kalerkantho

সোমবার । ৩ কার্তিক ১৪২৭। ১৯ অক্টোবর ২০২০। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অবাধে পাখি নিধন আর প্রকাশ্যে বিক্রি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:০৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অবাধে পাখি নিধন আর প্রকাশ্যে বিক্রি

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের হলুদঘর মহল্লায় বৃহৎ তেঁতুলগাছে বর্ষা মৌসুমে আশ্রয় নেয় বক, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ বেশ কিছু প্রজাতির পাখি। শীত মৌসুম এলে এসব পাখি চলে যায় অন্যত্র। এমন ধারাবাহিকতায় এ বছরও ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করে এসব পাখি। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে হলুদঘর মহল্লা। কিন্তু গাছসংলগ্ন বাড়ির মালিক সাদ্দাম হোসেন ও ইলিয়াছ আলী  কয়েক বছর ধরে কৌশলে এসব পাখি নিধন করে পাড়া-মহল্লায় প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করে মহল্লাবাসী।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এ আইনের কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না।

ওই মহল্লার বেশ ক'জন যুবক জানান, এরা ক্ষমতাসীন হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যায় না। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় তারা বৃষ্টি নামার সময় বেশ কিছু পানকৌড়ি গাছ থেকে নামিয়ে ওই মহল্লায় প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন। এ সময় তারা বাধা দিলে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি তারা স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশকে অবগত করেন। পাখি শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ হলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ নেয় না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানতে চাইলে পাখি নিধনকারী সাদ্দাম হোসেন ও ইলিয়াছ আলী বলেন, গাছে প্রচুর পাখি এসে বসে। এতে সব সময় কিচিরমিচির লেগেই থাকে। পাখির নড়াচড়ায় গাছের ছোট মরা ডালগুলো ও মল পড়ে বাড়ির চালের টিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পাখিগুলো ধরে বিক্রি করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিন জানান, বন্য প্রাণী আইনে পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা