kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

উল্লাপাড়া থানার ওসির বিরুদ্ধে হয়রানি ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৫:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উল্লাপাড়া থানার ওসির বিরুদ্ধে হয়রানি ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) দীপক কুমার দাসের নির্দেশে থানায় না আসায় এই উপজেলার বেতবাড়ী গ্রামের মানুষদের পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সাত মাস ধরে প্রায় প্রতি রাতেই পুলিশি ধরপাকড়ের ভয়ে গ্রামটি অনেকটা পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বেতবাড়ী গ্রামের মানুষ এই পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওসি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পঞ্চক্রাশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক বেতবাড়ী গ্রামের হবিবর রহমান হবি অভিযোগ করে জানান, ৮ মাস পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের হাতাহাতি হয়। ওই রাতেই ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হবিবর রহমানকে ওসি এবং এসআই দুপক্ষের লোকজনকে নিয়ে থানায় হাজির হতে নির্দেশ দেয়। একে তো বর্ষা আর রাত গভীর হওয়ায় সে রাতে কাজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করে হবিবর। আর এতেই ক্ষুব্ধ হন ওসি।

এরপর থেকেই ওসি দীপক কুমার দাস প্রতি রাতে পুলিশি অভিযানের নামে পুরো গ্রামটিতে অভিযান চালান। নিরীহ লোকজনকে ধরে থানায় নিয়ে যান। আবার টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ গ্রামের কারো নামেই থানায় কোনো মামলা নেই। রাত হলেই পুলিশি অভিযানের নামে হানা দিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর আর নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যার কারণে রাত হলেই পুলিশি আতংকে এখন গ্রামটি প্রায় পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে। তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন।

বেতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সাইফুদ্দিন (৭০) জানান, ওসি নিজে তার পুলিশ বাহিনী নিয়ে প্রতিরাতে হানা দেয়। এ সময় গ্রামের মানুষ ভয়ে পালাতে থাকে। রাতের অন্ধকারে পালাতে গিয়ে অনেকে আহতও হয়েছেন। আমি বৃদ্ধ হলেও আমাকে দৌড়ে পালাতে হয়েছে কয়েকবার। তিনি পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতি রাতে পুলিশের অভিযানের ভয়ে আমরা বাড়িতে থাকতে পারি না। এতে এক দিকে লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিক পরিবার থাকছে দুঃশ্চিন্তায়। আর যাকে ধরতে পারছে তাকে টাকার বিনিময়ে ছাড়াতে হচ্ছে।

একই গ্রামের মৃত রশিদ সরকারর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, স্বামী মারা গেছে দুই যুগ আগে। এক ছোট নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে থাকি। প্রতিদিন পুলিশের অত্যাচারে জীবন অতিষ্ঠ। বাড়িঘর ভাঙচুর, টাকা-পয়সা লুটসহ মারধর করে পুলিশ। কি কারণে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে তাও বলে না।

গ্রামের মজনু রহমানের ছেলে মুরগী খামারি নিজামুল হক জানায়, প্রায় প্রতি রাতেই পুলিশি অভিযান চলছে। যাকে পাচ্ছে তাকেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমার বাবাকে ফোন করে থানার এক দারোগা টাকা চেয়েছে। নইলে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারে দেবে বলে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। আমরা এখন চরম অশান্তির মধ্যে আছি।

সকল অভিযাগ অস্বীকার করে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস বলেন, বেতবাড়ী গ্রামের কারো বিরুদ্ধে মামলা নেই। অযথা কোনো পুলিশি অভিযান চালানো হয়নি। আমি কোনো গ্রেপ্তার বাণিজ্যও করিনি। এ সকল অভিযাগ মিথ্যা আমার নামে কুৎসা রটানো হচ্ছে।

উল্লাপাড়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাসুদ হাসান বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি জানেন না বা কেউ কোনো অভিযাগও দেয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযাগ কেউ    দেননি। ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছু জানিও না। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি সিরাজগঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় কোনো গ্রেপ্তার বাণিজ্য হবে না। কেউ করলে সহ্য করা হবে না। বেতবাড়ী গ্রামের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ও একজন সিনিয়র অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। এর সত্যতার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা