• ই-পেপার

একা পেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন 'ঘর জামাই'!

গোসলে নেমে গুপ্ত খালে তলিয়ে বাবা নিখোঁজ, উদ্ধার ছেলে

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
গোসলে নেমে গুপ্ত খালে তলিয়ে বাবা নিখোঁজ, উদ্ধার ছেলে
নিখোঁজ হেলাল উদ্দিন (বাঁয়ে) ও তার উদ্ধার হওয়া ছেলে নিলয়। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে গোসলে নেমে গুপ্ত খালে তলিয়ে যান পর্যটক বাবা-ছেলে। পরে উদ্ধারকর্মীরা ছেলেকে উদ্ধার করলেও নিখোঁজ রয়েছেন বাবা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় কলাতলী সৈকত সংলগ্ন মডার্ন হ্যাচারি পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ পর্যটকের নাম হেলাল উদ্দিন (৫২)। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা মৃত আনোয়ার মেম্বারের ছেলে।

নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, সি-সেইফ লাইফ গার্ড ও প্রশাসনের বিচকর্মীরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সি-সেইফ লাইফ গার্ডের উদ্ধারকর্মী জয়নাল আবেদীন জানান, মেহেরপুর থেকে আসা একটি পরিবার সন্ধ্যায় কলাতলী সৈকতের মডার্ন হ্যাচারি পয়েন্টে গোসলে নামে। এক পর্যায়ে সৈকতে জোয়ারের পানিতে সৃষ্টি হওয়া একটি গুপ্ত খালের গর্তে বাবা ও ছেলে তলিয়ে যান।

তিনি জানান, তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে গুরুতর অবস্থায় ছেলে নিলয়কে (২২) উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার বাবা হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, সি-সেইফ লাইফ গার্ড ও প্রশাসনের বিচকর্মীরা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, বর্ষার এমন সময়ে কক্সবাজার সৈকতে সামুদ্রিক জোয়ার ও টানা বর্ষণে সৈকতের বালিয়াড়িতে গুপ্ত খালের সৃষ্টি হয়। এসময় উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া সৈকতে গোসল নামা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ বিষয়টি নিয়ে গত দুই সপ্তাহ আগে কালের কণ্ঠে সচিত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

গঙ্গাচড়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, ঝরে গেল দুই প্রাণ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
গঙ্গাচড়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, ঝরে গেল দুই প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গঙ্গাচড়া থানার খলেয়া ইউনিয়নের পাগলাপীর-জলঢাকা সড়কের পূর্ব খলেয়া রথবাড়ী এলাকায় আরএফএল কম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলঢাকার দিক থেকে পাগলাপীর অভিমুখে যাওয়ার সময় একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী রাধা রানী সরকার (৪০) ও অঞ্জনা রানী সরকার (৫০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলচালক অজিত চন্দ্র সরকার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহত রাধা রানী সরকারের স্বামী দুলাল সরকার এবং অঞ্জনা রানী সরকারের স্বামী দ্বিজেন্দ্র নাথ সরকার। তাদের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা বাবুপাড়া এলাকায়।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রাজিব গ্রেপ্তার

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রাজিব গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার ডা. ইসমাঈল আল রাজিব

নরসিংদীর রায়পুরায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইসমাঈল আল রাজিবকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার তুলাতুলি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।

তিনি জানান, আটকের সময় ডা. ইসমাঈল আল রাজিবের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে রায়পুরা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ডা. ইসমাঈল আল রাজিব রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ৯ মাস আগে তিনি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পান। ডা. ইসমাঈল আল রাজিব মাদকাসক্ত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে অতীতেও তাকে অপসারণের দাবি উঠেছিল। তবে সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জান্নাতুল নাঈম বলেন, হাসপাতালে স্টাফদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ইসমাঈল আল রাজিব ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা যাবে অভিযোগ সত্য নাকি মিথ্যা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন জানান তিনি।

নারী নির্মাণ শ্রমিককে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
নারী নির্মাণ শ্রমিককে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নয়নী রাজবংশী নামে এক নারী নির্মাণ শ্রমিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর খুনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় মির্জাপুর থানা পুলিশ রবিউল (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে রবিউলকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় রবিউল।

মির্জাপুর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট সাগর তালুকদার তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। নয়নী রাজবংশী মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের মরণ রাজবংশীর স্ত্রী। 

পুলিশ সূত্র জানায়, জানু নামের রাজমিস্ত্রির এক সর্দারের সঙ্গে নয়নী রাজবংশীর পরকীয়া চলছিল। এক দিন নয়নী এবং জানুর দৈহিক মিলনের বিষয়টি রবিউল দেখে ফেলেন। রবিউল ও নয়নী রাজবংশী এক সঙ্গে ঢালাই কাজে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। এর মধ্যে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে উঠে। রবিউল মাঝে মধ্যে নয়নী রাজবংশীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি রবিউলের স্ত্রী মিম ভালোভাবে না নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা লেগেই থাকত।

গত কোরবানির ঈদের আগের দিন রবিউলের স্ত্রী বাবার বাড়ি উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুড়িহাটী গ্রামে চলে যান। এরপর তিনি আর স্বামীর বাড়িতে ফেরেননি। এই ক্ষোভে রবিউল নয়নী রাজবংশীর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং সুযোগ খুঁজতে থাকেন। গত ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) রাত ১১টার দিকে রবিউল নয়নীর বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নয়নীকে নিয়ে পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়ায় কাদের মিয়ার বাড়িতে নিয়ে দৈহিক মিলনের চেষ্টা চালায়। নয়নী এতে বাধা দিলে রবিউল তার বলে বুকের ওপর চরে বসে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধর্ষণ করে। এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর পারে ঝোপের মধ্যে মরদেহ ফেলে দেয় বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেন। রবিউল এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

গত মঙ্গলবার রাতে এবং পরের দিন বুধবার নয়নী বাড়িতে না ফেরায় তার মেয়ে টুম্পা রাজবংশী (৩০) রবিউলকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ রবিউলকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে নয়নীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে তার স্ত্রী চলে যায়। এই রাগে রবিউল কৌশলে নয়নীকে ডেকে নিয়ে দৈহিক মিলনের চেষ্টা চালায়। এতে সে বাধা দিলে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কাদের মিয়ার বাড়ির পাশে লৌহজং নদীতে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে নয়নী রাজবংশীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসলাম জানান, রবিউল নয়নীকে হত্যার পর ধর্ষণের কথা মির্জাপুর আমলী আদালতের বিচারক সাগর তালুকদারের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকার করেছেন।

একা পেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন 'ঘর জামাই'! | কালের কণ্ঠ