• ই-পেপার

দুই বাতি ও এক ফ্যানের ঘরে বিদ্যুৎ বিল আড়াই কোটি টাকা

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধ ১

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধ ১
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে মুখোশধারী ডাকাত দলের হামলায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় বাড়ির এক বৃদ্ধাকে মারধর করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে ধলেশ্বরী নদীপথে ট্রলারে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

রবিবার (২৮ জুন) ভোরে ফতুল্লা উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকায় ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন প্রতিবেশী গিয়াস উদ্দিন (৪৮) এবং ওই বাড়ির সদস্য বিউটি আক্তার (৬৫)।

ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া জানান, ভোর রাতে ১৪ থেকে ১৫ জনের মুখোশধারী ডাকাত ট্রলারে করে ধলেশ্বরী নদীপথে এসে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। নিচতলার কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে তারা। এক পর্যায়ে তার মা বিউটি আক্তার চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে চাইলে ডাকাতরা তাকে মারধর করে।

তিনি আরো জানান, ডাকাতরা আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে। এ সময় প্রতিবেশী গিয়াস উদ্দিন এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার কাঁধে বিদ্ধ হয়। পরে ডাকাতরা ট্রলারে করে ধলেশ্বরী নদীপথে পালিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, গিয়াস উদ্দিনের কাঁধে বিদ্ধ শর্টগানের একটি বল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়েছে। মারধরে আহত বিউটি আক্তারকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতরা নদীপথে ট্রলারে করে এসে একই পথে পালিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে শর্টগানের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিপৎসীমার কাছাকাছি দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
বিপৎসীমার কাছাকাছি দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও কয়েকটি পয়েন্টে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাত ৯টায় কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সব শেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৫৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। অর্থাৎ নদীটি বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিন সকাল ৬টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮৯ মিটার। দিনভর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে রাত ৯টায় তা ২৯ দশমিক ৫৮ মিটারে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে শহ‌রের ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৪ দশমিক ৭৭ মিটার। যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচে। সারাদিন এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। একই সময়ে তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ২৯ দশমিক ৫৩ মিটার। যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৩৪ মিটার নিচে।

ব্রহ্মপুত্র নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৪ দশমিক ৭৯ মিটার, চিলমারী পয়েন্টে ২২ দশমিক ২৯ মিটার এবং এ হাটিয়া পয়েন্টে ২৩ দশমিক ৩১ মিটার। তিনটি পয়েন্টেই পানি ধীরে ধীরে বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৫৯ মিটার। নদীর বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নিচে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া ও চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, লুছনি ও ফান্দরচর এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিচু এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, দুধকুমার নদীর পানি আরো কিছুটা বে‌ড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে জেলার অন্য নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। 

রাকিবুল হাসান বলেন, স্বল্প‌-মেয়া‌দী বন্যার সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

বাঞ্ছারামপুরে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি, বিপাকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
বাঞ্ছারামপুরে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি, বিপাকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
বাঞ্ছারামপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দিন ও রাত মিলে প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

জানা গেছে, জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহককে। হঠাৎ এই লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের।

এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ নির্ভর স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে।

বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল মেশিনারিজ স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ভালো থাকে। আর ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় এসব মেশিনারিজের ক্ষতি হয়। এত বেশি লোডশেডিং দেশের আর কোথাও হয় কি না আমার জানা নেই। মনে হয় বাঞ্ছারামপুরে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।’

বাঞ্ছাপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী রিফাত আবীর বলেন, ‘একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুইটা মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। ২ জুলাই থেকে আমাদের এইসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে এর মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সকাল, বিকাল ও রাতে যখনই পড়তে বসি তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে আমার মতো পরীক্ষার্থীদের কয়েকদিন আগেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা ভাবিনি।’

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ব্যবসায়ী সফিউল  ইসলাম বলেন, ‘আমার দোকানে বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। ৫-৬ জন ষ্টাফকে বেতন দিতে হয়, তবে কাজ কিছুই হয় না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ বাঞ্ছারামপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘সারা উপজেলায় আমাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৫-২৭ মেগাওয়াট। কুমিল্লার গৌরীপুর সংলগ্ন তিতাস সাবস্টেশনের গ্রিড লাইন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৫-৬ মেগাওয়াট । চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। আশা করছি জুলাই মাসে সরবরাহ বাড়বে। তার জন্য তদবির চলছে।’

গাজীপুরে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
গাজীপুরে শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে জামাই বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শিশু জান্নাতী (১২) টঙ্গীর জামাই বাজার এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, রবিবার দুপুর দেড়টায় টঙ্গীর জামাই বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফাঁসিতে ঝুলন্ত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই অপমৃত্যুর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।