• ই-পেপার

ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় স্কটল্যান্ড

জার্মানিকে হটিয়ে ফের বিশ্বকাপে রেকর্ড ব্রাজিলের, ধারে কাছে নেই বাকিরা

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানিকে হটিয়ে ফের বিশ্বকাপে রেকর্ড ব্রাজিলের, ধারে কাছে নেই বাকিরা
ছবি : রয়টার্স

মাঠের ট্রফি জয়ের লড়াই তো আছেই, তবে চলতি বিশ্বকাপে সমান্তরালভাবে চলছে এক অন্যরকম রাজকীয় মর্যাদার লড়াই। ফুটবল মহাযজ্ঞের ইতিহাসে দলগতভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজেদের করে নেওয়ার এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথে মেতেছে দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও জার্মানি।

রেকর্ডের এই ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সিংহাসনটা কেড়ে নিয়েছিল জার্মানি। তবে জার্মানদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সেলেসাওরা। হাইতির বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট আবারও নিজেদের মাথায় পরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলে ব্রাজিল। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় তারা। ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একাই জোড়া গোল করে স্পটলাইট কেড়ে নেন ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহা। এই ৩ গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যা এখন ২৪১টি। ফলে ২৩৯ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির চেয়ে ২ গোল এগিয়ে থেকে আবারও চূড়ায় বসল সেলেসাওরা। 

ব্রাজিল ও জার্মানি যখন গোলের ডাবল সেঞ্চুরি পার করে আড়াইশর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, সেখানে বাকি পরাশক্তিরা রয়েছে অনেক পিছিয়ে। চলতি আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে অধিনায়ক লিওনেল মেসির চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকের পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫-তে। তালিকায় তারা অবশ্য তৃতীয় অবস্থানেই রয়েছে। অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্সের গোলসংখ্যা এখন ১৩৯। এদিকে ১২৮ গোল নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে টানা তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপে দর্শকের ভূমিকায় থাকা ইতালি। 
 

মেসির সেই ট্যাকল নিয়ে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির সেই ট্যাকল নিয়ে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এএফএফ)।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ডান পায়ে ট্যাকল করেন মেসি। তবে পোলিশ রেফারি সিজমন মারচিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি।

এই ঘটনাটি ঘটে মেসির প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝখানে। পরে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।

আলজেরিয়ার দাবি, মেসির ওই ট্যাকল ছাড়াও আরো দুটি ঘটনায় তাদের খেলোয়াড়দের কনুই দিয়ে আঘাত করা হলেও রেফারি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। বিষয়গুলো নিয়েই ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

ম্যাচ শেষে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'সবাই ঘটনাটি দেখেছে। আমি নিজেও দেখেছি। এর বেশি কিছু বলার নেই।'

তবে অনেকের মতে, ঘটনাটি বিতর্কিত হলেও সরাসরি লাল কার্ড দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তাদের ভাষ্য, ট্যাকলটি বিপজ্জনক দেখালেও এতে ইচ্ছাকৃত আঘাতের প্রমাণ বা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না।

তবু ধীরগতির রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির ট্যাকল সরাসরি মান্দির পায়ে লাগে। তাই অনেকের মতে, ভিএআর রিভিউয়ের জন্য রেফারিকে মনিটরে ডাকা হলে সিদ্ধান্ত ভিন্নও হতে পারত।

মেসির হ্যাটট্রিকে ম্যাচ জিতলেও এই ট্যাকল নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। ফিফা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও বিষয়টি বিশ্বকাপে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রাজিল তারকা রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল তারকা রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ব্রাজিল। হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে জোড়া গোল করে সেলেসাওদের জয়ের নায়ক মাতেউস কুনিয়া। তবে এমন দাপুটে জয়ের দিনেও ব্রাজিল শিবিরে আনন্দের চেয়ে বিষাদের সুরটাই বেশি ভারী। কারণ, দল জিতেছে ঠিকই, কিন্তু হারিয়ে ফেলেছে তাদের অন্যতম সেরা অস্ত্র রাফিনিয়াকে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সেলোনার এই অভিজ্ঞ উইঙ্গারকে। 

ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরিয়েছিলেন রাফিনিয়া। ১২তম মিনিটে বল জালে জড়িয়ে উদযাপনেও মেতেছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কাটাকাতায় বাতিল হয় সেই গোল। তবে সেই আক্ষেপের চেয়েও বড় ধাক্কাটা আসে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। চিকিৎসকদের সহায়তায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই তারকা।

প্রাথমিক সূত্র ও স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যমতে, রাফিনিয়ার এই চোট নতুন কিছু নয়। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ ক্লাব মৌসুমের শেষভাগে যে পুরোনো চোট তাকে ভুগিয়েছিল, এবারও ঠিক একই জায়গায় আঘাত পেয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ ফুটেজেও তার পুরোনো চোটের জায়গায় অস্বস্তির চিত্র ফুটে উঠেছে।

এর আগে গত মার্চেও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় একই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। সেবার প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। যার খেসারত দিতে হয়েছিল তার ক্লাব বার্সেলোনাকেও। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারও সেই পুরোনো চোট ফিরে আসায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্টের।

রাফিনিয়ার এই ছিটকে যাওয়া সেলেসাওদের বিশ্বকাপ মিশনকে কতটা বাধাগ্রস্ত করবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। শিষ্যের চোট নিয়ে নীরবতা ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিশ্বকাপে রাফিনিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরবর্তী মেডিকেল রিপোর্টের ওপর।

আনচেলত্তি বলেন, ‘আগামীকাল রাফিনিয়ার চোটের জায়গায় বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা (স্ক্যান) করা হবে। এই মুহূর্তে আসলে চোটের গভীরতা কতটা, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করতেই হবে।’ 

ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রয়াণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রয়াণ

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দুরারোগ্য ক্যান্সারের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর লড়াই করে আজ শনিবার সকাল ৮টায় তিনি রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, আবদুস সাদেকের ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ ছাড়া মরহুমের বড় ছেলে টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ইশতিয়াক সাদেক।

অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন আবদুস সাদেক। ফুটবল ও ক্রিকেটেও ছিলেন সমান পারদর্শী। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লিমিটেড) প্রথম ফুটবল অধিনায়ক ও হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। শুধু তারকা খেলোয়াড়ই নন, তিনি ছিলেন সফল কোচ ও সংগঠকও। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চরম দুঃসময়ে আবাহনীকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। 

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখায় ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন আবদুস সাদেক। বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান ব্রিটিশ আমলে ছিলেন খ্যাতনামা সাঁতারু। তাঁর ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানও একসময় ছিলেন হকির তারকা খেলোয়াড়।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের রোষানলে পড়ে পূর্ব পাকিস্তান। বাঙালির মেধা-মনন বিকাশের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। সেই বৈরী পরিবেশেও পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলে ডাক পান আবদুস সাদেক। এমনকি ১৯৬৮ সালের অলিম্পিক দলেও ডাক পেয়েছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে খেলা হয়নি। পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে তিনি ইউরোপ সফর করেন। ১৯৬৯ সালে দেড় মাসের ইউরোপ ট্যুরে আবদুস সাদেকরা জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং ইংল্যান্ডে খেলেছেন। ফেরার পথে মিসরের সঙ্গেও একটা ম্যাচ খেলেছেন। সেই ইউরোপ ট্যুরে মাঠে ক্যারিশমা দেখানোর কারণে আবদুস সাদেক দ্রুত পরিচিত হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে দলের সেরা তারকা রশিদ জুনিয়রের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান দলের সেরা তারকারাও ইংরেজি জানতেন না। তবে আবদুস সাদেক জানতেন। এ কারণে সবার কাছে তাঁর কদর ছিল আলাদা।

শুধু আবদুস সাদেকই নন, তাঁর ছোট ভাই আহমেদ আকবর সোবহানও হকিতে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। হকিতে রাইট হাফে খেলতেন তিনি। পূর্ব পাকিস্তান যুবদলে দুই ভাই একসঙ্গে খেলেছেন। স্বাধীনতার পর জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক। ফাইনালে তাঁর ছোট ভাইয়ের একমাত্র গোলেই কুমিল্লা সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

আবাহনীর প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভাব ঘটে আবাহনী ক্রীড়াচক্রের। ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল একজন সুযোগ্য নেতা খুঁজছিলেন নতুন দলকে পরিচালনার জন্য। তিনি বেছে নেন দেশের সেরা তারকাকে। আবদুস সাদেক স্বাধীনতার আগে ভিক্টোরিয়া ও দিলকুশার মতো জনপ্রিয় ক্লাবে খেলে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। শেখ কামাল ঢাকা আবাহনীর ফুটবল ও হকি দলের নেতৃত্বের ভার তুলে দেন তাঁর কাঁধে। হকিতে আবাহনীকে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন করে আস্থার প্রতিদান দেন।

আবদুস সাদেক ক্যারিশমায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

ফুটবল ক্যারিয়ার ছেড়ে ১৯৭৭ সালে আবাহনী প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নেন আবদুস সাদেক। নতুন দায়িত্ব পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সেবার লিগে কোনো ম্যাচেই হারেনি আবাহনী। তিন ম্যাচ ড্র ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই দাপুটে জয়। বাংলাদেশে প্রথম দল হিসেবে আবাহনী অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ড সৃষ্টি করে। স্বাধীন বাংলাদেশে সেবারই প্রথম কোনো দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সফল সংগঠক

প্রশিক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর সংগঠক হিসেবে আবদুস সাদেকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি অনুষ্ঠিত হয়। অথচ ওই বছরের আয়োজক হওয়ার কথা ছিল জাপানের। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বৈঠকে সাদেকের কথায় মুগ্ধ হয়ে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের সমর্থনে আয়োজকের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হকি বা ফুটবলে যখনই সমস্যা দেখা গেছে, তিনি প্রথমে এগিয়ে এসেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশে এমন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপ হকির আসর বসে। এখানেও বড় ভূমিকা রাখেন আবদুস সাদেক। হকির ফ্লাডলাইট, ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ডসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে তাঁর প্রচেষ্টায়। ঢাকায় আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি নেগ্রে আসার পর প্রথম দেখায় আবদুস সাদেককে চিনে নেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাদেক একজন কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড়। আমার বিশ্বাস, সাদেকের হাত ধরে হকির উন্নয়ন সম্ভব হবে।’

আবাহনীর দুঃসময়ের কাণ্ডারি

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আবাহনী ক্লাব টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। অনেকে তখন ভয়ে ক্লাবে আসতেন না। এমনকি অনেক সংগঠক বিদেশেও চলে যান। কিন্তু এ দুঃসময়ে শেখ কামালের হাতে গড়া আবাহনীকে টিকিয়ে রাখার গুরুভার কাঁধে তুলে নেন আবদুস সাদেক। ধানমণ্ডির নিজ বাসভবনে তিনি সবাইকে নিয়ে আবাহনীকে মাঠে নামানোর নেতৃত্ব দেন। বিপদের সময় তাঁর সাহসিকতার কারণে হয়তো মাথা উঁচু করে টিকে আছে আজকের আবাহনী। আবদুস সাদেকের অসামান্য অবদানের কথা চিন্তা করে আবাহনী লিমিটেড তাঁকে করেছে ‘আজীবন সদস্য’। ক্রীড়াঙ্গনের এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ জানুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত ক্রীড়া পরিবারে।

বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের নেতৃত্বে

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে হকিতে প্রথম জাতীয় দল গঠন করা হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন আবদুস সাদেক। সেখানে হকি টেস্টে একটিতে জয়, একটিতে ড্র ও একটিতে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। হকিতে আবদুস সাদেকই অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।