ধরে তিনি স্ত্রী মাজেদা আক্তারের ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
কয়েক দিন আগে সুজন তার স্ত্রীকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সুজন ও তার সহযোগীরা শাহজাহান ঘর থেকে বাথরুমে বের হলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শাহজাহানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
আরো পড়ুন
সিলেটে জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৯
এ ঘটনায় রবিবার আহত শাহজাহানের স্ত্রী শাহিদা আক্তার বাদী হয়ে সোনাইমুড়ি থানায় মামলা করেন। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ সুজন ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।
সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।