• ই-পেপার

ট্রেনের ধাক্কায় প্রতিবন্ধী যুবক নিহত

মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুই ফেরি চলাচল উদ্বোধন

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুই ফেরি চলাচল উদ্বোধন

মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, মোংলা বন্দর, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের হাজারো কর্মজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং নদী পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

শনিবার সকালে স্থায়ী বন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফেরিঘাটে ফুলটাইম ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ সালে মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এতদিন কেবল জোয়ারের সময় ফেরি চলত। ভাটার সময় ফেরি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এখন থেকে দুটি ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করবে।

তিনি বলেন, ফেরিঘাটে ভাড়ার তালিকা (চার্ট) দৃশ্যমানভাবে টানাতে হবে। ভাড়ার তালিকা না থাকলে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দেবেন না। সরকার সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা রাজনীতি করতে চাই। এছাড়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সমাজের পজিটিভের পাশাপাশি নেগেটিভ বিষয়েও তুলে ধরবেন, তাতে আমরা নিজেদের সুধরাতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, ফুলটাইম ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় জয়মনির খাদ্যগুদাম থেকে পণ্য পরিবহন সুবিধা হবে। এছাড়া মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও রামপালের মানুষের যাতায়াতসহ কৃষিপণ্য পরিবহন সহজতর হবে। এর ফলে এ ফেরি সার্ভিসটি লাভজনক হয়ে উঠবে।

২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচলের এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাস, বাগেরহাট সড়কনও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার এবং গোলাম নুর জনি।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এতদিন তা কেবল জোয়ারের সময় সীমিত আকারে পরিচালিত হতো। দীর্ঘ ২৩ বছর পর শনিবার সকাল থেকে দুটি ফেরি ২৪ ঘণ্টা চলাচল শুরু করল।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, মোংলা নদীর উপর ঝুলন্ত সেতু হবে। সেই সেতু না হওয়া পর্যন্ত এ নদীতে ফুলটাইম দুইটি ফেরি চলাচল করবে। এতে এখানকার মানুষের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চৌদ্দগ্রামে পরপর তিন গাড়ির সংঘর্ষ, ট্রাকের হেলপার নিহত

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে পরপর তিন গাড়ির সংঘর্ষ, ট্রাকের হেলপার নিহত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তিনটি পণ্যবাহী যানবাহনের সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাতিসা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাকের হেলপারের নাম সিয়াম (২৫)। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। 

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৪১৫৩ ) কোনো ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার না করে মহাসড়কের বাম পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় একই দিকে যাওয়া (চট্ট মেট্রো-ট-১২-০৭৮৬) নম্বরের মালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের হেলপার সিয়ামসহ তিনজন আহত হন। দুর্ঘটনায় ট্রাকের সামনের অংশ ও কাভার্ডভ্যানের পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আরেকটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-২৪১০) দ্রুতগতিতে এসে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দিলে ট্রাকটির পেছনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তিনটি গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ওসি রুহুল আমিন আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

রামগতি

সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধান রোপণ করল এলাকাবাসী

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধান রোপণ করল এলাকাবাসী
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিশারী জামে মসজিদ থেকে তহসিলদার বাড়ি পর্যন্ত ‘মুক্তিযোদ্ধো সায়েদুলহক সড়ক’ নামের এক কিলোমিটার রাস্তাটি ২৬ বছরেও পাকা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে কাদাযুক্ত রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসী। 

জানা যায়, ২০০০ সালে রামগতি পৌরসভা গঠিত হলে রাস্তাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে চলে যায়। এর আগে এটি রামগতি উপজেলার আওতাধীন ছিল। ১৯৯০ সালের দিকে রাস্তাটি প্রথমে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে চলাচলের জন্য নির্মাণ করেন। পরে এটি পৌরসভার রাস্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরেও রাস্তাটি পাকা করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধি আসছে আর গেছে, কিন্তু কেউই এ রাস্তার দিকে নজর না দেওয়ায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী।

তবে পৌরসভা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সায়েদুলহক সড়কসহ মোট ৫টি রাস্তা নিয়ে একটি প্যাকেজ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে প্যাকেজটি অনুমোদন হয়। বর্তমান ওই প্যাকেজের কাজটি চলমান রয়েছে। অল্পসময়ের মধ্যে ওই রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আলেকজান্ডার আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম নয়ম বলেন, ‘যখন উপজেলার আওতাধীন ছিল, তখনও পাকা করার কোন উদ্যোগ নওয়া হয়নি। এর পর পৌরসভা গঠিত হলেও কেউ জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির দিকে নজর দেয়নি।’

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও কাজ হয়নি। তাই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পৌরসভার রাস্তার এমন অবস্থা হলে গ্রামের রাস্তা কেমন হবে?  তা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেনা।’

এ বিষয়ে রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফখরুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘রাস্তাটি পাকা করণের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

রামগতি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কাজ শুরু হবে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বলা হবে।’

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।’

মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে যুবক নিহত

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে যুবক নিহত
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সমসার হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নজির হোসেন আখঞ্জি (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোররাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত নজির হোসেন উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তরং গ্রামের মৃত আব্দুস সালাম আখঞ্জির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাতে গ্রামের পার্শ্ববর্তী সমসার হাওরে মাছ ধরতে যায় নজির হোসেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

ট্রেনের ধাক্কায় প্রতিবন্ধী যুবক নিহত | কালের কণ্ঠ