• ই-পেপার

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে প্রাণ গেল ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর

নাটোর প্রতিনিধি
বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে প্রাণ গেল ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে বিপুল কুমার সরকার (৪৩) নামে এক ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (গালিমপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিপুল কুমার সরকার ওই গ্রামের মৃত অদ্বৈত প্রসাদ সরকারের ছেলে। তিনি বগুড়ার একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিপুল কুমার সরকার বগুড়া থেকে বাড়িতে ফিরে কোমল পানীয়ের সঙ্গে গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা তার বড় বোনকে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিপুল কুমার সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ঋণের চাপে মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। তাদের ধারণা, ঋণের চাপ থেকেই তিনি আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 

টাঙ্গাইল

ছাগল তুলতে গিয়ে কূপে পড়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ছাগল তুলতে গিয়ে কূপে পড়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ছাগল তুলতে গিয়ে পরিত্যক্ত একটি কূপে পড়ে বাবা-ছেলেসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, টেলকি এলাকার বাবুল হাদিমা (৪০), তার ছেলে নেইমার ম্রং (১২), গ্যাব্রিয়েল (৪০) ও প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)।

সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়া জানান, বাবুল হাদিমার একটি ছাগলছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে মসজিদসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটি তুলতে প্রথমে কূপে নামে নেইমার। কিছু সময় পার হয়ে গেলেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরে কূপে নামেন বাবুল হাদিমা। একইভাবে গ্যাব্রিয়েল এবং সবশেষে রতন কূপে নামেন। কূপে নামা চারজনের কারও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।  পরে ফায়ার সার্ভিস একে একে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার বলেন, ‘কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিস চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পাকুন্দিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বাড়িতে ঢুকে এক প্রবাসীকে মারধর, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। গত ৭ জুন রবিবার ভুক্তভোগী প্রবাসী ফিরোজ মিয়া বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল মামলাটি গ্রহণ করে পাকুন্দিয়া থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন–পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের মৃত বধু মিয়ার ছেলে বকুল মিয়া, মৃত সোহরাব উদ্দীনের ছেলে লিয়াকন, মোস্তফার স্ত্রী ইতি আক্তার ও সফুর উদ্দীনের মেয়ে নাজমা। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজ মিয়া পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের সরুজ মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। অসুস্থতার কারণে বাড়িতে এসে পাকুন্দিয়া বাজারে একটি মুদি দোকান দেন। গত ২৬ মে প্রতিবেশী বকুল মিয়ার সঙ্গে ওই দোকানের মালামালের হিসাব নিয়ে ফিরোজ মিয়ার ঝগড়া হয়। এর জেরে পরের দিন ২৭ মে সকালে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে বকুল মিয়ার বাড়িতে ফিরোজ মিয়াকে ডেকে নেয়।

পরে সেখানে আগে থেকেই সব আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরোজ মিয়া ওই বাড়িতে যাওয়ার পর বকুল মিয়ার নির্দেশে আসামি লিয়াকন লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ফিরোজকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে তার নিজ বাড়ির উঠানে গিয়ে পড়েন। তখন অন্য আসামিরাও দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ফিরোজের পিছে পিছে দৌড়ে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় আসামি ইতি আক্তার ও নাজমা শোকেজের তালা ভেঙে বিদেশ থেকে আনা ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, যার মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকাসহ নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া অন্যরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ১ লাখ টাকার ক্ষতি করে। ফিরোজ মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিটউট ও হাসপাতালে পাঠায়।

প্রবাসী ফিরোজ মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়া ছিলাম। দুবাইয়ে থাকাকালীন আমার হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় একটি রিং পড়ানো হয়। ফলে আমি বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে একটি মুদি দোকান দিই। আমার ওপর হামলা করায় পুনরায় হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমি এখন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একজন ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। অতিদ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে। 

ইঞ্জিন বিকল হয়ে ফেনীতে আড়াই ঘণ্টা আটকা মেঘনা এক্সপ্রেস

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
ইঞ্জিন বিকল হয়ে ফেনীতে আড়াই ঘণ্টা আটকা মেঘনা এক্সপ্রেস
সংগৃহীত ছবি

চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেনী রেলস্টেশনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে আটকে পড়েছেন অন্তত  ৮০০ যাত্রী। 

শনিবার সকাল ৮টা ২২ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ফেনী জংশনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি ফেনী স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের মোটরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ইঞ্জিনের মোটরে আগুনের আভাস পাওয়া গেলে ট্রেনটি স্টেশনের ডাউন লাইনে থামিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় অনেকে সড়ক গন্তব্যে ফিরছেন।

লাকসাম থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী এনামুল হক বলেন, ‘সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনে উঠেছি। ফেনীতে এসে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। অনেক যাত্রী ট্রেন ছেড়ে সড়কপথে চলে যাচ্ছেন।’

আরেক যাত্রী রাশেদা বেগম বলেন, ‘চট্টগ্রাম পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানে আটকে পড়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি।’

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। সেটি ইতোমধ্যে ফৌজদারহাট অতিক্রম করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন অপসারণের পর ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এছাড়া ফেনী থেকে যেসব যাত্রীরা এই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাদের কেউ কেউ টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে মেঘনা ট্রেনটি একটি লাইনে আটকে থাকলেও পাশের দুটি লাইন সচল থাকায় অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’