• ই-পেপার

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপির কাউন্সিল পণ্ড

অবৈধ হাট ও খুঁটির ব্যবসা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে : সিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
অবৈধ হাট ও খুঁটির ব্যবসা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে : সিএমপি কমিশনার
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে রবিবার আয়োজিত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় কথা বলছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা। কোনো অসাধু চক্র যাতে পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নিতে বাধ্য করতে না পারে, অনুমোদিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও অবৈধ পশুর হাট বসাতে না পারে কিংবা অবৈধ খুঁটির ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে পশুবাহী খালি ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রবিবার (১৭ মে) বিকেলে আয়োজিত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহানগর এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয়, চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন, জাল নোটের ব্যবহার রোধ, সড়ক, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিতকরণসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী প্রমুখ

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘প্রতিটি কোরবানির পশুর হাটে থানার নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম, জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ, ওয়াচ টাওয়ার ও মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি, মানি এসকর্ট এবং স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাও চালু থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনকে কেন্দ্র করেও বিশেষ নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চামড়া পাচার রোধে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কোনো এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি প্রতিরোধ এবং চামড়া পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সময় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।’

শওকত আলী বলেন, ‘নগরীর প্রতিটি ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে আবাসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’

সৌদি আরবে সড়কে ঝরল কুমিল্লার ২ প্রবাসীর প্রাণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
সৌদি আরবে সড়কে ঝরল কুমিল্লার ২ প্রবাসীর প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেদ্দা-রিয়াদ মহাসড়কে আফিফ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরে আলম (৪২) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসুদাই গ্রামের খলিলুর রহমান সওদাগরের ছেলে এবং ইদ্রিস মিয়া (৪৩) জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পৌর এলাকার বাসিন্দা। তারা দুই বন্ধু সৌদি আরবের রিয়াদে এ সঙ্গে ব্যবসা করতেন।

নিহত নুরে আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, শুক্রবার জেদ্দা থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে রিয়াদের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। এক পর্যায়ের তাদের বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরো বলেন, নুরে আলম আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। স্বামীর লাশ দেশে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছেন তিনি। 

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি। পরিবার আবেদন করলে লাশ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে সরকারি প্রক্রিয়ায় লাশ দেশে আনার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

ঈদে বাড়িতে আসা হলো না চৌদ্দগ্রামের ইউনুসের

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ঈদে বাড়িতে আসা হলো না চৌদ্দগ্রামের ইউনুসের
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ইউনুস মিয়া।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউনুস মিয়া নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৭ মে) বিকেলে পরিবারের নিকট মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের ছোট ভাই মারুফ। 

এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে জেদ্দা-রিয়াদ মহাসড়কের আফিফ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুস মিয়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ার গ্রামের সাবির আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইউনুস মিয়া সৌদি আরবের রিয়াদে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। শুক্রবার জেদ্দা থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে রিয়াদের ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনুসসহ দুজনের মৃত্যু হয়। চালকসহ আহত হয় আরো দুজন। এবারের কোরবানির ঈদে ইউনুস দেশে আসার কথা ছিল। এ ঘটনায় পরিবারে চলছে মাতম। 

সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ও নিহত নুরে আলমের ভাগিনা মনির হোসেন জানান, দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তার মামা নুর আলম ও তার বন্ধু চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ইউনুস মিয়া নামের অপর প্রবাসী এবং একজন সৌদি নাগরিক মারা যান। গাড়ির চালকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।

এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত ইউনুস মিয়ার ৪ মাসের পুত্রসন্তানকে একনজর দেখতে কোরবানির ঈদে দেশে আসার কথা ছিল। তার প্রবাস জীবনের ২৪ বছরে এই প্রথম কোরবানির ঈদ স্বজনদের সঙ্গে করার ছিল। এ উপলক্ষে সব কেনাকাটা ও বিমানেরও টিকিটও কেটে রাখছিলেন তিনি। সৌদি আরবের আল-মাহাদ আদ দাহাব এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। নিহত ইউনুস মিয়া রিয়াদের আল আফিফ শহরে ব্যবসা করেছিলেন।  

তার ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মারুফ বলেন, ‘আমার বড় ভাই আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। তার স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। প্রবাসে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার দেশে এলেও তিনি কখনো পরিবারের সাথে কুরবানির ঈদ করতে পারেননি। এবারই প্রথম তিনি কুরবানির উদ্দেশ্যে ২৭ মে দেশে আসার জন্য বিমানের টিকিটও কনফার্ম করেছিলেন। তার ছোট ছেলের বয়স মাত্র ৪ মাস তাকেও তিনি প্রথমবারের মতো দেখার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমার বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা ভাইয়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ভাইয়ের বন্ধু নুরে আলমও একই দুর্ঘটনায় নিহত হন।’ 

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল আলম বলেন, ‘সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌদ্দগ্রামের ইউনুস নিহত হয়েছেন। তার লাশ দেশে আনার জন্য সহযোগিতা করা হবে।’

চৌদ্দগ্রামে হামের থাবা

‘সাতটি হাসপাতালে নিয়েও আমার আদরের মানিককে বাঁচাতে পারলাম না’

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
‘সাতটি হাসপাতালে নিয়েও আমার আদরের মানিককে বাঁচাতে পারলাম না’
শিশু সাজিদ আল নাহিয়ান। সংগৃহীত ছবি

‘তিন মেয়ের পর ১৬ বছর অপেক্ষা করে আমরা পুত্রসন্তান পেয়েছিলাম। তাকে বাঁচানোর জন্য চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, ঢাকাসহ সাতটি হাসপাতালে নিয়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারলাম না।’

কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার সিংরাইশ গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ আহমেদ সুমন। হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে সাত মাস বয়সী ছেলে সাজিদ আল নাহিয়ানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি ও তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার।

রবিবার (১৭ মে) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাজিদ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পারভেজ-সুলতানা দম্পতির তিন কন্যাসন্তানের পর সাত মাস আগে জন্ম নেয় সাজিদ আল নাহিয়ান। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার পর পুত্রসন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

গত ১৪ এপ্রিল সাজিদের জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর কিছুটা সুস্থ হলেও ১২ মে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে সে।

পরে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজধানীর শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ও সর্বশেষ তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সাজিদ হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে সাজিদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।’

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপির কাউন্সিল পণ্ড | কালের কণ্ঠ