• ই-পেপার

ব‌রিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে মারধর, বাড়ি ভাঙচুর!

বাজেট ঘোষণার পরে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট ঘোষণার পরে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল হচ্ছে : আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পরে সিগারেট ও মদের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল হচ্ছে, কি আর বলব।’ বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ পৌরসভায় কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার জনকল্যাণমুখী বাজেট দিয়েছে। আগে আমরা দেখেছি, বাজেট ঘোষণার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের হতো। মিছিলের স্লোগান হতো, ‘গরিব মারার বাজেট মানি না’। আর এখন বাজেট ঘোষণার পরে মিছিল হচ্ছে, ‘সিগারেটের দাম বাড়ল কেন, মদের দাম বাড়লো কেন?’ কি আর বলব।”

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি দেখেন মাদক নির্মূলে প্রশাসন কাজ করছে না, তাহলে আমার নম্বরে এসএমএস করবেন, ঘটনা জানাবেন। বাকিটা আমরা দেখবো।’

কসাইখানার গুরুত্ব বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে পশু জবাই করা হলে মাংসের গুণগত মান বজায় থাকে। ঝিনাইদহবাসীর জন্য এই কসাইখানা একটি মাইলফলক। সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

জানা গেছে, কসাইখানাটি নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)’ কসাইখানার নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক এই কসাইখানাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ আধুনিক এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানার মূল উৎপাদন বা পশু জবাইয়ের স্থানটি আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা।

রংপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল যুবকের
প্রতীকী ছবি

রংপুর নগরীর মীরগঞ্জ কইয়াপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুজন (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৩টার দিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ট্রান্সফরমারের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। নিহত সুজন ওই এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে সুজন বাড়ির পাশের একটি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির চেষ্টা করেন। এসময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে ঘটনাটি কেউ প্রত্যক্ষ না করলেও সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রান্সফরমারের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান। পরে মরদেহটি সুজনের বলে শনাক্ত করা হয়।

খবর পেয়ে তাজহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এসব চুরির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই নিজের জীবনও বিপন্ন করছেন।

তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের তার চুরির সময় ওই যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

 তিনি আরো বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে ঘটনাস্থলের আলামত ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী এটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

ময়মনসিংহে স্বামীর হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে স্বামীর হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঘরের ভেতর স্বামীর হাত-পা-মুখ বেঁধে মারধর করে তার স্ত্রীকে (১৭) তুলে নিয়ে দলগত গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার পাগলা থানাধীন নিগুয়ারী ইউনিয়নের কুরচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কুরচাই গ্রামে মায়ের বাড়িতে বসবাস করতেন। এক কক্ষে মা ও অন্য একটি কক্ষে স্বামী ও তিন বছর বয়সী ছেলে সন্তান নিয়ে বাস করতেন। 

মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে ৭-৮ জনের মুখ বাধা একটি দলগত চক্র ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগীর স্বামীর হাত-পা-মুখ বেধে মারধর করে। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ও বাড়ি থেকে প্রায় দেড়শত মিটার দূরে নিয়ে গণধর্ষণ করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান।

এ ঘটনায় বুধবার (১৭ জুন) ভুক্তভোগীর মা পাগলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি অসহায় মা। আমার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন, মারা গিয়েছেন। মেয়েটা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। যারা আমার মেয়েটার সর্বনাশ করছে তাদের কঠিন বিচার চাই।

পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার শিকার ভুক্তভোগীকে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুকসুদপুরে কুকুরের কামড়ে আহত ২৩

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
মুকসুদপুরে কুকুরের কামড়ে আহত ২৩
প্রতীকী ছবি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতরা মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ২৩ জন ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার সদর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একটি কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই আক্রমণ করছে। কুকুরটির হামলায় স্কুলশিক্ষার্থী, পথচারীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, ‘গত দুই দিনে আমরা ২৩ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের সবাইকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। তবে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বর্তমানে সরকারিভাবে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের কোনো কার্যক্রম না থাকায় আমরা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে কুকুরটির সন্ধান পাওয়া গেলে এবং সেটিকে আমাদের কাছে নিয়ে আসা সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’

এদিকে, কুকুরের অবাধ বিচরণে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন।