উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে ২০০ গজ হেঁটে গেলেই মেঘনা নদী। নদীর তীর ব্লক দিয়ে বাঁধাই করে সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে জায়গাটি পরিণত হয় বিনোদন কেন্দ্রে। সমুদ্র সৈকতের রূপ পাওয়ায় এটি একসময় পরিচিতি পায় মিনি কক্সবাজার হিসেবে।
জায়গাটি মূলত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার মেঘনাতীর। হাজারো দর্শনার্থীতে মুখর থাকলেও সেখানে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ঘরতে আসা মানুষদের।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত বেড়িবাঁধ ঘিরে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে দর্শনার্থীদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ঢালু অংশ ঘেঁষে চটপটি, ফুসকা, চা ও খেলনার অসংখ্য স্থায়ী দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।
নদীতীরে চোখে পড়ে বাগানবাড়ী ফুড কর্নার, বিসমিল্লাহ চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, হিমেল হাওয়া চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, আলাউদ্দিন চটপটিসহ বিভিন্ন দোকানপাট। রয়েছে চায়ের দোকান, খাবারের হোটেল ও খেলনার দোকানসহ দুই শতাধিক দোকানপাট।
দর্শনার্থীরা জানান, তীরে হাঁটাচলার জায়গায় এসব দোকানপাট নির্মাণ করায় দর্শনার্থীদের চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। চলাচলের জায়গা না থাকায় নদীর তীর ঘেঁষে ব্লকের ওপর চলাচল করতে হয় দর্শনার্থীদের। এতে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় শিশুদের নিয়ে চরম বিড়ম্ভনার শিকার হচ্ছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। এমনকি প্রশাসনের কোনো তদারকিও নেই। ফলে দখলবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, বিনোদন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় দোকানগুলোর বর্জ্য সরাসরি মেঘনা নদীতে ফেলা হয়। এতে ওই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, কক্সবাজার বা নারায়ণগঞ্জের মেঘনাপারের মতোই আলেকজান্ডার ‘মিনি কক্সবাজার’ অবৈধ দখলমুক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে। স্থানীয়রা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন স্পটটির সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছে।
নাজমুন নাহার নামের এক দর্শনার্থী বলেন, চলাচলের জায়গায় দোকান বসেছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখানে আসার পর আতঙ্ক করছে। ব্লকের ওপর বাচ্চারা ছিটকে পড়লে সোজা মেঘনা নদীতে গিয়ে পড়বে।
আইরিন সুলতানা নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তদারকি নেই। নইলে এই জায়গায় এত দোকান কীভাবে বসল।’
দর্শনার্থী শরীফ হোসেন বলেন, ‘মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দোকান বসানো হয়েছে। এগুলো দেখতে খুব খারাপ লাগছে, পরিবেশ অসুন্দর হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের উচিত এখনি এসব দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া।’
দোকানদার আলাউদ্দিন ও জুয়েল হোসেন দুধা বলেন, ‘এখানে একটি চক্র রয়েছে। তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই সবাই দোকান নির্মাণ করেছেন। এখন প্রশাসন সরিয়ে দিলে কিছুই করার নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নদীতীরে রাখা যাবে না। চলাচলের জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে।’




