kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

মামুনুল হকের সমালোচনা করে বিপাকে শিক্ষক-দুই যুবলীগ নেতা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ২০:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামুনুল হকের সমালোচনা করে বিপাকে শিক্ষক-দুই যুবলীগ নেতা

হেফাজত নেতা মামুনুল হক ও শিশু বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নিয়ে সমালোচনা করায় দিরাইয়ে তোপের মুখে পড়েছেন এক স্কুলশিক্ষক। সালিস বসিয়ে হেফাজত নেতাকর্মীরা তার চাকরিচ্যুতির দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করায় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।

এদিকে একই ঘটনার জের ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করায় তাহিরপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যুবলীগ নেতা ও শাল্লা উপজেলায় আরেক যুবলীগ নেতা আতঙ্কে আছেন। তাহিরপুরের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও যুবলীগ নেতাকে তাৎক্ষণিক মামলা দিয়ে পুলিশ আদালতে পাঠানোর পর এমাদ হোসেন জয় নামের ওই যুবলীগ নেতাকে জামিন দিয়েছে।

অন্যদিকে শাল্লা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবলীগ নেতা অরিন্দম অপু চৌধুরীর বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীন আছেন। স্থানীয় প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি বিষয়টি অবগত করেছেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার সকালে দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের বাংলাবাজারে একটি হোটেলে নাস্তা করছিলেন রফিনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসবি গোলাম মোস্তফা। তিনি কথা প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক ও রফিকুল হক মাদানী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন বলে পরিচিতজনদের সতর্ক করেন। এ সময় স্থানীয় এক হেফাজত নেতা তার বক্তব্য শুনে উত্তেজিত হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমানার অভিযোগ আনেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বাজারে বিক্ষোভ করেন মামুনুল হকের অনুসারীরা। তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন বাজারে।

খবর পেয়ে দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন, ওসি আশরাফুল ইসলাম, রফিনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রেজোয়ান হোসেন খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জরুরি সভায় বসেন। সভায় হেফাজতের স্থানীয় অনুসারীরাও যোগ দিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং প্রধান শিক্ষক এস বি জয়নাল আবেদিনকে চাকরিচ্যুতির আহ্বান জানান। একপর্যায়ে তাদের অনড় অবস্থানের কারণে ও প্রশাসনের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক ক্ষমা চান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও হেফাজত অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে প্রধান শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান রেজোয়ান হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক কী বলেছেন আমরা কেউ শুনিনি। হেফাজতের স্থানীয় একজন হুজুর বিষয়টি শুনে অন্যদেরও অবগত করেন। এতে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা ওই শিক্ষকের চাকরিচ্যুতিরও দাবি জানান। আমরা তাদেরকে অনুরোধ করে নিবৃত্ত করি। পরে প্রধান শিক্ষক তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

দিরাই থানার ওসি মো. আশরাফুল আলম বলেন, খবরটি শোনার পরই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে কিছু লোক প্রধান শিক্ষকের চাকরিচ্যুতি ও বিচার দাবি করেছিল। আমরা বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বিষয়টি শেষ করে দিয়ে এসেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল বলেন, হেফাজত নেতার সোনারগাঁ কাণ্ডের ঘটনায় সারা দেশের মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত স্ত্রীর ছবি সংবলিত পোস্ট শেয়ার করছে। কিন্তু তাহিরপুরে আমার কর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে এ কারণে মামলা দিয়ে জেল হাজতের ঘটনা নিন্দনীয়। আমরা যারা দেশে ভাঙচুর, হামলা করে দেশের ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা