kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বন্যার পর পাকা রাস্তা হয়ে গেল কাঁচা

বন্যায় গ্রামীণ জনপদের কাঁচা-পাকা সড়কে ব্যাপক ক্ষতি

রোকনুজ্জামান মানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্যার পর পাকা রাস্তা হয়ে গেল কাঁচা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিন দফা ভয়াবহ বন্যায় গ্রামীণ জনপদের কাঁচা-পাকা সড়ক, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন ব্রিজ-কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এসব রাস্তা-ঘাট খানা-খন্দে পরিণত হওয়ায় চরম দুভোর্গের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন। আবার কোথাও রাস্তা বিধ্বস্ত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চলাচলের অনুপযোগী এসব সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-খাটো নানা দুর্ঘটনা। দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয় মানুষজনের।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, সম্প্রতি দীর্ঘ স্থায়ী বন্যায় এ উপজেলায় কাঁচা রাস্তা ২২ কিলোমিটার, পাকা রাস্তা ৪১ কিলোমিটার, ব্রিজ-কালভার্ট ৭টি ও নিমার্ণাধীন সড়ক প্রায় ৪ কিলোমিটার বন্যার পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। আর এসব রাস্তা-ঘাট সংস্কারের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি।

সূত্রটি আরো জানায়, এ উপজেলায় পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪১ কিলোমিটার। তার মধ্যে উলিপুর-ফকিরের হাট সড়ক ৫ কিলোমিটার। উলিপুর-অনন্তপুর সড়ক ৮ কিলোমিটার। উলিপুর জিসি সড়ক হতে চুনিয়ার পাড় পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার। উলিপুর-ধামশ্রেনী সড়ক ৩ কিলোমিটার। নাওড়া জিসি রোড বটের তল থেকে মলাতি পাড়া ১ কিলোমিটার। বুড়াবুড়ি-বেগমগঞ্জ ইসলামপুর ৩ কিলোমিটার। উলিপুর জিসি সড়ক থেকে থেতরাই পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার। খেয়ার চর ঘাট-বিওপি ক্যাম্প ১ কিলোমিটার। বেগমগঞ্জ ইউপি কার্যালয় হতে মোল্লার হাট ১ কিলোমিটার ও উলিপুর হতে থেতরাই বাকরের হাট ২ কিলোমিটার রাস্তায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। 

এছাড়াও কাঁচা রাস্তা, দোলন বাঁধ-বকসীগঞ্জ ঘাট ৩ কিলোমিটার। বুড়াবুড়ি-বেগমগঞ্জ ২ কিলোমিটার। সোনাপুর ব্রিজ হতে খেয়ারচর ঘাট ৩ কিলোমিটার। মোল্লার হাট-মোগলবাসা সীমানা ৬ কিলোমিটার। ইসলামপুর সাহেব আলীর বাড়ি থেকে বুড়াবুড়ি ঘাট ৬ কিলোমিটার। মোল্লার হাট থেকে বকসীপাড়া ২ কিলোমিটার রাস্তা পানির তোড়ে ক্ষত-বিক্ষত  হয়েছে ।

এদিকে, বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ৭ টি ব্রিজ-কালভার্ট ধসে গেছে। এতে করে প্রায় ১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যা কবলিত মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। এতে করে তাদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে। যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়েছে এসব পথে। পানির তীব্র স্রোতে একেকটি রাস্তায় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় পাকা রাস্তার ইট-খোয়া ভেসে গিয়ে কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে।

বুড়াবুড়ি গ্রামের স্কুল শিক্ষক আনসার আলী, রেজ্জাকুল ইসলাম, ফকিরমোহাম্মদ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম  বেগমগঞ্জ পোড়ার চর এলাকার শিক্ষার্থী নুর আলমসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এ এলাকার সবকটি রাস্তা বন্যার পানির তোড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। জরুরি রোগী কিংবা যানবাহন নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হয়। দ্রুত সড়কগুলো মেরামত করা না হলে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। 

উপজেলা প্রকৌশলী খায়রুল কবীর মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় এ উপজেলায় কাঁচ-পাকা সড়ক বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ব্রিজ-কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে আমরা ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছি। বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথেই যতদ্রুত সম্ভব সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা