• ই-পেপার

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প : দ্রুত ক্ষতিপূরণ চেক দাবি

ভাঙা স্ল্যাবে পড়ে শিশুর মৃত্যু

এই দুর্ঘটনায় আমার দায় রয়েছে : কুসিক প্রশাসক

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
এই দুর্ঘটনায় আমার দায় রয়েছে : কুসিক প্রশাসক
ছবি: কালের কণ্ঠ

স্মৃতির মৃত্যুর ঘটনায় নিজের দায়ের কথা স্বীকার করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেছেন ‘এই দুর্ঘটনার দায় অবশ্যই আমার রয়েছে। স্মৃতির মৃত্যুর পর রাতে ঘুমাতে পারিনি। বারবার তার মুখটা চোখে ভেসে উঠেছিল। নিজের মেয়ের কথাও মনে হয়েছে। একটি শিশুর এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কষ্টের। সন্তান হারানোর কষ্ট কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে গিয়ে স্মৃতির বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন পরে স্মৃতির বাবা মো. বিল্লাল হোসেনের হাতে নগদ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি এবং ভবিষ্যতে তার যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। 

স্মৃতির মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসে কুসিক প্রশাসক আরো বলেন, নগরীর সব সড়কের ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্ল্যাবের তালিকা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। নগরীতে আর কোনো ভাঙা স্ল্যাব থাকবে না। অতীতের অপরিকল্পিত নগরায়নের খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। বছরের পর বছর পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন ও অবহেলার কারণে নগরবাসীকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে যাওয়া একটি ড্রেনের ভাঙা স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ভেসে যায় ৮ বছর বয়সী মাহফুজা আক্তার স্মৃতি। পরে প্রায় ১৫ মিনিট পর তাকে মৃত উদ্ধার করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নগরীর ড্রেন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয় এ মর্মান্তিক মৃত্যু।
 

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন পটিয়ার সাবেক মেয়র

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন পটিয়ার সাবেক মেয়র
ছবি : কালের কণ্ঠ

মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব বাবুল। সোমবার (২২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পটিয়ায় আনা হয়। জানাজা ও দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পারিবারিক ও প্রশাসন সূত্র জানায়, আইয়ুব বাবুলের মা আমজুমান আরা বেগম (৭৫) সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পটিয়া পৌরসদরের ওয়াপদা রোড এলাকার নিজ বাসভবনে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।

মায়ের মৃত্যুর পর শেষবারের মতো মুখ দেখা এবং জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।

প্রশাসন সূত্র জানায়, রাত ৯টা থেকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পটিয়া পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী এলাকায় আনা হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে পটিয়া আদালত জামে মসজিদ চত্বরে আমজুমান আরা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন আইয়ুব বাবুল। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফন শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইয়ুব বাবুলকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

জানাজায় অংশ নিয়ে আইয়ুব বাবুল মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘মহান রাব্বুল আল-আমিন যেন আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পর আইয়ুব বাবুলকে বাড়িতে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘প্যারোলে সাময়িক মুক্তির আদেশ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে পটিয়ায় আনা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি জানাজায় অংশ নেন এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার কারাগারে ফিরে যান।’

প্রসঙ্গত, আইয়ুব বাবুল বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মোট ছয়টি মামলার মধ্যে চারটিতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। পরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পর্দা নামল ৩ দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভালের

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
পর্দা নামল ৩ দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভালের
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি, জাতিগত বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির অনন্য বন্ধনকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে ৩ দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল (সিজন-২)’। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের পর্দা নেমেছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

তিন দিনের এ জমকালো আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় রোববার রাত ১১টার দিকে। উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখা।

সিলেট অঞ্চলে বসবাসরত ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সমন্বয়ে উৎসবটি আয়োজন করা হয়। নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি, নৃত্য, গান, লোকজ পরিবেশনা, হস্তশিল্প প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নানা আয়োজন উৎসব প্রাঙ্গণকে পরিণত করে বৈচিত্র্যের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

অংশগ্রহণকারী নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ছিল খাসিয়া, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, সবর, খাড়িয়া, রিকিয়াসন, বাড়াইক, কন্দ, রাজবল্লব, ভূইয়া, সাঁওতাল, ওরাও, লোহার, মুন্ডা, কুর্মী, ভূমিজ, বুনারাজি, গঞ্জু, মৃধা, তেলেগু, গৌড়, রবিদাস, পাইনকা, কৈরী/ভোজপুরী, কালিন্দি ও কড়া সম্প্রদায়।

আয়োজকদের মতে,হারমোনি ফেস্টিভ্যাল শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহাবস্থান এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পরিচিত করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরাই ছিল উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য।

পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ শ্রীমঙ্গলকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল টেকসই সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রসার। স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটনের বিকাশের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীরা তাদের নিজস্ব লোকজ গান, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক স্টল বরাদ্দ করা হয়। সেখানে হাতে বোনা পোশাক, গহনা, ঐতিহ্যবাহী শিকারের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক স্মারক প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। দর্শনার্থীরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পিঠাপুলির স্বাদ নেওয়ার সুযোগও পান।

উৎসবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের তৈরি হস্তশিল্প, পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ কাড়ে। এর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার বার্তাও উঠে আসে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ‘কমিউনিটি-বেসড ট্যুরিজম’ বা সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যও উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছিল। এই ধারণার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন কার্যক্রমের অংশীদার করে তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে পর্যটন সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফলে পর্যটনের সুফল সরাসরি স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এমন বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ‘হারমনি ডে’ বা ‘হারমনি উইক’, ভারতের নাগাল্যান্ডের ‘হর্নবিল ফেস্টিভ্যাল’ এবং ক্রোয়েশিয়ার ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’ উল্লেখযোগ্য।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-৩ দেখতে যাচ্ছি। সিলেট অঞ্চলের অসংখ্য বৈচিত্র্যকে আমরা এক মঞ্চে তুলে ধরতে পেরেছি, যা আমাদের জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এ উৎসবে সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করেছেন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে, আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে এ উৎসব আয়োজন করা হবে।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, সৌহার্দ্য ও ধৈর্য আমাদের এই আয়োজনকে সফল ও অর্থবহ করেছে। হারমোনি ফেস্টিভ্যালের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্য এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎসবের সাজসজ্জা ও পরিবেশনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে আরও নান্দনিক, বর্ণিল ও ঐতিহ্যনির্ভর আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পোশাক, সংস্কৃতি ও জীবনধারা সবার সামনে তুলে ধরা হবে।’

সালেহা বিনতে সিরাজ জানান, হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ মূলত ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে তা বর্ষাকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-৩’ আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।

তিন দিনের এ আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল সংস্কৃতি সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। সংশ্লিষ্টদের আশা, হারমোনি ফেস্টিভ্যাল ভবিষ্যতেও দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালিয়াকৈরে পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারীসহ আহত ২০

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
কালিয়াকৈরে পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারীসহ আহত ২০
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কুয়ারচালা, বারেক মার্কেট এলাকায় একটি পাগলা শিয়াল হঠাৎ করে এসে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে লোকজনকে কামড়িয়ে আহত করে। পাগলা ওই শিয়ালটি এলাকায় এখনো বিচরণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর সদর হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। 

এলাবাসী সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার কুয়ারচালা মার্কেট এলাকায় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি পাগলা শিয়াল দৌড়ে এসে ওই এলাকার হালিমা আক্তারের ঘরে গিয়ে তাকে প্রথমে কামড়িয়ে আহত করে। পরে পাগলা ওই শিয়ালটি একে একে ওই গ্রামের হাসান মিয়া, শাওন, মোরশেদা, বিলকিস, টিপু মিয়াসহ অন্তত ২০ জনকে কামড়িয়ে আহত করে।

এসময় গ্রামের লোকজনের ডাকচিৎকার শুরু করলে শিয়ালটি এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে। এদিকে গ্রামের ভেতর পাগলা শিয়াল ঢুকে এভাবে লোকজনকে কামড়িয়ে আহত করার ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত হাসান মিয়া বলেন, আমি আমার দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ করে একটি শিয়াল দৌড়ে এসে আমাকে কামড়িয়ে চলে যায়।

আহত আরেকজন মোরশেদা আক্তার বলেন, আমি ঘরের ভেতর ফ্রিজ খুলছিলাম। এ সময় একটি শিয়াল ঘরে ঢুকে আমাকে কামড়িয়ে হাতের মাংস ছিড়ে নিয়ে যায়।

এলাকার বাসিন্দা জামিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি পাগলা শিয়াল গ্রামের ভেতর প্রবেশ করে অন্তত ২০ জনকে কামড়িয়ে আহত করেছে। এ ছাড়া শিয়ালটি গ্রামের ভেতর এখনো দৌড়াদৌড়ি করায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি শামীম আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।