kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল

'নৌকার প্রার্থীকে ভোট না দিলে কেন্দ্রে আসার দরকার নাই'

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'নৌকার প্রার্থীকে ভোট না দিলে কেন্দ্রে আসার দরকার নাই'

সাজেদুর রহমান শাহীন

তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী মোমিনুল হক শিলুকে ভোট না দিলে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার দরকার নেই বলে হুমকি দিয়েছেন বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি সাজেদুর রহমান শাহীন। এজন্য তিনি নেতা-কর্মীদের ভাগ হয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনেরও ‘নির্দেশ’ দিয়ে বলেছেন, ধানের শীষ নিয়ে যে কথা বলবে তাঁকে মার দিতে হবে।

কর্মী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ায় এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় গাবতলী উপজেলার দাড়াইল বাজারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রাথীর প্রচারণা ক্যাম্প উদ্বোধন করতে গিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তার সেই বক্তব্যের ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাজেদুর রহমান শাহীন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি দাড়াইল বাজারের আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন ক্যাম্পে গিয়ে এই কথা বলেন। কারণ হিসেবে বলেন, 'নির্বাচনে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি এসব কথা বলেছেন।'

এদিকে ঘটনার পর গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ভিডিওর সিডিসহ আজ মঙ্গলবার রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রওনক জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়র প্রার্থী মোমিনুল হকের নির্বাচনী সভায় তাঁর পক্ষে একজন নেতার ভোটারদের হুমকি দিয়ে বক্তব্যের সিডিসহ লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে নৌকার প্রার্থীসহ বক্তব্যদাতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।

২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সাজেদুর রহমান শাহীন বলেন, 'আপনারা প্রত্যেকটা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের আনে (এনে) সেন্টার ভাগ করে দিবেন। সেখানে একজনকে কমান্ডার ব্যানা (বানিয়ে) দিবেন। সেই কমান্ডারের নেতৃত্ব চলবে, সেখানে শিলুক (নৌকার প্রার্থীর ডাক নাম শিলু) ভোট দিলে সেই লোক আসবে, শিলুক ভোট না দিলে তাঁর আসার দরকার নাই।' এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘ঠিক ঠিক’ বলে সমস্বরে চিৎকার করেন। এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঘরের লোক ঘরতই থাক।’

এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, 'কথাটা যেহেতু ঘরের ভিতর, সবাই আমার কর্মী, কর্মীদের এই কথাটা ম্যাসেজ দিলাম। এটা করবেন আপনারা?’ 

এ সময় নেতা-কর্মীরা সমম্বরে 'হ্যা' ও 'অবশ্যই' বলে উত্তর দিলে সাজেদুর প্রশ্ন করেন, 'এখন কী মার খাওয়ার সময় আছে?' নেতা-কর্মীরা 'না' বলে জবাব দিলে তিনি বলেন, ‘মার দেওয়ার সময় আছে। আমরা মারব ধানের শীষের মার্কা লিয়্যা যে কথা বলবে, তাঁর ওপর গজব হবে। কথাটা বুঝাতে পারছি?’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এই নেতা আরো বলেন, যেভাবে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেছেন, সেভাবেই পৌরসভার মেয়রও করা হবে। তাঁরা মেয়রে দাঁড়িয়েছেন, মেয়র নেবেন। কথা একটাই। তারেক জিয়া এখানে দাঁড়াল, না খালেদা জিয়া দাঁড়াল, সেটা দেখার বিষয় না। নেতা-কর্মীরা যদি তাঁর নির্দেশমতো কাজ করতে পারেন তাহলে মেয়র হবে। না হলে এই গাবতলীতে কোনো প্রতিনিধি (আওয়ামী লীগ থেকে) হওয়ার সুযোগ নেই।

বক্তব্যের বিষয়ে সাজেদুর রহমান বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার কর্মীদের চাঙা রাখতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এটা নিজেদের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে রাজনৈতিক কৌশলগত বক্তব্য। নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া সভার এই বক্তব্যের ভিডিও তাঁদেরই কোনো কর্মী সমর্থক ছড়িয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির ওই বক্তব্যের পর ধানের শীষের কর্মীদের নৌকার কর্মীরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, প্রচারণায় বাধাও দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররাও শঙ্কিত।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিএনপির প্রার্থীসহ পাঁচজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা