• ই-পেপার

মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুই ফেরি চলাচল উদ্বোধন

হাসপাতাল চালুর দাবি

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের
সংগৃহীত ছবি

হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন তারা। 

শনিবার বেলা ১১টায় তারা রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া চলবে বলে হুশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট  হাসপাতালের দৃষ্টিনন্দন ১০ তলা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও  এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর অবহেলায় এখনো চালু হয়নি চিকিৎসা কার্যক্রম। মেডিক্যাল মিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ওয়ার্ডক্লাসের মাধ্যমে হাতে কলমে শিক্ষার সুযোগ নেই। ফলে ৩য় থেকে ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লিনিক্যাল ক্লাসে সরাসরি রোগী দেখার সুযোগ পাচ্ছে না। একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল হাসপাতালের অভাবে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার আশ্বাস দিয়েও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ২১ জুন থেকে ক্লাস, পরীক্ষা এবং সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলন করছেন তারা। 

এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৃথ্বীরাজ চৌধুরী, হারুণ উর রশিদ, সাইদুল ইসলাম সাকিব, পিয়াস চন্দ্র দাস, শাহপরান, কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল, রাফাত রেজা আকাশ, ফারজান আহমেদ মিম, তামিমা রহমান, শামসিয়া তাব্বাসুম মাইশা প্রমুখ।

বই আছে, পাঠক নেই

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর
বই আছে, পাঠক নেই

বিশাল হলরুম। সারি সারি আলমারির তাকজুড়ে গল্প-উপন্যাস, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ধরনের বই। রয়েছে পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল, আলো-বাতাস ও মনোরম পরিবেশ। তবে নেই শুধু পাঠকের কোলাহল। দিনে গড়ে ২৫ জনের বেশি পাঠকও আসেন না জামালপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে।

গ্রন্থাগার সূত্রে জানা গেছে, ‘শহরের কাচারিপাড়ায় ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গ্রন্থাগারটি। প্রথম দিকে বিভিন্ন বয়সী পাঠক নিয়মিত বই পড়তে আসতেন। পাঠকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত থাকত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ। বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে ৪৮ হাজার গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত তিন হাজার ৯টি গ্রন্থ আছে। বাংলা ভাষার নানা বিষয়ের ৪৫ হাজার গ্রন্থ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা হলরুম। সেখানে পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলারও ব্যবস্থা রয়েছে।’

1

সরেজমিনে দেখা যায়, কাঠের ফার্নিচার দিয়ে সাজানো পরিবেশ। চকচকে কাঠের চেয়ার-টেবিল, মেঝেজুড়ে টাইলস। রয়েছে পর্যাপ্ত আলো ও পাখা। তবে পাঠকের সংখ্যা নগণ্য। একসঙ্গে কখনো ১৫ জনের বেশি পাঠককে দেখা যায়নি গ্রন্থাগারে। উপস্থিত পাঠকদের বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থী। তারা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গ্রন্থাগারে আসেন। তবে গ্রন্থাগারে প্রতিদিনের পাঠকসংখ্যার খাতায় ৩৫ থেকে ৪০ জনের উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে।

গ্রন্থাগারে নিয়মিত পড়তে আসা হৃদয় হাসান নামের একজন বলেন, ‘প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন পড়তে আসেন। এখানে যারা পড়তে আসেন, তারা বেশির ভাগই চাকরির প্রস্তুতি নেন। তবে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য গ্রন্থাগারে মানসম্মত বই নেই। বাসা থেকে বই নিয়ে এসে এখানে পড়তে হয়।’

সাব্বির নামের একজন বলেন, ‘এখানে পড়ার সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও পাঠক খুবই কম। পর্যাপ্ত বই থাকলেও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য প্রয়োজনীয় বই নেই। এখন আর গল্প-উপন্যাস পড়ার জন্য কোনো পাঠক আসে না।’

2

কবি ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম অনেক বেশি অনলাইনে ব্যস্ত থাকে। তাই তারা বই পড়ায় সময় দিতে পারে না। গ্রন্থাগার ডিজিটালাইজেশন করে পাঠকের কাছে নিতে হবে। এ ছাড়া নতুন মানসম্মত বইয়ের পাশাপাশি পাঠক বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে দিনে দিনে পাঠক আরো কমে যাবে।’

এ বিষয়ে সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগের তুলনায় পাঠকসংখ্যা কমেছে।  প্রতিবছর নতুন নতুন বই সংগ্রহে যুক্ত হচ্ছে। পাঠকসংখ্যা বাড়াতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি।’

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের বয়স আট মাসের মধ্যে। 

শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।

মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুই শিশু ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। অপর দুই শিশুর একজন নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও অপর শিশু সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা। 

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ২২৬ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৬ শিশু। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ শিশু। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৯৪ শিশু। 
 

চৌদ্দগ্রামে পরপর তিন গাড়ির সংঘর্ষ, ট্রাকের হেলপার নিহত

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে পরপর তিন গাড়ির সংঘর্ষ, ট্রাকের হেলপার নিহত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তিনটি পণ্যবাহী যানবাহনের সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাতিসা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাকের হেলপারের নাম সিয়াম (২৫)। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। 

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৪১৫৩ ) কোনো ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার না করে মহাসড়কের বাম পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় একই দিকে যাওয়া (চট্ট মেট্রো-ট-১২-০৭৮৬) নম্বরের মালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের হেলপার সিয়ামসহ তিনজন আহত হন। দুর্ঘটনায় ট্রাকের সামনের অংশ ও কাভার্ডভ্যানের পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আরেকটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-২৪১০) দ্রুতগতিতে এসে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দিলে ট্রাকটির পেছনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তিনটি গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ওসি রুহুল আমিন আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।