kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

প্রতিকূলতা পেরিয়ে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতার’ সম্মাননা পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিফতাহুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৮ মার্চ, ২০২১ ২১:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিকূলতা পেরিয়ে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতার’ সম্মাননা পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিফতাহুল

বগুড়ার মেয়ে মিফতাহুল জান্নাত এ বছর শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা অর্জন করেছেন। এই সন্মাননা পাবার পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সম্মাননা পাওয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জান্নাত একটা ভালো চাকরির সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মিফতাহুল জান্নাত ১৯৯৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার পশ্চিমপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিফতাহুল জান্নাত ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি ৫ বছর বয়সে গাজীপুরের এক ছাত্রীনিবাসে ভর্তি হন। এরপর জয়দেবপুর জকী স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেন। সালনা নাসির উদ্দীন মেমোরিয়াল হাই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভাল ফলাফল করা সত্ত্বেও মেধা তালিকায় তাকে সবার শেষে স্থান দেওয়া হত। এতে করে তার পড়াশোনার স্বাভাবিক উদ্যম হারিয়ে যেতে থাকে। ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরিবারের সকলের প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ছোট বোনের অনুপ্রেরণায় একাদশ শ্রেণিতে বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে ভর্তি হন। অনুরূপভাবে ২০১৪ সালে শ্রুতিলেখকের সহায়তায় এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

জান্নাত জানান, এইচএসসির পর থেকেই শুরু হয় তার জীবনের আরেক নতুন সংগ্রাম। তার স্বপ্ন ছিল দেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু তার পরিবার পড়াশুনার ব্যয়ভার বহনে অস্বীকৃতি জানায়। এমতাবস্থায়, তার ছোট বোনের সহায়তায় ঋণ নিয়ে ২০১৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও দুইবেলা, কখনও একবেলা আবার কখনও চিড়ে খেয়ে এক বছর কাটিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিবন্ধীদের সংগঠনের সভাপতির সুপারিশে ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে ১০০০ টাকা পেয়ে ১ম বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তী এক বছর থেকে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি পান। তিনি সম্মিলন ফাইন্ডেশনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই এর প্রুফ রিডার হিসেবে চাকরি নেন। উপার্জিত অর্থ দিয়ে অতি কষ্টে লেখাপড়া চালিয়ে প্রথম বিভাগে বিএসএস পাস করেন এবং এমএসএস-এ ভর্তি হন।

বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আজ সফল জয়িতা। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মিফতাহুল জান্নাতকে ‘‘জয়িতা পদক ২০২১’’ এ ভূষিত করা হয়। 

এমন খুশির দিনে নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তার এখন নতুন চিন্তার। কেননা প্রতিযোগিতার এসময় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে শেষ পযন্ত ভালো চাকরি পাওয়া নিয়েও তার শঙ্কাও আছে। তাই পদকের প্রাপ্তীর আনন্দের অনুভূতি জানাতে গিয়ে চাকরি প্রাপ্তির জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। 

জান্নাতের ব্যাপারে জানতে চাইলে তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের একজন কথাসাহিত্যিক রিপন আহসান ঋতু বলেন, আমি বিশ্বাস করি মিফতাহুল জান্নাতের শ্রেষ্ঠ জয়িতা হওয়ার এই অর্জন এদেশের প্রতিবন্ধীদের আইকন হিসেবে আগামী দিনের আলোর দিশারী হয়ে হতাশাগ্রস্ত মানুষদের আলোর পথ দেখাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা