• ই-পেপার

সহপাঠীদের সাথে ঘুরতে এসে ধর্ষণের শিকার দুই কলেজছাত্রী

হাটহাজারীতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যসহ গ্রেপ্তার ২

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হাটহাজারীতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যসহ গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

হাটহাজারীতে প্রায় ৪১ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্যসহ আলমগীর হোসেন (৪২) ও সেলিম (৩৪) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ। এছাড়া পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার ওয়ালটন শো-রুম এর সামনে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক রুপন নাথের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১ হাজার ২৩৮ পিস অবৈধ শাড়ি ও ২৪৬ থ্রি-পিস এবং পরিবহন কাজে ব্যবহৃত মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ ভারতীয় পণ্যের মূল্য প্রায় ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা। 

এ ঘটনায় মডেল থানার এএসআই মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার নাজমুল হাসান।
 

ফটিকছড়ি

স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক বাঁকের ঝোপঝাড় পরিষ্কার

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক বাঁকের ঝোপঝাড় পরিষ্কার
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার করছেন রবিউল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্যস্ত সড়ক দিয়ে দিন-রাত যানবাহন চলে। দুই পাশে কোথাও  বাড়িঘরের সীমানাপ্রাচীর, কোথাও ঝোপঝাড়। ঝোপঝাড়ের কারণে দেখা যেত না সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সাংকেতিক চিহ্ন বা রোড সাইন। এতে দূর থেকে চালকরা মোড় দেখতে না পেয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতেন।

যানবাহনের চালক ও পথচারীদের এই ভোগান্তি দূর করতে এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির যুবক রবিউল হোসেন। স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের পাশের বিপজ্জনক ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে চলেছেন তিনি। সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউলের এই উদ্যোগ এখন পুরো উপজেলাজুড়ে প্রশংসিত।

রবিবার সরেজমিন সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখার সময় স্থানীয়রা জানায়, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি-রামগড় সড়ক এবং ফটিকছড়ি-বারৈয়ারঢালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝোপঝাড় ছিল। সড়ক দুটির বাঁকগুলো মারণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। বড় বড় ঘাস, লতাপাতায় ঢেকে গিয়েছিল সড়কের গুরুত্বপূর্ণ রোড সাইনগুলো।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকির বিষয় ভেবে নিজের উদ্যোগেই দা-কাঁচি নিয়ে সড়কে নেমে পড়েন রবিউল। শুরু করেন সড়ক পরিষ্কারের কাজে। সড়কের আঁকাবাঁকা মোড়গুলোর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা দূর করেন। তার এই কাজের ফলে এখন চালকরা দূর থেকেই সড়কের বাঁক ও সাংকেতিক চিহ্নগুলো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়েছে।

স্থানীয় অটোরিকশাচালক নূরুল আলম বলেন, ‘সড়কের  মোড়গুলোতে আগে কিছু দেখা যেত না। অনেক সময় উল্টো দিক থেকে গাড়ি চলে এলোও ঝোপের কারণে বোঝা যেত না। রবিউল মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য সেই ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার করছেন। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করা যাবে না।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারের সন্তান, সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝি। প্রায়ই দেখতাম এই ঝোপঝাড়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। সাইনবোর্ডগুলো ঢাকা পড়ে থাকায় বাইরের চালকরা মোড় বুঝতে পারেন না। তাই নিজের বিবেকের তাড়নায় স্বেচ্ছায় এসব পরিষ্কার করছি। মানুষ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলে, এটাই আমার বড় পাওয়া।’

সেন্টমার্টিনে ৬ হাজার কুকুরের রাজত্ব

রহমত উল্লাহ, উখিয়া (কক্সবাজার)
সেন্টমার্টিনে ৬ হাজার কুকুরের রাজত্ব
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সেন্টমার্টিনে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত, আতঙ্কে দ্বীপবাসী দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এখন বেওয়ারিশ কুকুরের বাড়তি উপদ্রবে ভুগছে। ছোট্ট এই দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ও ভোরে সৈকত এলাকায় চলাচলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছৈয়দ আলমের দাবি, প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটিতে বর্তমানে আনুমানিক ছয় হাজার বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন বন্ধ ও কর্মসংস্থানের সংকটে বর্ষাকালে দ্বীপবাসীর জীবন এমনিতেই কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ক্ষুধার্ত কুকুরগুলো সৈকতে ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রাণীর ওপরও আক্রমণ করছে। তিনি আরো বলেন, সকাল কিংবা রাতে বিচ এলাকায় গেলে অনেক সময় স্থানীয় মানুষকে কুকুরের আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে।

ততত

দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। মানুষের পাশাপাশি খাদ্য সংকটে পড়েছে বেওয়ারিশ প্রাণীগুলোও। তবে স্থানীয় মানুষের খাদ্য সংকট থাকলেও ‘সম্মিলিত প্রাণী রক্ষা পরিষদ’ ও ‘ফাইন্ডিং হোপ’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়মিত কুকুরদের খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলুল ইসলাম বলেন, পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপের মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। একই সঙ্গে কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর জীবনেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক কুকুর দ্বীপজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর কারণে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, খাবারের অভাবে অনেক কুকুর মারা যাচ্ছে। সৈকত এলাকায় ক্ষুধার্ত কুকুরকে মৃত কুকুরের দেহ খেতেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, দ্বীপবাসীর জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ ও প্রাণী—উভয়ই সংকটের মধ্যে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক বলেন, কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দ্রুত বংশবিস্তার। একটি মাদী কুকুর বছরে একাধিকবার বাচ্চা দিতে পারে। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সেন্টমার্টিনের অধিকারকর্মী তৈয়ব উল্লাহ বলেন, দ্বীপে মানুষের পাশাপাশি কয়েক হাজার বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। এসব কুকুরের কারণে স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, কুকুরের কারণে যাতে মানুষের কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে প্রেমিক নিহত, আটক ২

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে প্রেমিক নিহত, আটক ২
সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকা নাইমা জাহানের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে পৌর এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাইমাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের বড় ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রেমিকা নাইমা জাহান ও নিহতের বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে আটক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আরিফ হোছাইন।

স্থানীয় সূত্রে ও অভিযুক্ত নাইমা জাহান জানান, মোবাইলে যোগাযোগের সূত্র ধরে সিয়ামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা ঢাকায় আবাসিক হোটেলে কয়েকবার রাত্রীযাপন করেন। সম্প্রতি নাইমার তিন মাসের গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করেন সিয়াম। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। এর মধ্যে তাকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেন সিয়াম। টাকা জোগাড় করতে না পারলেও তিনি রবিবার (২৮ জুন) রাতে লক্ষ্মীপুরে সিয়ামের পুরনো বাড়িতে আসেন। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান রাত্রীযাপন করেন।

আজ ভোরে সিয়াম নাইমাকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু আরিয়ান। সিয়ামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে নাইমা ও আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সামছুল আরেফিন বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আরিফ হোছাইন জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত নাঈমা জাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সহপাঠীদের সাথে ঘুরতে এসে ধর্ষণের শিকার দুই কলেজছাত্রী | কালের কণ্ঠ