kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর শরীরে সিগারেটের সেঁক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

৩১ অক্টোবর, ২০২০ ২২:০৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর শরীরে সিগারেটের সেঁক

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পূর্ব বিলাশপুর গ্রামে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর (২৫) গায়ে সিগারেটের সেঁক দিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী হুমায়ুনের (২৮) বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের বাবা মোহাম্মদ আলী শনিবার দুর্গাপুর থানায় হুমায়ুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, জেলার দুর্গাপুরের পূর্ব বিলাসপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে হুমায়ুনের সাথে একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মুর্শিদা খাতুনের সাথে প্রায় সাত বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৯০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বিয়ের কিছুদিন পর বাবার বাড়ি থেকে আরো যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য মুর্শিদা খাতুনের ওপর চাপ দিতে থাকে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন। 

এক বছর আগে সন্তানসহ মুর্শিদা খাতুনকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে কাজ করার জন্য মুর্শিদা খাতুন ঢাকায় চলে যান। ঢাকা থেকে এরই মধ্যে বাড়ি ফিরলে তার কাছে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন এক লাখ টাকা দাবি করে। গত ২০ অক্টোবর মুর্শিদাকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য খবর পাঠানো হয়। খবর পেয়ে মুর্শিদা স্বামীর বাড়ি যান। এ সময় টাকা দেওয়ার জন্য ফের চাপ সৃষ্টি করে। টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করায় ওইদিন সকালে হুমায়ুন ও তার পরিবারের লোকজন মুর্শিদার ওপর নির্যাতন শুরু করে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের সেঁক দেয় এবং মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলে নির্যাতনকারীরা।

মুর্শিদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায় স্বামী হুমায়ুন। মুর্শিদা ছটপট করতে থাকলে বাড়ির লোকজন তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। 

মুর্শিদা খাতুনের বাবা মোহাম্মদ আলী এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতে হুমায়ুন, তার বাবা ছিদ্দিক মিয়া, মা ফাতেমা বেগম, আত্মীয় সাইফুলের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর এ আলম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা