• ই-পেপার

মসজিদ কমিটি নিয়ে সংর্ঘষ, আহত ১৫

দোহারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার দোহার উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে দোহার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, তাদের অনেকের বাড়িতে এসি, ফ্রিজসহ উচ্চ বিদ্যুৎ খরচকারী কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র না থাকলেও অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তারা ‘ভুতুড়ে বিল’ এবং গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে অতিরিক্ত বিল সংশোধনের দাবি জানান।

প্রতিবাদকারীরা দ্রুত অনিয়ম বন্ধ, অতিরিক্ত বিল সংশোধন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের পদত্যাগও দাবি করেন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানায়।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি সংশোধনের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অফিস সময়ে তালাবদ্ধ নরসিংদী সদর ভূমি অফিস, ৮ জনকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অফিস সময়ে তালাবদ্ধ নরসিংদী সদর ভূমি অফিস, ৮ জনকে শোকজ
ছবি : কালের কণ্ঠ

অফিস সময় শুরু হওয়ার পরও নরসিংদী সদর উপজেলা ভূমি অফিস তালাবদ্ধ পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগোসহ আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে আকস্মিক পরিদর্শনে নরসিংদী সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান সিনিয়র সচিব। এ সময় তিনি অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে অফিসের ঝাড়ুদারের সহায়তায় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে এবং কানুনগো মোহাম্মদ খলিলুর রহমান সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে অফিসে আসেন। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে সিনিয়র সচিব কার্যালয় ত্যাগের সময় একজন অফিস সহায়ক ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না।

ঘটনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নরসিংদীর জেলা প্রশাসককে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে জেলা প্রশাসক সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা-২০২৪ অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগোসহ আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।

নোটিশপ্রাপ্তদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

মৌলভীবাজারে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (২৮জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের চা ভাস্কর্য (চা কন্যা) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকার রমজান মিয়ার ছেলে সৌরভ (১৭) এবং একই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে নাঈম (১৭)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন একই এলাকার শহিদ আলীর ছেলে সাব্বির (২৫)। আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে থাকা বন্ধু রাকিব জানান, ‘দুইটি মোটরসাইকেলে করে তারা হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসছিলেন। নিহত দুই তরুণ ও আহত সাব্বির একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। শ্রীমঙ্গলে প্রবেশের সময় চা ভাস্কর্য এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তারা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিব ও নাইমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাব্বিরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান জানান, ‘বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর হানিফ পরিবহনের বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তহশিলদারের বিরুদ্ধে দখলীয় সম্পত্তিকে বেদখল দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
তহশিলদারের বিরুদ্ধে দখলীয় সম্পত্তিকে বেদখল দেখিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দাঁতভাঙ্গা বাজারে দুই শতক জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (তহশিলদার) তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দখলে থাকা জমিকে বেদখল দেখিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া এবং রাতারাতি ঘর তুলে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) শাহাদাত হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দা সফিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রফিক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০০৩ সালে ১৮৫৮ ও ১৮৫৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি দুই শতক জমি কিনে নেন। এরপর সেখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করছেন। বর্তমানে ওই স্থানে সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে সফিয়ার রহমান ও তার সহযোগীরা আদালতে বিচারাধীন বিরোধের সুযোগ নেন। মামলার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত তহশিলদার শাহাদাত হোসেন সরেজমিনে প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে জমিটি রফিকের দখলে নেই এবং সেখানে বিবাদীপক্ষের বসতবাড়ি রয়েছে। ওই প্রতিবেদনের পরপরই জোরপূর্বক জমিতে ঘর নির্মাণ করে দখল নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রফিক বলেন, আমার নামে বৈধ দলিল, নামজারি এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধের সব কাগজপত্র রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি জমিটি ভোগদখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছি। সেখানে সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমও চলছে। তার পরও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।


স্থানীয় বাসিন্দা বেনেজীর, মোন্তাজ আলী ও আশরাফুল বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে রফিককে ওই জমি ভোগদখল করতে দেখেছেন। সম্প্রতি সফিয়ার রহমান ও তার ছেলেরা সেখানে এসে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেন বলে জানান তারা। 

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, অনেক বছর ধরে এই জমিতে রফিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। এরপরও তদন্ত প্রতিবেদনে কিভাবে জমিটি তার দখলে নেই বলে উল্লেখ করা হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন।

অভিযুক্ত সফিয়ার রহমানের ছেলে রহিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাও একই মালিকের কাছে জমি কিনেছি, তাই কাজ করছি।

প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত সফিয়ার রহমান ও তার ছেলে রহিমের কাছে নামজারি এবং মালিকানার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো দলিলপত্র দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার সহকারী ভুল করে আমার নামে রিপোর্ট দিয়েছে। আমি সরেজমিনে দেখতে যাইনি।

নামজারি ও ব্যাংকের কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেদনে জমিটি রফিকের দখলে নেই কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেব না। ইউএনও বা এসিল্যান্ডকে বলেন, যা করার তারা করবেন।

রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

মসজিদ কমিটি নিয়ে সংর্ঘষ, আহত ১৫ | কালের কণ্ঠ