• ই-পেপার

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

ঈদে বাড়িতে আসা হলো না চৌদ্দগ্রামের ইউনুসের

প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতেই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আয়োজন: ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতেই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আয়োজন: ভূমিমন্ত্রী
রাজশাহীতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতেই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আয়োজন করা হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে।

রবিবার (১৭ মে) বিকেলে রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর রাজশাহী আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১২ থেকে ১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়াপ্রতিভা অন্বেষণে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিস এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। উপযুক্ত যোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে তৈরি করে দেশ সেবায় নিয়োজিত হতে হবে।

আঞ্চলিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই স্টেডিয়ামজুড়ে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শিশু-কিশোর প্রতিযোগীরা নির্ধারিত পোশাকে সারিবদ্ধভাবে মাঠে অবস্থান নেয়। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সেজে ওঠে পুরো ক্রীড়াঙ্গন। গ্যালারিতেও ছিল অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ড. চিত্রলেখা নাজনীন এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান প্রমুখ।

অবৈধ হাট ও খুঁটির ব্যবসা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে : সিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
অবৈধ হাট ও খুঁটির ব্যবসা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে : সিএমপি কমিশনার
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে রবিবার আয়োজিত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় কথা বলছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা। কোনো অসাধু চক্র যাতে পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নিতে বাধ্য করতে না পারে, অনুমোদিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও অবৈধ পশুর হাট বসাতে না পারে কিংবা অবৈধ খুঁটির ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে পশুবাহী খালি ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রবিবার (১৭ মে) বিকেলে আয়োজিত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহানগর এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয়, চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন, জাল নোটের ব্যবহার রোধ, সড়ক, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিতকরণসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী প্রমুখ

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘প্রতিটি কোরবানির পশুর হাটে থানার নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম, জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ, ওয়াচ টাওয়ার ও মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি, মানি এসকর্ট এবং স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাও চালু থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনকে কেন্দ্র করেও বিশেষ নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চামড়া পাচার রোধে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কোনো এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি প্রতিরোধ এবং চামড়া পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সময় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।’

শওকত আলী বলেন, ‘নগরীর প্রতিটি ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে আবাসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’

সৌদি আরবে সড়কে ঝরল কুমিল্লার ২ প্রবাসীর প্রাণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
সৌদি আরবে সড়কে ঝরল কুমিল্লার ২ প্রবাসীর প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেদ্দা-রিয়াদ মহাসড়কে আফিফ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরে আলম (৪২) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসুদাই গ্রামের খলিলুর রহমান সওদাগরের ছেলে এবং ইদ্রিস মিয়া (৪৩) জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পৌর এলাকার বাসিন্দা। তারা দুই বন্ধু সৌদি আরবের রিয়াদে এ সঙ্গে ব্যবসা করতেন।

নিহত নুরে আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, শুক্রবার জেদ্দা থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে রিয়াদের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। এক পর্যায়ের তাদের বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরো বলেন, নুরে আলম আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। স্বামীর লাশ দেশে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছেন তিনি। 

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি। পরিবার আবেদন করলে লাশ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে সরকারি প্রক্রিয়ায় লাশ দেশে আনার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে হামের থাবা

‘সাতটি হাসপাতালে নিয়েও আমার আদরের মানিককে বাঁচাতে পারলাম না’

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
‘সাতটি হাসপাতালে নিয়েও আমার আদরের মানিককে বাঁচাতে পারলাম না’
শিশু সাজিদ আল নাহিয়ান। সংগৃহীত ছবি

‘তিন মেয়ের পর ১৬ বছর অপেক্ষা করে আমরা পুত্রসন্তান পেয়েছিলাম। তাকে বাঁচানোর জন্য চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, ঢাকাসহ সাতটি হাসপাতালে নিয়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারলাম না।’

কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার সিংরাইশ গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ আহমেদ সুমন। হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে সাত মাস বয়সী ছেলে সাজিদ আল নাহিয়ানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি ও তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার।

রবিবার (১৭ মে) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাজিদ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পারভেজ-সুলতানা দম্পতির তিন কন্যাসন্তানের পর সাত মাস আগে জন্ম নেয় সাজিদ আল নাহিয়ান। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার পর পুত্রসন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

গত ১৪ এপ্রিল সাজিদের জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর কিছুটা সুস্থ হলেও ১২ মে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে সে।

পরে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজধানীর শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ও সর্বশেষ তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সাজিদ হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে সাজিদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।’