• ই-পেপার

\'ওয়ান টাইম\' চায়ের কাপে ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

টঙ্গীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ১৪

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ১৪
ছবি : কালের কণ্ঠ

জিএমপির টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (১০ জুন) টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ এই তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানায় ৪ জন ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় ১০ জন গ্রেপ্তার হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ জানায়, রিমান্ড ফেরত একজন, মাদক মামলায় ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ২৫ গ্রাম হেরোইনসহ একজন, ওয়ারেন্টভুক্ত একজন এবং মাদকসেবী ৭ জন আসামিসহ সর্বমোট ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত ও মাদক মামলায় মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তারপূর্বক আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘একজন রিমান্ড ফেরতসহ গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

ফরিদপুরে বিপুল মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে বিপুল মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে দুই অভিযানে প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ২০ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। বুধবার (১০ জুন) গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান। 

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মধুখালী উপজেলার বেল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৬) ও আমির হোসেন (২৪) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের থেকে উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর আগে সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে আরো সাড়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল (২৭) ও রাশেদুল ইসলাম (২৬) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার উত্তর মিলনপুর এলাকায়।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চারজনই একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, মাগুরা ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ করে আসছিলেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বিভিন্ন মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযানের কারণে বড় বড় চালান জব্দ হচ্ছে।

র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, ‘মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এটি যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। মাদক নির্মূলে র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার চালু
সংগৃহীত ছবি

সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ২৩ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা মোট ৩ জন। তার মধ্যে সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১ জন এবং হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন রয়েছে।

ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশিদ মুনির বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন ভবনে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। এতে ২০টি শয্যা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে কোনো রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’

কেন্দুয়া

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সি কেনার হিড়িক

আসাদুল করিম মামুন, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সি কেনার হিড়িক
ছবি : কালের কণ্ঠ

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। পর্দা উঠছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। নিজের দেশের অংশগ্রহণ না থাকলেও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের এ নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই। সমর্থকদের মধ্যে হিড়িক পড়েছে পছন্দের দলের জার্সি কেনার। পিছিয়ে নেই নেত্রকোনার কেন্দুয়ার ফুটবলপ্রেমীরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  বিশ্বকাপ ঘিরে কেন্দুয়ায় বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের জার্সি। উপজেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানগুলোতে এখন ভীষণ ভিড়। বিভিন্ন এলাকায় দুই দলের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করছে নানা আয়োজন। শেষ মুহূর্তে কোনো কোনো এলাকায় আনন্দ  শোডাউন ও মিছিলও করছে তারা।

সরেজমিন উপজেলার মধ্যবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন তারা। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের সমর্থকরা জার্সি কেনার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন। চায়ের কাপে ঝড় তোলা ছাড়াও পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে এখন ফুটবল নিয়ে তুমুল আলোচনা।

গোলাপ নামের এক পোশাক ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য জার্সি বিক্রি বেড়েছে। তবে দাম একটু বেশি। বিভিন্ন মানের জার্সি বিক্রি হচ্ছে। ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া জার্সিতে প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম লেখাতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

বেচাকেনা নিয়ে আরেক ব্যবসায়ী রইছ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগেই বিক্রি ভালো ছিল। অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি-পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিল ও আর্জন্টিনার পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, খেলা শুরু হলে বিক্রি বাড়বে আশা করি। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে নেইমারের ভক্ত। তাই ব্রাজিলের জার্সি কিনেছি। জার্সিতে ওর নামও লিখে দেব।’ 

আরেক শিক্ষার্থী  রাকিব বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জার্সি কিনি। এবার মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তাই বিশেষভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি।’

জার্সি কিনতে আসা গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে-মেয়ে ব্রাজিলের ভক্ত। ওদের জন্য জার্সি কিনেছি। বিশ্বকাপ ঘিরে বাসায়ও আলাদা একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’

অন্যদিকে দোকানে ব্যানার তৈরি করাতে আসা ব্রাজিল সমর্থক শফিক ও জাকির বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় ১০০ জন মিলে টাকা তুলে বিশাল ব্যানার তৈরি করিয়েছি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রিয় দলকে শুভেচ্ছা জানাতেই এই আয়োজন। 

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক গোলাপ ও আয়েশ জানান, তারা বন্ধুরা মিলে জমানো টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির ছবিসহ বড় ব্যানার তৈরি করাচ্ছেন।

ডিজিটাল সাইন ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ী পাপ্পু জানান, নির্বাচন বা ঈদ মৌসুমের মতোই এখন তাদের ব্যবসা চাঙ্গা। প্রতিদিন শত শত তরুণ কম্পিউটারের পাশে বসে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন করে ব্যানার তৈরি করছেন। কাজের চাপ এতই বেশি যে, ব্যবসায়ীদের সারা দিনের পাশাপাশি রাত জেগেও প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে।

ব্রাজিল সমর্থক সাবেক ফুটবলার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটবল মানেই ব্রাজিল, ব্রাজিল মানে ফুটবল’—এই কথাটা সবারই মানতে হবে। ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য দেখে মূলত আমি ব্রাজিল দল সমর্থন করি। বর্তমানে কেন্দুয়ার পরিবেশটা পুরোপুরি উৎসবমুখর। শহরজুড়ে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সব খেলোয়াড়ই ভালো ফর্মে রয়েছে। আমরা আশাবাদী, ব্রাজিল এবার চ্যাম্পিয়ন হবে।

আর্জেন্টিনা সমর্থক আয়েশ উদ্দিন বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে আমার প্রত্যাশা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবগাথার পুনরাবৃত্তি ঘটবে ২০২৬ সালেও। আমার বিশ্বাস, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ট্রফি উঠবে আর্জেন্টিনার হাতে।

এদিকে, ফুটবলভক্তদের এই উন্মাদনায় কৌতুলী সাধারণ মানুষও। তারা বলছে, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। বর্ণাঢ্য শোডাউন, জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আরো নানা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান দুই দলের সমর্থকরা। 

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের ইমন বলেন, ফুটবল একটি ক্রেজ সৃষ্টিকারী খেলা। বাংলাদেশের ফুটবলে জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। সেইসঙ্গে দুই বিশ্ব ফেভারিট দল ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার রেকর্ড ভক্ত রয়েছে এই দেশে। কেন্দুয়ার চিত্র আরো বৃহৎ। এই উন্মদনা অত্যন্ত সুখকর। এর মাধ্যমের যুবসমাজের মাঝে সুস্থধারা তৈরি হয়। দুই দলের পাল্টাপাল্টি যে শোডাউনসহ অন্যান্য কর্মসূচি, তাতে উপজেলাজুড়ে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মাঠে বল গড়ানোর আগেই দেশে শুরু হয়ে গেছে মাঠের বাইরের ফুটবল উন্মাদনা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উন্মাদনা যেন শুধু খেলাই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বিশ্ব ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠ আসর।

\'ওয়ান টাইম\' চায়ের কাপে ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ | কালের কণ্ঠ