• ই-পেপার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য মোহআম্মদ আলী আর নেই

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে পদ্মাসহ ৪ নদীর পানি, কোথাও কোথাও নদীভাঙন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে পদ্মাসহ ৪ নদীর পানি, কোথাও কোথাও নদীভাঙন
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ১৫ দিন ধরে পদ্মা, মহানন্দা, পূণর্ভবা ও পাগলা নদীর পানি বাড়ছে। এখনও পানি বিপৎসীমার অনেক নীচে প্রবাহিত হলেও বৃদ্ধির হার দ্রুত। সেই সঙ্গে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে পদ্মা নদীর তীর ভাঙন। সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকাতে কোথাও কোথাও ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোড (পাউবো) সূত্র বলছে, গত ১০ জুলাই থেকে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। মৌসুমী এই বৃদ্ধি স্বাভাবিক। উজানে ভারতে বৃষ্টি ও ধেয়ে আসা পানির ঢল এর মূল কারণ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তঘেঁষা ফারাক্কা বাঁধের অদূরে পদ্মানদীর বাংলাদেশের পাংখা পয়েন্টে পদ্মার বিপৎসীমা ২২.০৫ মিটার। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে ওই পয়েন্টে পানি ১৮.৪৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিগত ২৪ ঘণ্টায় প্রবাহ ৯ সেমি বেড়েছে। গত ১০ জুলাই এই পয়েন্টে পানি ১৪.৮৭ মিটারে প্রবাহিত হয়। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ঘেঁষা মহানন্দা নদীর বিপৎসীমা ২০.৫৫ মিটার। শুক্রবার মহানন্দা ১৭.০৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টায় প্রবাহ ১৭ সেমি বেড়েছে। ১০ জুলাই এই নদী ১৩.৭৪ মিটারে প্রবাহিত হয়। 

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে পূণর্ভবা নদীর বিপৎসীমা ২১.৫৫ মিটার। শুক্রবার এই নদী প্রবাহিত হচ্ছিল ১৭.৮৬ মিটারে। ২৪ ঘণ্টায় প্রবাহ বেড়েছে ২৩ সেমি। ১৪ জুলাই এই নদী ১৪.৭১ মিটারে প্রবাহিত হয়।

শিবগঞ্জের দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, পদ্মাপাড়ের খাকসাপাড়া, মনোহরপুর, দোভাগি ঘাইপাড়া এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। খাকসাপাড়া থেকে ৮টি পরিবার সরিয়ে নিতে হয়েছে। কিছু পটলের জমি নেমে গেছে। এসব স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড ক্রমাগত ভেঙে পদ্মায় প্রায় বিলীন হয়েছে। এখন ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙন চলছে। গত চৈত্র মাস থেকে এসব এলাকার শতাধিক বাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সদরের নারয়ানপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, পদ্মাপড়ের ১, ৩, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পুরাতন ভাঙন আবার শুরু হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, ভারত থেকে আসা পানির কারণেই জেলার নদীগুলোর পানি বাড়ছে। তবে মৌসুমী এই বৃদ্ধির জন্য এখনও কোনো আশঙ্কা তৈরি হয়নি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কোনো সতর্কতা জারি করেনি। 

ভাঙন সম্পর্কে তিনি বলেন, ৭৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার উভয় তীর স্থায়ীভাবে রক্ষার একটি কাজ  শিগগিরই শুরু হবে। পানি বাড়া ও কমার সময় নদী ভাঙে বলেও জানান এই নির্বাহী প্রকৌশলী। 

সৌদির সড়কে নিহত মা-ছেলে-মেয়ের দাফন সম্পন্ন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
সৌদির সড়কে নিহত মা-ছেলে-মেয়ের দাফন সম্পন্ন

একটি পরিবারের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল পবিত্র কাবাঘর জিয়ারত করা। সেই উপলক্ষে ওমরাহর নিয়তে ঘর ছেড়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মধ্যে সৌদির মহাসড়কে নিভে গেল তিনজনের প্রাণ। ওই পরিবারের মা-ছোট ছেলে ও মেয়ে মারা গেছে। আর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাবা ও বড় ছেলে। সন্তানেরা প্রথমবারের মতো চোখ ভরে দেখবে বায়তুল্লাহ, সেই স্বপ্ন নিয়েই গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে মক্কার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল পরিবারের পাঁচ সদস্য। কিন্তু আল্লাহর ঘরের পথে সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের জীবনের শেষ সফর।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিনের কথা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে আহত শফিকুল ইসলাম খোকন নিজেই প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন। 

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের আটঘর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। আহত হয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল। তারা সৌদির স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বজনরা জানান, সকালে সবাই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে রওনা হয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি রিয়াদ-মক্কা মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ভারী যান সজোরে ধাক্কা দেয় গাড়িটিকে। প্রচণ্ড আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় প্রাইভেটকারটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তানিয়া তাহমিনা রিনা, তার কলেজপড়ুয়া ছেলে তাসবিক এবং কিশোরী মেয়ে জারা। আহত শফিকুল ইসলাম ও নাবিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হলেও প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাস করছিলেন। সন্তানদের বড় করেছেন প্রবাসেই। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে ওমরাহ পালন ছিল তাদের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষাই হয়ে উঠল এক পরিবারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

নিহতের ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, পরিবারের সবাই ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। পথে তাদের গাড়িকে পেছন থেকে একটি বড় যানবাহন ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার বোন, ভাগ্নে ও ভাগ্নির মৃত্যু হয়। ভগ্নিপতি ও বড় ভাগ্নে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহতের মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই দেশে-বিদেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবাই আহতদের সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহোদয় যোগাযোগ রাখছিলেন লাশ দেশে আসার বিষয়টি নিয়ে। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের অবস্থা বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। তাই সৌদির মাটিতেই তাদের তিনজনের দাফন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। 

তিনি বলেন, নিহত ও আহতরা সবাই সৌদিতেই প্রবাস জীবন যাপন করতেন। নিহত তানিয়া তাহমিনার স্বামী আহত সফিকুল ইসলাম সেখানে চাকরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় হলেও ঢাকার উত্তরার বাড়িতে তার মা থাকেন বলে জানতে পেরেছি।
 

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের এক টাকাও তছরুপ করতে দেওয়া হবে না

বগুড়া প্রতিনিধি
সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের এক টাকাও তছরুপ করতে দেওয়া হবে না
ছবি: কালের কণ্ঠ

সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ জনগণের আমানত। এই অর্থের এক টাকাও অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করতে দেওয়া হবে না। উন্নয়নের প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ-মোকামতলা) আসনের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত ছিল এবং বিভিন্ন খাত অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি ও বিনোদনের বিকাশ ঘটানো হবে। গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী সার্কাস, জারি-সারি গান, শালীন যাত্রাপালা ও গ্রাম্য নাটকের মতো লোকজ সংস্কৃতির চর্চা আবারও সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

মীর শাহে আলম আরো বলেন, সরকারের প্রতিটি মানবিক কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না।

বন্ধুত্বের টানে নাটোরে চীনা যুবক

নাটোর প্রতিনিধি
বন্ধুত্বের টানে নাটোরে চীনা যুবক
সংগৃহীত ছবি

মোবাইলে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে নাটোরের বড়াইগ্রামের মেয়ে সাদিয়া খাতুনের সঙ্গে পরিচয় হয় চীনা নাগরিক সুবেশের। সেখান থেকেই শুরু হয় বন্ধুত্বের। আর সেই বন্ধুত্বের টানে ওই তরুণীর বাড়িতে ঘুরতে এসেছেন সুবেশ। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। 

বৃহস্পতিবার রাতে ওই চীনা যুবক উপজেলার ভবানীপুর ভাটোপাড়া এলাকায় সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে উঠেন। তরুণী সাদিয়া খাতুন ওই এলাকায় সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে স্কুলছাত্রী সাদিয়া খাতুনের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই চীনা যুবকের। এরপর তৈরি হয় বন্ধুত্ব। এক সময় বাংলাদেশে তার বাড়িতে বেড়াতে আসতে ইচ্ছা পোষণ করেন ওই যুবক। এরপর পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে ছবি পাঠায় সাদিয়ার কাছে। প্রথমে সাদিয়া বিশ্বাস করেননি বাংলাদেশে আসবেন তিনি। এরপর সাদিয়া তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানালে সম্মতি দেন তারা। বৃহস্পতিবার বিমানে উঠে তরুণীকে জানালে পরিবার সদস্যরা ওই যুবককে ঢাকা বিমানবন্দরে রিসিভ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

সাদিয়া খাতুন জানান, একটি অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়। তারপর আমাদের মধ্যে গড়ে উঠে বন্ধুত্ব। পরে সে আমার সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে আসতে চায়। আমি বিশ্বাস করিনি, সে আসবে। ঢাকা বিমানবন্দরে এলে আমার পরিবারের লোক গিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতেই সে বাংলাদেশে এসেছে। 

সাদিয়ার বাবা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। সে আমাদের এলাকায় বেড়াতে আসতে চাইলে, আমরা তাকে আসতে বলি। সে বন্ধু হিসেবে এসেছে, কিছুদিন বেড়ানোর পর আবার চলে যাবে। 

জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর জানান, আমাদের এলাকায় চীন থেকে একজন নাগরিক বেড়াতে এসেছেন। ভাটোপাড়ার এক মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব সম্পর্ক রয়েছে। সে বাড়িতে এখন অবস্থান করছে। কিছুদিন বেড়ানোর পর তিনি তার দেশে ফিরে যাবেন বলে জেনেছি।