লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আড়াই বছর আগে অপহরণ মামলার পর থেকে দফায় দফায় হামলা ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার মান্দারী বাজারের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন এসব অভিযোগ করেন। এ সময় ঘটনার প্রতিকার ও বিচার দাবি জানান তিনি।
ইকবাল মান্দারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের জগার বাপের বাড়ির মো. মহসিনের ছেলে। তিনি পেশায় ঠিকাদার ও ঢাকায় থাই গ্লাসের ব্যবসায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল জানান, ২০২৪ সালে তিনি বাড়ি নির্মাণের সময় স্থানীয় একটি ‘সন্ত্রাসী’ বাহিনী চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় একই বছরের ৩১ জানুয়ারি তাকে মোহনের নেতৃত্বে কৌশলে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন উদয় সাধুরহাট এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তাকে জুয়েলের নেতৃত্বে আটক ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এতে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ ও নগদ এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন। ওই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে নির্জন স্থানে হাত-পা বেঁধে রেখে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় সুধারাম থানায় মামলা করেন ইকবাল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. অহিদ মুরাদ ওই বছরের ১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এতে জুয়েলকে প্রধান করে মোহন, ইউসুফ, মমিন উল্যাহ, সজিব ও ফাহাদের নামে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযুক্তরা হলেন– মান্দারি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর ও মোহন এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুয়েল।
এদিকে একই বাহিনীর সদস্যরা গত ৭ জুন ইকবালের ছোট ভাই শাকিলকে অপহরণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন তার ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় তার বাবা মহসিন বাদী হয়ে জুয়েল, রাফি, রাকিব, মনির, ইসমাইল, জাহাঙ্গীর, রাজুসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫-২০ জনের নামে চন্দ্রগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা করায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাসেল নামে ওই চক্রের এক সদস্য ইকবালের বাবা মহসিনকে কৌশলে বাড়ি থেকে জেলা শহরের স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকিয়ে জাহাঙ্গীর, মনির ও রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোক তাকে নির্যাতন করেন। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ডও নিয়ে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ মহসিনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় মহসিন।
সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা তুলে না নেওয়ায় বারবার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক আমি এবং আমার পরিবার অপহরণ, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের ক্ষতির চেষ্টা করে আসছে। এতে পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর, জুয়েল ও মোহনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বলেন, ‘মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে স্টেডিয়াম এলাকায় নির্যাতনের অভিযোগ পাই। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিই। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’